5 Answers
শিরক : রব ও ইলাহ হিসাবে আল্লাহর সহিত আর কাউকে শরীক সাব্যস্ত করার নামই শিরক ৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে উলুহিয়াত তথা ইলাহ হিসাবে আল্লাহর সাথে শরীক করা হয়৷ যেমন আল্লাহর সাথে অন্য কারো নিকট দোয়া করা কিংবা বিভিন্ন প্রকার ইবাদাত যেমন যবেহ, মান্নাত, ভয়, আশা, মহব্বত ইত্যাদির কোন কিছু গায়রুল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করা৷ এটা সবচেয়ে বড় গুনাহ।
শিরক সবচেয়ে বড় গোনাহ হিসাবে বিবেচিত :
১. এতে ‘ইলাহ’- এর গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যে খালেক তথা সৃষ্টিকর্তার সাথে মাখলুক তথা সৃষ্ট বস্তুর তুলনা করা হয়৷ কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করলো, সে প্রকারান্তরে তাকে আল্লাহর অনুরূপ ও সমকক্ষ বলে স্থির করলো৷ আল্লাহ বলেন,
إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ ﴿13﴾ سورة لقمان
‘নিশ্চয়ই আল্লাহর সাথে শরীক করা মহা অন্যায়৷’
জুলুম বলা হয় কোন বস্তুকে তার আসল জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় রাখা৷ সুতরাং যে গায়রুল্লাহর ইবাদত করে, সে মূলত: ইবাদাতকে তার আসল স্থানে না রেখে ইবাদাত পাওয়ার উপযুক্ত নয় এমন কারো উদ্দেশ্যে তা নিবেদন করে৷ আর এটা হল সবচেয়ে বড় জুলুম এবং অন্যায়৷
২. আল্লাহ তাআলা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে দিয়েছেন, শিরক করার পর যে ব্যক্তি তা থেকে তওবা করবেনা, তিনি তাকে ক্ষমা করবেন না৷ আল্ল্লাহ বলেন:
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا ﴿48﴾ سورة النساء
‘নিশ্চয়ই আল্লাহর তাঁর সাথে শরীক করার পাপ ক্ষমা করেন না৷ এতদ্ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ তিনি ক্ষমা করেন, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন৷ ‘
৩. আল্লাহ এও বলেনওয, তিনি মুশরিকদের জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন এবং তারা চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে অবস্থান করবে৷ তিনি বলেন
إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ ﴿72﴾ سورة المائدة
‘নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম৷ অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই৷’
৪. শিরক সকল আমরকে নষ্ট ও নিষ্ফল করে দেয়৷ আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿88﴾ سورة الأنعام
‘যদি তারা শিরক করত, তবে তাদের কাজকর্ম নিষ্ফল হয়ে যেত৷’
আল্লাহ আরো বলেন:
وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ ﴿65﴾ سورة الزمر
‘আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি ওহী প্রেরণ করা হয়েছে যদি আল্লাহর শরীক স্থির করেন, তবে আপনার কর্ম নিষ্ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবেন৷’
মহান আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সঙ্গে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না, এছাড়া অন্য সব যাকে ইচ্ছে মাফ করেন এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরীক করে, সে চরমভাবে গোমরাহীতে পতিত হল। (আন নিসাঃ ১১৬) শিরক সম্পর্কে সূরা বাকারা ও অত্র সূরার শুরুতে আলোচনা করা হয়েছে। যে প্রকার শিরকের গুনাহ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করবেন না তা হল শিরকে আকবার বা বড় শিরক। আকীদাহ ও ইবাদত সংক্রান্ত বিষয় আল্লাহ তাআলাকে ব্যতীত অন্য কারো জন্য সম্পাদন বা তাকে সমকক্ষ নির্ধারণ করাই শিরকে আকবার। তাওহীদ থাকলে ও নিয়মিত নামাজ পড়লে এবং গোনাহ থেকে তওবা না করে মারা গেলে কিয়ামতে সে মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন থাকবে। তিনি ইচ্ছা করলে তাওহীদের গুনে তাকে ক্ষমা করে বেহেশত দেবেন নতুবা চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে।
শির্ক প্রধানত দুপ্রকার- ১.শিরকে আকবর ২.শিরকে আছগর। শিরকে আকবরে লিপ্ত ব্যক্তিদেরকে চিরকাল জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে।
সব ধরনের শিরিক করলে জাহান্নামে যাবে যেমন পুঁজা করা মাজারে সেজদা করা আল্লাহ কে অশিকার করা