আমি একটা সেলুন দোকানে কাজ শিখছি আর দোকানের যে মালিক সে হিন্দু তা সে বেশিরভাগ দিনেই জেদ করে তার বাড়ির ভাত খাওয়ার জন্য কিন্তু আমি আমার এক আত্মীয় মাওলানার কাছে শুনেছি যে শাঁখের পানি নাকি হারাম তাই হিন্দু বাড়ির ভাত খাওয়া যাবে না । কিন্তু মাঝে মধ্যে দোকানে কাজের খুব চাপ হলে আমি বাধ্য হয়ে সেই ভাত খাই । কিন্তু আমি একটা জিনিস বুঝে পাইনা ইসলাম ধর্ম সর্বদা মানুষকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে তা সে যে ধর্মেরই হোকনা কেন , কিন্তু যখন সে ভালোবেসে ভাত খাওয়ার জন্য জেদ করছে তখন আমি যদি ধর্মে বারণ আছে বলে খাবনা বলি তাহলে এক ধরণের ধর্মবিদ্বেশীতার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে আর আমার মনে হয়না ইসলাম এমনটা চায়

তা এ সম্পর্কে ইসলাম সঠিক কি বলছে??

2615 views

1 Answers

হিন্দু বা বিধর্মীদের বাড়িতে তাদের তৈরি হালাল খাবার মুসলমানের জন্য খাওয়া জায়েয। হালাল খাবার মুসলমানের জন্য খাওয়া কখনোই হারাম হবেনা। তাই প্রয়োজনে হিন্দু বাড়িতে খানা খেতে পারবেন। তবে তাদের যবাইকৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন, কাজেই যে পশু যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে তা তোমরা খাও যদি তার নিদর্শনাবলীতে তোমরা বিশ্বাসী হয়ে থাক। (সূরা আনআমঃ ১১৮) সুতরাং তাদের বাড়িতে তাদের যবেহ করা প্রানীর গোসত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। আর ইসলাম ধর্ম সর্বদা মানুষকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে তা সে যে ধর্মেরই হোকনা কেন। অমুসলিমদের সাথে আচরণে ভদ্রতা ও সৌজন্য রক্ষা করার জন্যে ইসলাম উদার নির্দেশনা দেয়। তাই শরীয়তের সীমারেখায় থেকে সুন্দর আচরণের মাধ্যমে যেমন অমুসলিমদেরকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেয়ার ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়, তেমনি এ আচরণটুকুও অনেক সময় দাওয়াতের ভূমিকা পালন করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন মহানুভব আচরণে মুগ্ধ হয়েও তো অনেকেই ইসলাম কবুল করেছেন এবং পরবর্তীতেও সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে শুরু করে যারাই ইসলামের সুন্দর আচারগুলো নিজেদের মাঝে লালন করে গেছেন, তাদের আচরণই নীরবে অমুসলিমদেরকে ইসলামের দিকে আহবান জানিয়েছে। অনেক অমুসলিম এতে যথেষ্ট প্রভাবিত হয়েছে এবং আশ্রয় নিয়েছে ইসলামের শীতল ছায়ায়।

2615 views

Related Questions