সূরা আম্বিয়ার তাফসির...?
2 Answers
আপনাকে একটি লিংক দেওয়া হল,, ,এর মাধ্যমে আপনি তাফসীর বাংলা শুনতে পারবেন,,, এবং পরতে পারেন। https://www.hadithbd.com/tafsir.php?suraNo=21
আর যে জনপদকে আমরা ধ্বংস করেছি তার সম্পর্কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে, তার অধিবাসীরা ফিরে আসবে না। (আম্বিয়াঃ ৯৫) এ আয়াতটির কয়েকটি অর্থ হয়ঃ একঃ যে জাতির অন্যায় আচরণ, ব্যাভিচার, বাড়াবাড়ি ও সত্যের পথ নির্দেশনা থেকে দিনের পর দিন মুখ ফিরিয়ে নেয়া এত বেশী বেড়ে যায় যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত হয়ে যায়, তাকে আবার ফিরে আসার ও তাওবা করার সুযোগ দেয়া হয় না। গোমরাহী থেকে হেদায়াতের দিকে ফিরে আসা তার পক্ষে আর সম্ভব হতে পারে না। (ইবন কাসীর) দুইঃ যে জনপদ আমি আযাব দ্বারা ধ্বংস করেছি, তাদের কেউ যদি দুনিয়াতে এসে সৎকর্ম করতে চায়, তবে সেই সুযোগ সে পাবে না। এরপর তো শুধু কেয়ামত দিবসের জীবনই হবে। আল্লাহর আদালতেই তার শুনানি হবে। (ইবন কাসীর; সাদী) অথবা, এখানে আল্লাহ তাআলা বলছেন, যে জনপদবাসী দুনিয়া থেকে চলে গেছে বা যাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে তাদের পক্ষে দুনিয়াতে আসা অসম্ভব। অর্থাৎ তারা আর তাওবাহ করার সুযোগ পাবে না। কেননা মৃত্যুর পর আমল করার কোন পথ খোলা থাকবে না। (তাফসির ফাতহুল মাজিদ) এমনকি (তখনও তারা ফিরে আসবে না) যখন ইয়া’জূজ ও মা’জূজের জন্য (প্রাচীর) খুলে দেয়া হবে আর তারা প্রতিটি পাহাড় কেটে ছুটে আসবে। (আম্বিয়াঃ ৯৬) অতঃপর আল্লাহ তাআলা কাফির-মুশরিকদেরকে সতর্ক করছেন যে, ইয়া‘জূজ-মা‘জূজের বের হওয়ার সময় নিকটবর্তী হয়ে গেছে। ইয়া‘জূজ-মা‘জূজ হল আদম সন্তানের দুটি গোত্র। (তাফসীর সাদী) এলাকাবাসী যখন অভিযোগ করল যে, তারা জমিনে ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করছে তখন বাদশা যুল-কারনাইন সীসা ঢালা প্রাচীর দিয়ে তাদেরকে আবদ্ধ করে দিয়েছিলেন। শেষ যুগে ঈসা (আঃল-এর সময়ে তারা সে প্রাচীর ভেঙ্গে বের হয়ে আসবে। তারা এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে যে, প্রতিটি উঁচু জায়গা হতে ছুটে আসছে মনে হবে। তাদের অনিষ্ট ও অত্যাচারে মুসলিমরা অতিষ্ঠ হয়ে যাবে। এমনকি ঈসা (আঃ) মুসলিমদের নিয়ে তুর পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেবেন। অতঃপর ঈসা (আঃ)-এর অভিশাপে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। তাদের শবদেহের দুর্গন্ধে জমিন দুর্গন্ধময় হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা এক জাতীয় পাখি প্রেরণ করবেন, যারা তাদের লাশগুলো তুলে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে। তারপর প্রবল বৃষ্টি বর্ষণ হবে যাতে সারা পৃথিবী পরিস্কার হয়ে যাবে। (বিস্তারিত ইবনু কাসীর) সত্য ওয়াদার (পূর্ণতার) সময় ঘনিয়ে আসবে, আকস্মাৎ কাফেরদের চক্ষু স্থির হয়ে যাবে , তারা বলবে, হায়, দুর্ভোগ আমাদের! আমরা তো ছিলাম এ বিষয়ে উদাসীন; বরং আমরা তো ছিলাম যালেম। (আম্বিয়াঃ ৯৭) ইয়া’জুজ ও মা’জুজ বের হওয়ার পর কিয়ামতের সত্য প্রতিশ্রুতি অতি নিকটে এসে পড়বে। আর যখন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে তখন কিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থা দেখে কাফেরদের চক্ষু স্থির হয়ে যাবে। তখন কাফিররা আফসোস করবে এবং বলবে, আমাদের জন্য দুর্ভোগ, আমরা এ বিষয়ে উদাসীন ছিলাম আর আমরা সীমা লঙ্ঘনকারী ছিলাম। কিন্তু তখন আর তাদেরকে কোন সুযোগ দেয়া হবে না। (তাফসির ফাতহুল মাজিদ)