1 Answers
পেশা হিসেবে নার্সিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এর পেছনে অবশ্য যথেষ্ঠ কারণও রয়েছে। বর্তমান বাজারে যে কয়েকটি বিষয় নিয়ে পড়ালেখা করলে পড়ালেখা শেষে কাজের পর্যাপ্ত ক্ষেত্র নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, তার মধ্যে নার্সিং অন্যতম।
কেন পড়বেন নার্সিং-এ
এটি এমন একটি পেশা, যার চাহিদা স্থান, কাল, পাত্রে সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে বিবেচনা করলে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে দেশে হাসপাতালসহ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়গনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। চিকিত্সা সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট এসব প্রতিষ্ঠানে নার্স বা সেবিকাদের চাহিদাও দিনদিন বেড়ে চলেছে।
মানবসেবা করা ছাড়াও ভালো ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা রয়েছে। এক কথায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্ভাবনাময় খাত ।
দেশে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, সমাজসেবা অধিদফতর, এনজিও এমনকি পর্যটন করপোরেশনেও ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে।
বিদেশে কাজ করতে চাইলে বিএসসি পাস করে সিজিএফএনএস বা কমিশন অন গ্র্যাজুয়েটস অব ফরেইন নার্সিং স্কুলসের পরীক্ষায় পাস করে কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে এই পেশায় কাজ করার সুবিধা রয়েছে
আয়
সরকারি হাসপাতালগুলোতে একজন নার্স শুরুতেই ২০ হাজার টাকা বেতন পেতে পারেন। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে এর পরিমাণ কমবেশি হতে পারে। তা ছাড়া দেশের বাইরেও নার্সদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
পদোন্নতি
নার্সিংয়ে পদোন্নতি দুই ধরনের হতে পারে। একটি হচ্ছে প্রশাসনিক খাতে এবং অন্যটি শিক্ষা খাতে। পাস করার পর একজন নার্স প্রশাসনিক খাতে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে যোগদান করেন। পরে নার্সিং সুপারভাইজার, ডেপুটি নার্সিং সুপারভাইজার, নার্সিং সুপার, সহকারী পরিচালক পদে পদোন্নতি হয়।
আবার শিক্ষা খাতে প্রথমে নার্সিং ইনস্ট্রাকটর পদে যোগদান করে তারপর লেকচারার, ভাইস প্রিন্সিপাল, প্রিন্সিপাল, শিক্ষা উপপরিচালক ও পরিচালক পদে পদোন্নতি হতে পারে।
ভর্তির যোগ্যতা
বিএসসি ইন নার্সিংয়ে ভর্তি হতে চাইলে প্রার্থীকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক এবং সমমানের পরীক্ষার প্রতিটিতে ন্যূনতম জিপিএ ২.৫০ করে পেতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগে পড়ুয়াদের জন্য অগ্রাধিকার হলেও মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ভর্তি হতে পারে এই বিভাগে। ভর্তি সাধারণত জিপিএ'র ভিত্তিতেই নেওয়া হয়। এইচএসসি'র ফলাফল বের হওয়ার পরপরই ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়।
খরচ
ভর্তির সার্বিক খরচ বাবদ তিন থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লাগে। তবে গরিব ও মেধাবীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ রয়েছে।
পড়বেন কোথায়
ঢাকা নার্সিং কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।
ময়মনসিংহ নার্সিং কলেজ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ।
রাজশাহী নার্সিং কলেজ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী।
চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম।
রংপুর নার্সিং কলেজ, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর।
সিলেট নার্সিং কলেজ, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট।
বরিশাল নার্সিং কলেজ, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।
নার্সিং পেশার সম্ভাবনার দিক বিবেচনা করেই এখন অনেক প্রতিষ্ঠানই নার্সিংয়ে পড়ালেখার সুযোগ করে দেওয়ার কথা জানাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স নং LXI-1983 অনুযায়ী কাউন্সিল এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোনো প্রতিষ্ঠান নার্সিং বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, ভর্তি করা, সনদপত্র প্রদান ইত্যাদি কাজ করতে পারবে না। কাজেই কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগেই জেনে নিতে হবে তার সঠিক অনুমোদন রয়েছে কি না।