অামরা সকলেই জানি যার জীবন অাছে তাকে একদিন মরতেই হবে। এটা অাল্লাহ তাঅালারেই এক বিধান। যাইহোক এমন অনেক সহি হাদিস যেখানে মৃর্ত্যু সম্পর্কে অালোচনা হয়েছে। সে অালোচনা থেকে বোঝা যায় মৃর্ত্যু অনেক ভয়ংকর এবং কষ্টদায়ক। অনেক নবী রাসুলগগণও তার প্রমান দিয়ে গেছে। অামরা এটাও জানি যে অাল্লাহতাঅালা অনেক দয়ালু। তবে তিনি তো ইচ্ছে করলেই মৃর্ত্যুর যন্ত্রনা কমিয়ে দিতে পারতেন। অন্তত যারা মুমিন বান্দা তাদেরকে তো কষ্ট না দিয়ে মৃর্ত্যু বরন করাতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটা করেন নি কেন?
2798 views

1 Answers

মৃত্যুর কষ্ট বড় কঠিন যা লেখে বা বলে শেষ করা যাবে না। মুমিন ব্যক্তি মৃত্যুর সময়ই জান্নাত ও ইজ্জতের সুসংবাদ পেয়ে যায়। এ সম্পর্কে মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, হাকেম, বায়হাকি নামক কিতাবসমূহে এসেছে।


‘হজরত বারা’ ইবনে আযেব (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইমানদার বান্দা যখন দুনিয়া হতে শেষ বিদায় নিয়ে আখেরাতের পথে যাত্রা শুরু করে তখন তার কাছে আসমান থেকে একদল ফেরেশতা আগমন করেন। তাদের চেহারাসমূহ এত উজ্জ্বল ও জ্যোতির্ময় যে, চেহারার ভিতর যেন দীপ্তিমান সূর্য ভাসছে। তাদের সঙ্গে আছে জান্নাত হতে আনীত কাফন ও খুশবু। তারা মুমিন ব্যক্তির সুদূর দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বসে যায়। অতঃপর মালাকুল মউত তার শিয়রে উপবেশন করে এবং তাকে বলে, হে নফছে মুতমাইন্নাহ, হে মাওলাপাগল রুহ! তুমি আল্লাহর হুকুম মেনে, আল্লাহর মর্জি অনুযায়ী জীবন কাটিয়েছ। এখন আল্লাহর ঘোষিত ক্ষমা ও তার পরম সন্তুষ্টির স্বাদ আস্বাদন করার জন্য বের হয়ে আস আর আল্লাহর দরবারে চল। রুহ তখন এত সহজে বের হয় যেভাবে কলসের ভিতর থেকে পানির ফোঁটা টপ করে নির্গত হয়; যদিও তোমরা বাহ্যত এর বিপরীত দেখে থাক। (কারণ, দৃশ্যত কোনো যাতনা ও উদ্বেগ পরিলক্ষিত হলেও এর সম্পর্ক দেহ পর্যন্ত্মই সীমাবদ্ধ থাকে। রুহ কিন্তু তখনো খুবই আরাম ও প্রশান্তিপ্রাপ্ত থাকে। ) ফেরেশতারা এভাবেই রুহ বের করে। বের করার পর পলক মাত্র কালের জন্যও তাকে মালাকুল মউতের হাতে ছেড়ে দেয় না। বরং তত্ক্ষণাৎ ওই জান্নাতি কাফন ও খুশবু দ্বারা আবৃত করে নেয়। তা থেকে দুনিয়ার অতীব সুগন্ধময় মেশক তীব্র সুগন্ধ ছড়াতে থাকে। অতঃপর তারা তাকে নিয়ে ঊর্ধ্ব জগতের দিকে যাত্রা শুরু করে। যখনই ফেরেশতাদের কোনো দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়, তারা জিজ্ঞেস করে যে, কে এই পবিত্র রুহ? কী তার পরিচয়? বহনকারী ফেরেশতারা দুনিয়াতে প্রসিদ্ধ উত্তম নামসমূহ বলে তার পরিচয় পেশ করে যে, ইনি অমুকের  সন্তান অমুক। এভাবে তাকে নিয়ে প্রথম আসমানে পৌঁছে। অনুরূপভাবে সব আসমান অতিক্রম করে যখন সপ্তম আসমানে পৌঁছানো হয়, আল্লাহপাক হুকুম জারি করেন যে, বান্দাটির নাম ‘ইল্লিয়্যিনে’ লিপিবদ্ধ কর এবং কবরের সওয়াল জওয়াবের জন্য তাকে পুনরায় জমিনে নিয়ে যাও। অতঃপর (বরজখের উপযোগী করে) রুহকে দেহে প্রবিষ্ট করানো হয়। (ওই সময় রুহ আগের মতো থাকে না যেভাবে দুনিয়াতে ছিল) এরপর তার কাছে দুজন ফেরেশতা এসে তাকে বসায় এবং প্রশ্ন করে যে, তোমার রব কে? তোমার দীন কী? সে উত্তর দেয়, আমার রব আল্লাহ এবং আমার দীন ও জীবন পদ্ধতি ইসলাম। তারা আবার প্রশ্ন করে, কে এই হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াসাল্লাম, যিনি তোমাদের প্রতি তোমাদেরই মাঝে প্রেরিত হয়েছিলেন? সে বলে, তিনি আল্লাহপাকের রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াসাল্লাম। আবার জিজ্ঞাসা করে, তুমি তা কীভাবে জানলে? সে উত্তর দেয়, আমি আল্লাহর কিতাব পবিত্র কোরআন পড়েছি, কোরআনের প্রতি ইমান এনেছি এবং কোরআনের সব বক্তব্য অকাট্য বলে গ্রহণ করেছি। এ সময় আসমান থেকে এক মহান ঘোষণাকারী (তথা স্বয়ং  আল্লাহপাকই) ঘোষণা করেন যে, ‘আমার বান্দা সত্য-সঠিক জবাব দিয়েছে। অতএব, তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতি পোশাক পরিয়ে দাও, তার শান্তির জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দাও। সঙ্গে সঙ্গে জান্নাতের বাতাস ও জান্নাতি খুশবু আসতে থাকবে। কবরকে তার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে।


2798 views

Related Questions