জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ বলতে কি বুঝায়?

কেনো জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ হয়। এটা কি ক্ষতিকর? ক্ষতিকর হলে এর থেকে পরিত্রাণ এর উপায় কি?
2870 views

1 Answers

প্রশ্নকারী আমার উত্তর টি ভালো করে পড়ুন বুঝতে পারবেন।

গর্ভধারণের সঠিক স্থান হচ্ছে জরায়ু। এর বাইরে যে কোন স্থানে গর্ভধারণ হলে তাকে একটোপিক প্রেগনেন্সি বলা হয়।

মানবজীবনের সূচনা একটি ডিম্বানুর সাথে শুক্রানুর মিলনের মধ্য দিয়ে। নারী দেহের ফেলোপিয়ান টিউব বা ডিম্বনালীতে এই কার্য সম্পাদন হয়। এরপর ধীরে ধীরে এর কোষ বিভাজন হতে থাকে এবং জাইগোট টি প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে জরায়ুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এই অগ্রযাত্রা কোন কারণেব্যাহত হলে সঠিক স্থান না পেয়ে এটি ডিম্বনালীর মধ্যে বড় হতে থাকে। কিন্ত বাড়ন্ত ভ্রুণের জন্য ডিম্বনালীর প্রসারণক্ষমতা না থাকায় একসময় এটা ফেটে গিয়ে পেটের মধ্যে রক্তক্ষরণ হতে থাকে।

এটা অবশ্যই ক্ষতিকর হতে পারে যেমন   জরায়ু ছাড়া বা জরায়ুর বাহরে গর্ভবতী হলে অর্থাৎ  নালিতে (অন্যান্য স্থান যেমন : পেটের ভেতর, ডিম্বাশয়ের মধ্যে ইত্যাদি) গর্ভধারণ (যা একটোপিক প্রেগন্যান্সি নামে পরিচিত) হয়ে থাকে এবং অনেক সময় এটি ফেটে গিয়ে মায়ের জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। এ ক্ষেত্রে দ্রুত অপারেশন ছাড়া মাকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।

এসকল সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য   গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩৬ সপ্তাহে নূন্যতম প্রতি মাসে একবার এবং ৩৬ সপ্তাহের পর প্রতি সপ্তাহে একবার করে মাকে স্বাস্থ্যকর্মী বা গাইনি ডাক্তার দেখানো উচিত।


 পরামর্শ:-  প্রথমবার পিরিয়ড মিস হওয়ার পরে ইউরিনে প্রেগনেন্সি টেস্ট করে দেখতে হবে। যদি প্রেগনেন্সি এসে থাকে তাহলে আলট্রাসনোগ্রাফি করে ভ্রুণের অবস্থা দেখে নিতে হবে। একটোপিক প্রেগনেন্সি বোঝার সব থেকে ভালো উপায় হল লোয়ার আবডোমেনের আলট্রা সোনগ্রাফি।

সাধরণ প্রেগনেন্সিতে এইচসিজি হরমোনের মাত্রা দুদিনে দ্বিগুণ হয়। কিন্তু একটোপিক প্রেগনেন্সির ক্ষেত্রে এই হরমোনের মাত্রা বাড়তে বেশি সময় নেয়। ফলে রক্ত পরীক্ষায় এই হরমোন স্বাভাবিক মাত্রায় না বাড়লে অতি অবশ্যই সোনগ্রাফি করাতে হবে।

রোগ নির্ণয়ের পর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করাতে হবে, ঠিক কতদিন পর্যন্ত চিকিৎসা না করালেও চলবে তা বলা যায়না। রোগটির বিভিন্ন ধরণ ও মাত্রা রয়েছে, সে অনুযায়ী যে কোনো মুহুর্তেই মারাত্মক বিপত্তি ঘটে যেতে পারে

2870 views Answered

Next steps