কপালের ডান দিকে/অথবা ডান চোঁখের ভুড়ুর উপর ব্যাথা হয়। এটা কি আসলে সাইনাসের কারনে হচ্ছে নাকি ? বিঃ দ্রঃ আমার ছোট বেলা থেকেই সাইনাসের সমস্যা আছে । সকালে ঘুম থেকে উঠার পর এই সমস্যা বেশি হয়-এটা থামানোর জন্য প্রতিদিন সকালে ১টা টাফনিল, ১টা নাপা, ও ১টা মাইগ্রেন খেতে হয় । এই তিনটা ওষুধ খাবার ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর মাথা ব্যাথা কমে যায় । কিন্তু আমি এটা থেকে চিরতরে মুক্তি পাচ্ছি না আমি যদি ভাল ডাক্তার দেখাতে চাই কিসের ডাক্তার দেখাব, নাক কান গলা, না চোঁখের, না মেডিসিন ?
5309 views

1 Answers

সাইনুসাইটিস রোগটির সাথে আমারা অনেকেই কমবেশী পরিচিত। এটি একটি সাধরন রোগ। শতকরা পঁচিশ ভাগ মানুষ এই রোগে ভুগে থাকেন। তবে সাধারন রোগ হলেও যাদের এই রোগ হয়েছে তারাই বোঝেন এর যে কি অসহ্য যন্ত্রনা। আমাদের মুখমন্ডল ও মস্তিস্কের হড়গুলোকে হালকা রাখার সুবিধার্থে নাকের চারপাশে বাতাসপূর্ণ এক ধরনের বায়ুকুঠুরি আছে মেডিকেল সাইন্সে যাদেরকে বলে সাইনাস। সাইনুসাইটিস হলো উক্ত সাইনাস সমূহের ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন। আমাদের নাসারন্ধে লক্ষ লক্ষ ব্যাকটেরিয়ার রয়েছে, তবে যতক্ষন পর্যন্ত সাইনাসের ড্রেনেজগুলো খোলা থাকে বেশিরভাগ সময়েই এগুলো খুব একটা ক্ষতি করতে পারেনা। কিন্তু যখনই সাইনাসের ড্রেনেজগুলো বন্ধ হয়ে যায় ব্যাকটেরিয়াগুলো তখন সক্রিয় হয়ে উঠে এবং ইনফেকশন সৃষ্টি করে। ব্যাকটেরিয়া এখানে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে উঠে এবং মাথা ও নাকের চারপাশে মুখে প্রদাহ সৃষ্টি করে। মূলত এই রোগটির নামই সাইনুসাইটিস। সাধারনত ব্যাক্টেরিয়াজনিত কারনে সাইনুসাইটিস হলেও অনেক সময় নাকে আঘাত পাওয়া, এলার্জি, ঠান্ডা লাগা, ধুলাবালি, নাকের হাড় বাকা হয়ে যাওয়া, নাকে টিউমার হওয়া ইত্যাদি নানাবিধ কারনে এ রোগ দেখা দিতে পারে। নাকের আশেপাশে অনবরত ব্যথা হওয়া, সকালে ঘুম থেকে উঠার পর মাথা ব্যথা করা ও সবসময় নাক বন্ধ থাকা এর প্রধান লক্ষন। এছাড়া নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়া, সর্বক্ষন মাথা ভার ভার মনে হওয়া, খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বুঝতে না পারা, বিমর্ষতা, অস্থিরতা এবং অনীহা জাগা, মাঝে মাঝে জ্বর আসা ও শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা এ সবই সাইনাসের ইনফেকশন বা সাইনুসাইটিসের লক্ষন। সাইনাসের সমস্যা দেখা দিলে প্রাথমিক অবস্থায়ই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে। তাতে খুব সহজেই এ রোগটিকে নিয়ন্ত্রনে রাখা যাবে। কোন অবস্থাতেই রোগটিকে দীর্ঘমেয়াদী হতে দেয়া যাবেনা। সেজন্য ঘন ঘন ঠান্ডা লাগানো থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি ধুলাবালি থেকে দুরে থাকুন। সেই সাথে নাকে বাষ্পের ভাপ নিতে পারেন, পুষ্টিকর ও ভিটামিনযুক্ত খাবার গ্রহন করুন এবং অবশ্যই পরিমিত বিশ্রাম নিন। ব্যথার জন্য মৃদু ব্যথানাশক ওষুধ খেতে পারেন। ক্রনিক সাইনুসাইটিস হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে। ওষুধের মাধ্যমে ভালো না হলে, ওয়াশের মাধ্যমে সাইনাস পরিষ্কার করতে পারেন। এটি একটি উত্তম চিকিৎসা যদিও অনেকে মনে করেন একবার সাইনাস ওয়াশ করলে নিয়ম করে কিছুদিন পর পর এটা চালিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এ ধারনাটি মোটেও সঠিক নয়। বরং ওয়াশের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন পরিষ্কার করে সঠিক নিয়মে ঔষধ খেলে এ রোগ সম্পূর্ণরুপে ভালো হয়ে যায়। এত কিছুর পরও যদি এ রোগ না সারে বা ঘন ঘন হয় তাহলে এন্ডোসকোপিক সাইনাস সার্জারি করে নিতে পারেন। আজকাল সাইনুসাইটিসের আধুনিক চিকিৎসা হিসেবে এন্ডোসকোপ ও মনিটর দেখে সাইনাসের খুটিনাটি সব ধরনের সার্জারি করা হয়ে থাকে। এতে খুব বেশী কাটা-ছেঁড়া করতে হয় না বিধায় ভয়ের কোন কারণ নেই। আর রোগটিও একবারে সেরে যায়। উন্নত বিশ্বের পাশাপাশি আমাদের দেশেও আজকাল নামি-দামী হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত এ সার্জারি হচ্ছে।

5309 views

Related Questions