রোজা অবস্থায় মেয়েদের দিকে তাকানো যাবে কী?
2 Answers
“মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।” (সূরা আন-নূর, আয়াত নং ৩০)
উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে, অবৈধ ব্যবহার হতে তাকে হিফাযতে রাখে অথবা তাকে এমনভাবে গোপন রাখে, যাতে তার উপর অন্যের দৃষ্টি না পড়ে। এখানে এই উভয় অর্থই সঠিক। কেননা উভয়ই বাঞ্ছিত। পক্ষান্তরে দৃষ্টি সংযত রাখার কথা প্রথমে উল্লেখ হয়েছে এবং যৌনাঙ্গ হিফাযত করার কথা পরে উল্লেখ হয়েছে। কারণ দৃষ্টি-সংযমে শিথিলতাই যৌনাঙ্গ হিফাযত করার ব্যাপারে উদাসীনতার কারণ হয়।
জনাব! তাই, আপনি মহিলা হতে আপনার দৃষ্টিকে সংযত রাখুন। আর মহিলার দিকে দৃষ্টি পড়লে যে রোজা ভেঙে যাবে, এটা বলা ঠিক হবে না। তবে তাদের দিকে তাকালে যে যৌন বাসনা মনের মধ্যে জাগবে, এটা চরমভাবে সত্য। তাই সবসময় চেষ্টা করুন মেয়েদের দিক থেকে নিজের দৃষ্টিকে অবনত রাখার৷
শুধু রোজা নয় অন্য যেকোন অবস্থায় মেয়েদের দিকে তাকানো যাবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে; এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত। (আন-নুরঃ ৩০) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলী (রাঃ) কে বললেনঃ একবার দৃষ্টি চলে গেলে পুনরায় দৃষ্টিপাত করবে না, কারণ প্রথমবার দৃষ্টিপাত ক্ষমা করা হবে, কিন্তু দ্বিতীয়বার দৃষ্টি তোমার নয় (শয়তানের পক্ষ থেকে হয় সেজন্য তোমাকে পাকড়াও করা হবে)। (তিরমিযীঃ ২৭৭৭, আবূ দাঊদঃ ২১৪৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ বানী আদমের ওপর যিনার একটি অংশ লিখে দেয়া হয়েছে। এটি অবশ্যই তাকে পেয়ে বসবে। দুই চোখের যিনা হল দেখা, জিহ্বার যিনা হল কথা বলা, দুই কানের যিনা হল শ্রবণ করা, দুই হাতের যিনা হল ধরা, দুই পায়ের যিনা হল হেঁটে যাওয়া, অন্তর তার আকাক্সক্ষা করবে এবং চাইবে। আর লজ্জাস্থান হয় এটিকে সত্য প্রমাণিত করবে, না হয় মিথ্যা প্রমাণিত করবে। (সহীহ বুখারীঃ ৩২৪৩, ৬৬১২) প্রাইভেটে পড়ার সময় নিজের দৃষ্টিকে সংযত করতে হবে। আর প্রয়োজনে তাদের দিকে তাকালে বা কথা বললে রোজা ভাঙ্গবে বা হালকা হবে না।