উত্তরে রেফারেন্স আবশ্যক যদিও হয় তা ইজমা অথবা কিয়াস।
2699 views

1 Answers

যদি কেউ কুরবানীর চামড়া বিক্রি করে তবে তার পুরো মুল্য ছদকাহ করা ওয়াজিব।- ফাতাওয়া হিন্দীয়া ৫/৩০১ কুরবানীর পশুর চামড়ার মুল্য ছদকাহ করার নিয়তে বিক্রি করবে। নিজে খরচ করার নিয়তে বিক্রি করা জায়েয নেই। নিয়ত যা-ই করুক সর্বাবস্থায় ছদকাহ করা ওয়াজিব। -ফাতাওয়া হিন্দীয়া-৫/৩০১ সুতরাং-  ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কুরবানির চামড়া দান করা উত্তম। তবে কুরবানি দাতা যদি চামড়া ব্যবহার করতে চায়, তবে সে তা ব্যবহার করতে পারবে। তাতে কোনো নিষেধ নাই।আর যদি দান করতে চায় বা বিক্রি করে দেয়, তবে তা গরিব, ইয়াতিম, অসহায়দের দিতে হবে। কুরবানি দাতা নিজে চামড়ার মূল্য খরচ করতে পারবে না।যারা জাকাত, ফিতরা পাওয়ার উপযুক্ত তারাই কুরবানির চামড়ার অর্থ পাওয়ার হকদার। তবে এক্ষেত্রে ইয়াতিম, গরিব তালিবুল ইলম তথা ইলমে দ্বীনের গরিব শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া যাবে।তালিবুল ইলম তথা ইলমে দ্বীনের শিক্ষার্থী যদি ইয়াতিম বা গরিব হয় তবে তাকে জাকাত, ফিতরা ও কুরবানির চামড়ার মূল্য প্রদাণে অত্যাধিক ফজিলত রয়েছে। কুরবানীর চামড়া সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ তোমরা কুরবানির পশুর চামড়া দ্বারা উপকৃত হও; তবে বিক্রি করে দিও না। ’হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আমি যেন কুরবানির মজুরি বাবদ গোশত বা চামড়া থেকে কসাইকে কোনো কিছু প্রদান না করি। এ হাদিস থেকে বুঝা যায়, যে ব্যক্তি কুরবানি করবে, সে কুরবানির চামড়া বা গোশত বিক্রি করে তার মূল্য নিজের কাজেও লাগাতে পারবে না এবং চামড়া ও গোশত দিয়ে কসাই’র মজুরিও দিতে পারবে না।কুরবানির চামড়াকে চামড়ার আকারে রেখে প্রক্রিয়াজাত করে কুরবানি দাতা তা ব্যবহার করতে পারবে। ইচ্ছা করলে প্রিয়জনকে তা উপহার হিসেবেও দিতে পারবে; আবার ইচ্ছা করলে তা সাদকাও করতে পারবে।আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সকল কুরবানি দাতাকে চামড়ার বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ ইয়াতিম, গরিব, মিসকিন ও ইলমে দ্বীনের গরিব শিক্ষার্থীকে দান করার তাওফিক দান করুন। 

2699 views

Related Questions