তারাবিহ্ আদায় না করলে কী সিয়াম হবে..?
2 Answers
হ্যা হবে।কিন্তু তারাবীহ এর ফজিলত থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবেন।কিন্তু এতে রোযা নষ্ট হবেনা।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, হে ইমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর। শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কর না। নিশ্চিতরূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (সূরা বাকারাঃ ২০৮) উক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআলা সকল মুমিনকে ইসলামে পূর্ণভাবে প্রবেশ করতে নির্দেশ দিচ্ছেন! সর্বক্ষেত্রে যাবতীয় বিধান যথাসম্ভব পালন ও সকল নিষেধাজ্ঞা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার মাধ্যমে। জনাব! কেউ আল্লাহ তাআলার হুকুম মানবে কিন্তু নবীজির সুন্নত মানবেনা তা কি করে পুর্নাঙ্গ ইবাদত বলে গন্য হবে। তাই তারাবীহ আদায় না করলে সিয়াম হবে তবে তা পরিপুর্ণ ইবাদত হিসাবে গন্য হবেনা। রমজান মাসে দিনের বেলা সিয়াম আর রাতে ক্বিয়াম রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। রোজা যেমন জীবনের সকল পাপ মোচন করে, ক্বিয়াম তথা তারাবীহ তেমনি ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। তারাবীর নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদাহ আদায় না করলে অবশ্যই গুনাহ হবে। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সাওয়াবের আশায় রমজান মাসে রাত্রি জাগরণ করে তারাবীহ নামাজ আদায় করবে, তার বিগত জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (সহীহ বোখারি হাদিসঃ ১৯০১, সহিহ মুসলিম হাদিসঃ ৭৫৯) অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রমজানের রোজাকে তোমাদের জন্য ফরজ করে দিয়েছেন। আর আমি তোমাদের জন্য এ মাসের তারাবীহ নামাজকে সুন্নাত করে দিলাম। যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখবে এবং তারাবীহ নামাজ আদায় করবে, সে গুনাহ থেকে সেই দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে যে দিন মা তাকে জন্ম দান করেছিলেন। (সুনানে নাসায়ীঃ ২২২২) শেষ কথাঃ কেউ যদি তারাবীহ নামাজ ছেড়ে দেয়, সেক্ষেত্রে রোজার উপর এর কোন প্রভাব পরবে না। কেননা রোজা ও তারাবীহ দুইটি ভিন্ন ভিন্ন স্বতন্ত্র ইবাদত। তাই রোজাদার ব্যাক্তি যদি তারাবীহ নামাজ নাও পড়েন সেটা রোজার উপর কোন প্রভাব ফেলবে না। তবে আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ আর তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা কৃপা লাভ করতে পার। (আন-নিসাঃ ১৩২) আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের সাথে রাসূলের আনুগত্যেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এটা জানা কথা যে, রাসূলের আনুগত্য হুবহু আল্লাহর আনুগত্য বোঝায়। তারপরও এখানে রাসূলের আনুগত্যকে পৃথক করে বর্ণনা করার তাৎপর্য স্বয়ং আল্লাহ বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমাদের প্রতি করুণা করা হয়। এতে আল্লাহর করুণালাভের জন্যে আল্লাহ তাআলার আনুগত্যকে যেমন অত্যাবশ্যকীয় ও অপরিহার্যকরা হয়েছে, তেমনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্যকেও জরুরী ও অপরিহার্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু এ আয়াতেই নয়, বরং সমগ্র কুরআনে বার বার এর পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে এবং যেখানেই আল্লাহর আনুগত্যের নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে, সেখানেই রাসূলের আনুগত্যকেও স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। হানাফি মাজহাব মতে সুন্নাতে মুআক্কাদাহ ওয়াজিব এর মত তাই কেউ যদি স্বেচ্ছায় তারাবীহ নামাজ না পড়ে তাহলে সে গোনাহ্গার হবে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy