প্রস্রাবের বেগ না থাকলেও চলাফেরার সময় খুব অল্প পরিমাণ প্রস্রাব বের হয়, এক ফোঁটারও কম। আমি কি মাজুর?

আমার প্রস্রাবের সমস্যা আছে। প্রস্রাবের বেগ না থাকলেও চলাফেরার সময় খুব অল্প পরিমাণ প্রস্রাব বের হয়, এক ফোঁটারও কম। না দেখলে টের পাওয়া যায়না। যে কোন সময়ই কুলুখ করিনা কেন টিস্যু হাল্কা ভিজে যায়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে: ১. যেহেতু ঘরের বাইরে থাকলে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের আগে পোশাক পরিবর্তন করা সম্ভব হয়না। সেক্ষেত্রে নামাজ পড়ব কিভাবে? ২. প্রতিদিন কাপড় ধোওয়া অনেক সময় সম্ভব না। সেক্ষেত্রে কি করবো? ৩. কি পরিমাণ প্রস্রাব লাগলে কাপড় নাপাক হয়? অতি সামান্য লাগলেই নাকি এক দিরহাম পরিমাণ লাগতে হবে? এক দিরহাম পরিমাণ মানে কতটুকু?
2999 views

1 Answers

আর আপনার রোগটা যদি এমন হয় যে সারাক্ষণই অল্প অল্প পরিমাণ বের হতে থাকে, এতটুকু সময় পাওয়া যায় না, যার মাঝে ফরজ নামাজটুকু আদায় করা যায়, তাহলে শরিয়তের পরিভাষায় আপনি মাজুরের অন্তর্ভুক্ত। এমন ব্যক্তি প্রতি ওয়াক্ত নামাজের জন্য নতুন করে অজু করবেন এবং এই অজু দিয়ে ফরজ বা নফল যত রাকাত নামাজ পড়তে চায় পড়তে পারবে, কোরআন স্পর্শ করতে পারবে। ওয়াক্তের মধ্যে প্রস্রাব নির্গত হতে থাকলেও কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু পরের নামাজের সময় হয়ে গেলেই অজুটি ভেঙে যাবে। আবার নতুন করে অজু করে নামাজ পড়তে হবে। এভাবে মাজুর ব্যক্তি নামাজ আদায় করবে। এ ক্ষেত্রে যদি সম্ভব হয় তাহলে পবিত্র কাপড় দিয়ে নামাজ আদায় করবেন। যদি সম্ভব না হয় তাহলে ওই কাপড়সহই নামাজ আদায় করবেন। -হাশিয়াতুত তাহতাবি আলা মারাকিল ফালাহ : ১৪৮-১৫১ তবে আন্ডারওয়্যার বা টিস্যু ব্যবহার করে নাপাকি ছড়িয়ে পড়াকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবেন। হাদিসে আছে, একবার ফাতিমা বিনতে আবু হুবায়শ (রা.) রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমার রক্তস্রাব হতেই থাকে এবং আমি কখনো পবিত্র হতে পারি না। আমি কি নামাজ ছেড়ে দেব? রাসুল (রা.) জবাব দিলেন, না, এটা এক ধরনের শিরাজনিত রোগ, এটা ঋতুস্রাবের রক্ত নয়। তুমি তোমার ঋতুস্রাবের মেয়াদকাল নামাজ থেকে বিরত থাকো, আর যখন তা বন্ধ হয়ে যাবে, তখন রক্ত ধুয়ে ফেলবে, তারপর নামাজ আদায় করবে। -সহীহ বুখারি, হাদিস : ২২৮

2999 views Answered

Related Questions

Next steps