1 Answers

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিভিন্ন শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে এভিয়েশন শিল্প অন্যতম। সুতরাং এই খাতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সংখ্যক ইঞ্জিনিয়ারের প্রয়োজন পড়ছে প্রতিনিয়ত। এই পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার সঙ্গে সামাজিক মর্যাদা, খ্যাতিও বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। আশার কথা  বর্তমানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এই বিষয়ে বেশ ভালো করছে।

কেন এই পেশা বেছে নেবেন

উড়োজাহাজের যাত্রী এবং পাইলটদের জীবন এবং তাদের নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছানোর অনেক কিছুই নির্ভর করে অ্যারোনটিক্যাল  ইঞ্জিনিয়ারের ওপর। কেননা সে যদি কোনো ভুল তথ্য দিয়ে থাকে তবে উড়োজাহাজের যাত্রী এবং পাইলটদের জীবন দুরূহ হয়ে পড়ে। বোঝায় যাচ্ছে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের  সঠিক তথ্য নিরাপদ পথ নির্দেশনা দিতে পারে অসংখ্য যাত্রীর। তাছাড়া অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের চাহিদা এতই বেশি যে, পাস করার আগেই শিক্ষার্থীদের চাকরি হয়ে যায়।

অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার

অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে এয়ার ক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার। অন্য নামেও এই পেশাকে অভিহিত করা হয়। যেমন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার, উড়োজাহাজ প্রকৌশলী ইত্যাদি। অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে (এএমই )  লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি উড়োজাহাজের বা  অ্যারোপ্লেনের সব ধরনের মান নিশ্চিত করে। বিশেষ করে অ্যারোপ্লেন আকাশে ওড়ার আগে এর সব সিস্টেম ঠিক আছে কি-না সে সম্পর্কে পাইলটদের সব ধরনের তথ্য দিয়ে থাকেন। আমাদের দেশে এ বিষয়টি অনেকের জন্য নতুন মনে হতে পারে। কিন্তু এএমই লাইসেন্স অর্জনে এটি নতুন কোনো বিষয় নয়।

ভর্তি যোগ্যতা 

এসএসসি বা এইচএসসি, এ-লেভেল বা ও-লেভেল সম্পন্নকারীরা এই কোর্সটি করতে পারবেন। চার বছরে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করা যায়। সেক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি বা সমমান।

যেসব বিষয় পড়ানো হয়

প্রতিষ্ঠান ও কোর্সভেদে উড়োজাহাজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের পাঠ্য বিষয়ের কিছুটা তারতম্য হয়। তবে এ কোর্সের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হচ্ছে

  • থিওরি অব ফ্লাইট(Theory of Flight),
  • এয়ারক্রাফট বেসিক ইলেকট্রিসিটি(Aircraft Basic Electricity),
  • অ্যারো ডায়নামিকস(Aero Dynamics),
  • এয়ারক্রাফট হার্ডওয়্যার অ্যান্ড ম্যাটারিয়ালস(Aircraft Hardware and Materials),
  • অ্যারো ইঞ্জিন কনস্ট্রাকশন(Aero Constructions),
  • এয়ারক্রাফট ফুয়েল অ্যান্ড লুব্রিকেন্টস সিস্টেম(Aircraft Fuel and Lubricant System),
  • ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস(Digital Electronics),
  • এয়ার ক্রাফট ল্যান্ডিং গিয়ার(Aircraft Lagging Gear), স্ট্রাকচারাল রিপেয়ার(Structural Repair),
  • এয়ারক্রাফট গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং অ্যান্ড সেফটি সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট(Aircraft Ground Handling and Safety Support Equipment),
  • ফ্লুইড মেকানিকস(Fluid Mechanics),
  • অ্যাভিয়েশন সেফটি(Aviation Safety),
  • এয়ারক্রাফট কম্পোজিট ম্যাটারিয়াল(Aircraft Composite Material),
  • এয়ারক্রাফট সিস্টেম প্রিন্সিপাল(Aircraft System Principle)।

এই শিক্ষার বিভিন্ন ধাপ

প্রথম ১৮ মাস পর পায় আন্তর্জাতিক ধারার সার্টিফিকেট লেভেল থ্রি বা এনডি। এরপর ১৮ মাসের লেভেল ফাইভ বা এইচএনডি। এরপর ফাইনাল ইয়ার বা চতুর্থ বছর পায় টপআপ বিবিএ বা বিএসসি। এরপর শুধু বাংলাদেশেই নয়, পুরো বিশ্বের এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে তার ভাগ্যের দুয়ার খুলে যায়।

দেশের ভেতরে পড়তে

  • ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি (এনআইইটি)

মেয়াদ: চার বছর। মোট খরচ: দুই লাখ ৯৮ হাজার টাকা। যোগাযোগ: ২৯/১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা। ফোন: ৮১৮৯৬৩৭, ০১৯৭১২২০০৯৯।

  • অ্যারোনটিক্যাল কলেজ অব বাংলাদেশ (এসিবি)

মোট খরচ: চার লাখ ৮৩ হাজার টাকা। যোগাযোগ: বাড়ি-৩৮, রোড-২০, সেক্টর-১১, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা। ফোন: ৮৯৯১২৪০, ০১১২৯৩৪০৬৩৬।

  • ইউনাইটেড কলেজ অব অ্যাভিয়েশন সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (ইউসিএএসএম) 

মেয়াদ: চার বছর। যোগ্যতা: বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস। মোট খরচ: পাঁচ লাখ টাকা। যোগাযোগ: বাড়ি-১৬, রোড-৪, সেক্টর-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা। ফোন: ৭৯১১৮৩১, ০১৭৪৯৩০৬০৯০।

  • কলেজ অব অ্যাভিয়েশন টেকনোলজি

মেয়াদ: চার বছর। যোগ্যতা: বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস। মোট খরচ: পাঁচ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। যোগাযোগ: বাড়ি-১৪, রোড-২, সেক্টর-১১, উত্তরা, ঢাকা। ফোন: ০১৭১৭৭১৯৬৩৩, ০১৯৩৭১৮২৪৭০।

দেশের বাইরে পড়তে

ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, আয়ারল্যান্ডসহ উন্নত বিশ্বে পড়ার আছে। মোট কথা এ বিষয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায় বিশ্বের যে কোনো দেশে।

দেখে নিন

অ্যাভিয়েশন অথরিটি, কারিগরি বোর্ড কিংবা এডেক্সেলের অনুমতি নিয়ে কার্যক্রম চালায়। তাই ভর্তির আগে ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে নিন। আর গড়ে তুলুন সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার।

চাকরির ক্ষেত্র

কুয়েত এয়ারওয়েজ, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস এয়ারলাইন্স এসব এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিগুলো প্রতিনিয়ত ভারত, বাংলাদেশ, ফিলিপাইন ও চীন থেকে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে যাচ্ছে ।

বেতন

কর্মক্ষেত্রে সম্মানীও আকাশ ছোঁয়া। যেমন এএমই লাইসেন্স প্রাপ্তির পর নতুন অবস্থায় বেতন হয় ২,০০,০০০ টাকা যা ক্রমে বাড়তে থাকে এবং অন্যান্য সুযোগ তো আছেই।

3078 views

Related Questions