2 Answers
-
'ফকির' শব্দের অর্থঃ
-
সংসারত্যাগী সাধুপুরুষ।
-
মরমি সাধক।
-
সন্ন্যাসী।
-
ভিক্ষুক।
-
পদবিবিশেষ।
-
নিঃস্ব।
-
সর্বহারা।
-
দরিদ্র।
-
মুসলমান সাধু।
-
অতি দরিদ্র ও নিঃস্ব ব্যক্তি।
-
লালন শাহকে 'লালন ফকির' বলার কারণঃ লালন শাহ কয়েকটি গানে নিজেকে 'লালন ফকির' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এর কারণ হতে পারেঃ
-
আমরা জানি, মুসলমান সাধু পুরুষকে ফকির বলে। লালনের গানে ধর্ম নিরপেক্ষতা প্রকাশ পেলেও হয়তো লালন মনে মনে নিজেকে মুসলমান ধর্মপরায়ণ হিসেবেই ভাবতেন, সেজন্য নিজেকে 'লালন ফকির' বলেছেন।
-
অথবা, হতে পারে লালন নিজেকে 'অতি দরিদ্র ও নিঃস্ব ব্যক্তি' মনে করতেন, সেজন্য নিজেকে 'লালন ফকির' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
-
অথবা, হতে পারে লালন নিজেকে মরমি সাধক তথা সমব্যথী, সহানুভূতিসম্পন্ন, দরদী, মর্ম উপলব্ধিকারী সাধক মনে করতেন, সেজন্য নিজেকে 'লালন ফকির' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
-
লালন ফকির কি মুসলমান ছিলেনঃ ধারণা করা যায়, তিনি মুসলমান ছিলেন। কারণঃ
-
'লালন শাহ' এই নামটির মধ্যে 'শাহ' কথাটি রয়েছে। যেহেতু মুসলমান সুলতানকে 'শাহ' বলে এবং 'শাহ' মুসলমান শিশুর নাম হয়ে থাকে, সেজন্য হতে পারে তিনি মুসলমান ছিলেন।
-
লালন শাহ নিজেকে 'লালন ফকির' হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। যেহেতু মুসলমান সাধুপুরুষকে 'ফকির' বলে, সেজন্য হতে পারে তিনি মুসলমান ছিলেন।
-
লালন শাহের জন্ম পরিচয় জানা না গেলেও এটা সবাই জানে, তিনি একটি মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন এবং সেখানে তার অভিভাবক মুসলমান ছিলেন। যেহেতু তিনি মুসলমানদের ছোঁয়ায় বা লালন-পালনে বড় হয়েছেন। হতে পারে, তিনি মুসলমান মা-বাবার সন্তান ছিলেন বিধায় আল্লাহ তাকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠার ব্যবস্থা করেছিলেন।
-
আমরা জানি, খ্রিস্টান হলে কফিনে আর হিন্দু হলে মারা যাওয়ার পর চিতায় পুড়ে ছাই করা হয়। কিন্তু তার ইচ্ছায় তার মৃত্যুর পর এর কোনোটিই করা হয় নি। যদিও তার ইচ্ছায় তার মৃত্যুর পর জানাযা হয়নি, তবুও তাকে তার ইচ্ছায় কবর খুড়ে দাফন করা হয়েছিল। মারা যাওয়ার পর কবর খুড়ে দাফন করা মুসলমানদের নিয়ম। এ থেকেও বলা যায়, তিনি মুসলমান ছিলেন।
-
মৃত্যুর পর তার মাজার হয়েছে। তার শিষ্যদেরকেও তার পাশে কবর খুড়ে দাফন করা হয়েছে। মাজার, কবর এগুলো মুসলমানদেরই সাবজেক্ট। এ থেকেও ধরে নেওয়া যায়, তিনি মুসলমান ছিলেন।
-
যদিও তিনি মানবধর্মের অনুসারী ছিলেন। কিন্তু মানবধর্মের আরেক নাম হলো ইসলাম। কারণ, ইসলাম শুধু মুসলমানদের কথা বলে নি, সমগ্র মানবজাতির কথা বলেছে। যেমনঃ ইসলাম বলেছে, "যে একজন মানুষকে হত্যা করলো, সে যেনো গোটা মানবজাতিকেই হত্যা করলো। আবার যে একজন মানুষকে বাঁচালো, সে যেনো গোটা মানবজাতিকেই বাঁচালো। (সূরাঃ আল-মায়েদা, আয়াতঃ ৩২)"। যেহেতু তিনি ইসলাম ধর্মের আরেক নাম মানবধর্মের অনুসারী ছিলেন, এ থেকেও বলা যায় তিনি মুসলমান ছিলেন।
-
তিনি তার জন্ম পরিচয় গোপন রাখার কারণ হতে পারে, তিনি কোনো কারণে তার কাছের মানুষদের দ্বারা মানসিক আঘাত পেয়েছিলেন। আর ধর্ম পরিচয় গোপন রাখার কারণ হতে পারে, তিনি চেয়েছিলেন সকল ধর্মের মানুষের কাছে তার গান ও জীবনী গ্রহণযোগ্যতা পাক। ভারতীয় উপমহাদেশে লালন শাহ বা লালন ফকিরকে সর্বপ্রথম 'মহাত্মা' উপাধি দেয়া হয়েছিল। ধন্যবাদ।
-
তথ্যসূত্রঃ
-
উইকিপিডিয়া।
-
মাসিক মোহাম্মদী।
- ব্যক্তিগত মতামত।
2641 views
Answered