2 Answers

Md Ariful Islam
বিএসসি(সিএসই), এমবিএ(মার্কেটিং)
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার Bissoy.com 3333

যেকোন ধরনের ঠাণ্ডাজনিত অসুখে মধু অতুলনীয়। পেনসিলভেনিয়া স্টেট কলেজের এক পরীক্ষায় দেখা গেছে বাজারে যত ঔষুধ পাওয়া যায় তার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এক চামচ মধু। মধুতে ভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষমতা বেশি। তাই যেকোন ধরণের ভাইরাসজনিত রোগে মধু ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া মধু হজমে সাহায্য করে। পেটরোগা মানুষদের জন্য মধু বিশেষ উপকারী। কারণ এর রয়েছে জীবাণু বিরোধী গুণাবলী। মধুতে চিনির পরিমাণ অত্যধিক বলে সাধারণ কোন প্রকার রোগ-জীবাণু জন্মাতে পারে না। তাছাড়া মধুর অম্লতাও জীবাণু বিরোধী কাজের জন্য দায়ী। ডায়রিয়ার জীবাণুগুলোর বিরুদ্ধে মধু দারুণ কার্যকর। এক কাপ গরম পানিতে পরিমাণমত মধু মিশিনো চা হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। মধু হৃদপিন্ডকে শক্তিশালী করে। নিয়মিত ১ চা চামচ মধু সেবনে হৃদপিন্ড শক্তিশালী থাকে। ডায়াবেটিকসের চিকিৎসায় মধু একটি অতুলনীয় ওষুধ। চিনি এবং অন্যান্য মিষ্টি দ্রব্য পরিত্যাগ করে নিয়মিত অন্তত ১ চা চামচ মধু সেবন করা যায়। এতে ডায়াবেটিক রোগীরা বেশ উপকার পাবেন। প্রতিদিন সকালে ও রাতে ১ চা চামচ মধুর সাথে ছোট ১ চামচ চিনি গরম পানিতে মিশিয়ে খেলে দীর্ঘদিনের আর্থ্রাইটিস রোগে উপকার পাওয়া যায়। চুলের খুশকির সমস্যায় লেবুর রসে মধু মিশ্রিত করে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করতে হবে। এভাবে ২০-৩০ মিনিট ম্যাসাজ করার পর শ্যাম্পু দ্বারা চুল পরিষ্কার করতে হবে। ৫-৭ দিন নিয়মিত এ ম্যাসাজ করলে খুশকি থেকে মুক্তি পেতে পারেন।মধুতে যদিও চিনি থাকে, কিন্তু এতে ভিটামিন ও মিনারেল থাকার কারণে এটি সাধারণ চিনির মত ওজন না বাড়িয়ে, কমায়।কারণ সাধারণ চিনি হজম করতে আমাদের শরীর নিজের থেকে ভিটামিন ও মিনারেল খরচ করে, ফলে এই সব পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হয়| এই সব উপাদান ফ্যাট ও কোলেস্টেরল কমাতে বা ভাঙ্গতে সাহায্য করে। ফলে যখন আমরা বেশি চিনি খাই, তখন অধিক ক্যালরি শরীরে জমা ছাড়াও এইসব পুষ্টি উপাদানের চিনি হজম করতে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় এই সব পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হয়।তাই ওজন বাড়তে পারে। কিন্তু মধুতে এসব উপাদান থাকার ফলে এগুলো হজমে সহায়ক এবং ফ্যাট ও কোলেস্টেরল কমায় । তাই এই পানীয় ওজন কমায়। মধু গলার স্বর সুন্দর করে। শরীরের ক্ষত দ্রুত সারায়। কণ্ঠনালী পরিষ্কার করে। যারা আবৃতি করেন তাদের প্রতিদিন মধু খেলে বেশ উপকার পাবেন। এছাড়া ঠান্ডা, জ্বর, গলা ব্যাথায় ভালো ওষুধ হিসাবে কাজ করে। মধু ত্বকের রং ও ত্বক সুন্দর করে। ত্বকের ভাজ পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে। বুদ্ধিবৃত্তি বাড়ায়। শরীরের সামগ্রিক শক্তি বাড়ায় ও তারুণ্য বাড়ায়।

7090 views Answered

১. মুখের প্রদাহ

মুখ ও গলার যেকোন প্রদাহে মধু বেশ ভালো কাজ দেয়। ঔষধি শাস্ত্রে সেই পুরাতন আমল থেকে নানারকম গাছ-গাছড়ার সাথে মুখের ব্যাকটেরিয়ার দূর করার জন্যে মধুর ব্যবহার অনেক প্রচলিত। এতে করে কাশি, গলা জ্বালাপোড়াসহ আরো নানা সমস্যার সমাধান করা যায়।

২. জ্বর

মধুর সাথে খানিকটা লেবুর রসের মিশ্রন জ্বর প্রতিরোধে অনেকটা সাহায্য করে। শুধু জ্বর ছাড়া ঠান্ডাজনিত যেকোন কাজে এটি বেশ ভালো উপকার দেয়।

৩. শক্তি

দারুচিনি আর মধুর মিশ্রন শরীরের পক্ষে বেশ ভালো। এটি কেবল শরীরের বাড়তি শক্তিরই যোগান দেয়না, হাইপারটেনশন আর কার্ডিয়োভ্যাসকুলার রোগেরও প্রতিকার করে খুব সহজেই।

৪. পেটের প্রদাহ

আদা পেটের নানারকম ব্যাধি, যেমন- কোষ্ঠকাঠিন্যের পক্ষে বেশ উপকারী। তবে এর সাথে খানিকটা মধুর মিশ্রন আদার প্রভাবকে আরো খানিকটা বাড়িয়ে তোলে। পেটের যেকোন সমস্যার ক্ষেত্রে তখন প্রচন্ড শক্তিশালী এক ঔষধ হয়ে দাড়ায় এটি।

৫. ইনফেকশন প্রতিরোধে

লবঙ্গ নানারকম রোগের প্রতিষেধক হিসেবে পরিচিত। এর ভেতরে থাকে ইউজিনল নামক একটি উপাদান যা কিনা মধুর সাথে মিশ্রিত হলে শরীরের এন্টিসেপটিকের মতন কাজ করে এবং সব ধরনের ইনফেকশন থেকে শরীরকে বাচিয়ে দেয়।

৬. এসিডিটি প্রতিরোধে

মধুর সাথে আপেলের সিডার ভিনেগারের মিশ্রণ ঘটালে যে জিনিসটি পাওয়া যায় সেটা পেটের নানারকম গোলমাল সারিয়ে তোলে। খাবার হজমে সাহায্য করে। এছাড়াএসিডিটির ক্ষেত্রেও বেশ ভালো ঔষধ হিসেবে কাজ করে মিশ্রনটি।

৭. ত্বকের সাহায্যকারী

দুধের ভেতরে থাকে ভিটামিন এ। যেটা কিনা ফাঁটা ত্বককে ঠিকঠাক করে তুলতে সাহায্য করে। কমলালেবুর ভেতরে রয়েছে ত্বকের ময়লা অংশটিকে সরিয়ে নেবার ক্ষমতা। আর এই দুটোর সাথে যদি মধু মিশিয়ে দেওয়া হয় তাহলে এটি শুষ্ক ত্বককেও অনেকটা সারিয়ে তুলতে পারে। কেবল শুষ্ক ত্বকই নয়, শরীরের রুক্ষ আর ফাটা অংশগুলোকেও সারিয়ে তোলে এটি। এছাড়াও মধু আর চিনির মিশ্রনও শুষ্ক ত্বককে সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

৮. কোষ্ঠকাঠিন্য

নারিকেল তেল আর পানির অন্যতম গুন হচ্ছে শুষ্ক জিনিসকে সারিয়ে তোলা। আর মধুর সাথে এর মিশ্রণটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে শরীরের নানারকম ব্যাথা সারিয়ে দেয়। এছাড়াও শরীরে বাড়তি শক্তি নিয়ে আসে মিশ্রণটি।

৯. ওজন কমাতে

সম্প্রতি করা কিছু পুষ্টি বিজ্ঞানীদের গবেষনার ফলে এটা পাওয়া গিয়েছে যে লেবুর সাথে খানিকটা গরম পানি আর মধুর মিশ্রণ শরীরের ওজন কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

১০. ধুমপান প্রতিরোধে

গবেষনায় পাওয়া গিয়েছে যে খানিকটা আনারস আর এরপর খানিকটা মধু, এভাবে করে কিছুটা সময় খেলেই ধুমপায়ীদের সিগারেটের প্রতি যে আগ্রহ সেটা কিছু হলেও হ্রাস পায়। তাই বলা যায় যে ধুমপান কমাতেও মধু অনেকটা ভালো ভূমিকা রাখে।

এসবের পাশাপাশি মধুর সঠিক ব্যবহার ভালো রাখতে সাহায্য করে চুল আর ফুসফুসও।

তথ্যসূত্র- লাইফহ্যাকস

7090 views Answered

Related Questions

Next steps