রোযার মাসআলা জানতে চাই?
1 Answers
১। কোন মুসলিমের জন্য ওজর ছাড়া রমযানের রোযা ত্যাগ করা বৈধ নয়। যে ব্যক্তি শরিয়ত অনুমোদিত কোন ওজরের কারণে যেমন, অসুস্থ থাকা, সফরে থাকা, ঋতুগ্রস্ত হওয়ার কারনে রমযানের রোযা বাদ দিয়েছে কিংবা ভঙ্গ করেছে; যে রোযা গুলো সে ভেঙ্গেছে সে রোযা গুলোর কাযা পালন করা আলেমগণের ইজমার ভিত্তিতে তার উপর ফরয। অর্থাৎ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করে রমযানের রোযা বর্জন করেছে, সে দিনগুলোর রোযা কাযা পালন করা তার উপর ফরয। ২। রোযা রাখার জন্য সেহরি খাওয়া জরুরি নয় তবে সুন্নত। কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করে সেহরি না খায় এটা সুন্নত পরিপন্হী কাজ। যদিও সেদিন তার রোযা হয়ে যেত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে। (বুখারিঃ ১৯২৩) সুতরাং সেহরী না খেলে সুন্নাত আদায় হয় না; তবে রোযার কোন ক্ষতি হয় না। রোযা হয়ে যায়। (সহীহ বুখারীঃ ১৯২৩, উমদাতুল কারীঃ ১০/৩০০, রদ্দুল মুহতারঃ ২/৪১৯) ৩. আরেকজন ব্যক্তি বিশেষ একটা রোগের কারণে রোযা রাখতে পারে না, রোযা রাখলেই অসুস্থতা দেখা দেয়, মরার উপক্রম হয় এক্ষেত্রে। আল্লাহ তাআলা বলেন, সিয়াম নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য। তারপর তোমাদের মধ্যে যে পীড়িত কিংবা মুসাফির সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নিবে এবং শক্তিহীনদের ওপর কর্তব্য হচ্ছে ফিদ্ইয়া প্রদান করা, এটা একজন মিসকীনকে অন্নদান করা এবং যে ব্যক্তি নিজের খুশীতে সৎ কাজ করতে ইচ্ছুক, তার পক্ষে তা আরো উত্তম। আর সে অবস্থায় সিয়াম পালন করাই তোমাদের পক্ষে উত্তম, যদি তোমরা বুঝো। (সূরা বাকারাঃ ১৮৪) বাক্যে উল্লেখিত ‘রুগ্ন’ সে ব্যক্তিকে বুঝায়, সাওম রাখতে যার কঠিন কষ্ট হয় অথবা রোগ মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। রুগ্ন বা মুসাফির ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় বা সফরে যে কয়টি সাওম রাখতে পারবে না, সেগুলো অন্য সময় হিসাব করে কাযা করা ওয়াজিব। এতে বলা উদ্দেশ্য ছিল যে, রোগজনিত কারণে বা সফরের অসুবিধায় পতিত হয়ে যে কয়টি সাওম ছাড়তে হয়েছে, সে কয়টি সাওম অন্য সময়ে পূরণ করে নেয়া তাদের উপর ফরয। আয়াতের স্বাভাবিক অর্থ দাঁড়ায়, যেসব লোক রোগজনিত কারণে কিংবা সফরের দরুন নয়; বরং সাওম রাখার পূর্ণ সামর্থ থাকা সত্বেও সাওম রাখতে চায় না, তাদের জন্যও সাওম না রেখে সাওমের বদলায় ফিদইয়া দেয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সাথে সাথেই এতটুকু বলে দেয়া হয়েছে যে, সাওম রাখাই হবে তোমাদের জন্য কল্যাণকর। উপরোক্ত নির্দেশটি ছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগের, যখন লক্ষ্য ছিল ধীরে ধীরে লোকজনকে সাওমে অভ্যস্ত করে তোলা। এরপর বাকারার ৯৫ নাযিলকৃত আয়াতের দ্বারা প্রাথমিক এ নির্দেশ সুস্থ-সবল লোকদের ক্ষেত্রে রহিত করা হয়েছে। তবে যেসব লোক অতিরিক্ত বার্ধক্য জনিত কারণে সাওম রাখতে অপরাগ কিংবা দীর্ঘকাল রোগ ভোগের দরুন দূর্বল হয়ে পড়েছে, অথবা দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে একেবারেই নিরাশ হয়ে পড়েছে, সেসব লোকের বেলায় উপরোক্ত নির্দেশটি এখনো প্রযোজ্য রয়েছে। সাহাবী ও তাবেয়ীগণের সর্বসম্মত অভিমত তাই ৷