3 Answers
ইসলাম ধর্মমতে, ইবরাহীম (আঃ) মুসলিম জাতির পিতা। আল্লাহ তায়ালা সুরা হাজ্জ এর ৭৮ নাম্বার আয়াতে বলেনঃ এটাই তোমাদের পিতা ইবরাহীমের ধর্ম। তিনি পূর্বে তোমাদের নামকরণ করেছেন মুসলিম। অর্থাৎ উল্লিখিত নির্দেশাবলী তোমাদের জাতির পিতা ইবরাহীম (আঃ) এর ধর্মের অন্তর্ভুক্ত, যা সর্বদা বহাল ছিল। সুতরাং তোমরা তার মিল্লাত তথা ধর্মকে আঁকড়ে ধরে থাক। এখানে ইবরাহীম (আঃ) কে পিতা বলার কারণ হল, আরব জাতি ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশধর ছিল। সেই হিসেবে ইবরাহীম (আঃ) হলেন আরববাসীর পিতা আর অনারবরাও তাকে একজন উচ্চ সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে শ্রদ্ধা করত, যেমন পুত্র তার পিতাকে শ্রদ্ধা করে থাকে। সেই হিসেবে তিনি সকলের আদি পিতা ছিলেন। এছাড়াও ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) আরবী হওয়ার কারণে ইবরাহীম (আঃ) তারও পিতা ছিলেন। আর এ জন্য তিনি সকল উম্মাতে মুহাম্মাদীরও পিতা হলেন।
●মানবজাতির আদি পিতা: হযরত আদম (আ:)। ●মানবজাতির আদি মাতা: হযরত হাওয়া (আ:)। ●মানবজাতির দ্বিতীয় আদি পিতা: হযরত নূহ (আ:)। ●মানবজাতির দ্বিতীয় আদি মাতা: নেই। ●মুসলিম জাতির পিতা: হযরত আদম (আ:)। ●মুসলিম জাতির মাতা: হযরত হাওয়া (আ:)। ●মুসলমান জাতির পিতা: হযরত ইবরাহীম (আ:)। ●মুসলমান জাতির মাতা: হযরত হাজেরা (আ:)। ●মুমিন জাতির পিতা: হযরত মোহাম্মদ (সা:)। ●মুমিন জাতির মাতা: হযরত খাদিজা (রা:)-হযরত আয়েশা (রা:)। ●বাংলাদেশী জাতির পিতা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ●বাংলাদেশী জাতির মাতা: বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। ●বাঙ্গালী জাতির পিতা: বঙ্গপিতা শেখ মুজিবুর রহমান। ●বাঙ্গালী জাতির মাতা: বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা। ●ভারতীয় জাতির পিতা: মহাত্মা গান্ধী। ●পাকিস্তানী জাতির পিতা: মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ●আমেরিকান জাতির পিতা: জর্জ ওয়াশিংটন। পৃথিবীর শুরু থেকে এ পর্যন্ত বহু জাতি সৃষ্টি হয়েছে। তাই জাতির পিতাও বহু হবে, এটাই স্বাভাবিক। তাই কাউকে শুধু জাতির পিতা বা শুধু জাতির মাতা বলে বিতর্ক তৈরি না করে কোন জাতির পিতা বা কোন জাতির মাতা, সেটা উল্লেখ করে দিলে ভালো হয়। ধন্যবাদ।
কারণ হযরত আদম (আ:) মানবজাতির পিতা হলেও তার বংশধরদের অনেকে শিরকি ধর্মে ধর্মাবলম্বি। কিন্তু হযরত ইবরাহিম (আ:) এর বংশধর যারা তারা বর্তমানে আরব্য মুসলিম। বাকিটা আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন।