1 Answers

অনুচ্ছেদঃ।     কাবাডি বা হাডুডু
খেলাধূলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়। শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং সুস্থতার জন্য খেলাধূলার গুরুত্ব অপরিসীম। খেলাধূলা বর্তমানে মানুষের প্রাণের স্পন্দনে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হা-ডু-ডু বা কাবাডি। হা-ডু-ডু বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। আন্তর্জাতিকভাবেও কাবাডি খেলার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।বাংলাদেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে এ খেলাটির প্রচলন নেই। তবে এই খেলাটির উৎপত্তিস্থল ফরিদপুর বলে ধরা হয়। বাংলাদেশে অঞ্চলভেদে এর নামের ভিন্নতা পাওয়া যায়। যেমন- কাবাডি, কাপাটি, হা-ডু-ডু, ছি-খেলা, ডু-ডু খেলা ইত্যাদি।হা-ডু-ডু খেলায় বালকদের মাঠ লম্বায় ১২.৫০ মিটার এবং চওড়ায় ১০ মিটার হয়। বালিকাদের কাবাডি খেলার মাঠ লম্বায় ১১ মিটার ও চওড়ায় ৮ মিটার হয়।প্রতি দলে ১২ জন খেলোয়াড় অংশ নেয়। কিন্তু প্রতি দলের ৭ জন খেলোয়াড় এক সাথে মাঠে নামে।খেলাধুলা মানুষের শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হা-ডু-ডুও একটি নির্মল আনন্দদায়ক খেলা। হা-ডু-ডু খেলার নিয়মকানুন সহজ হওয়াতে যে কেউ এই খেলায় অংশ নিতে পারে। মনের সতেজতা ও প্রাণময়তা বৃদ্ধিতে এই খেলা ভূমিকা পালন করে। শরীরের কাঠিন্য বৃদ্ধি করে, দেহ ও মনকে করে সুদৃঢ় ও বলিষ্ঠ। এ খেলার মধ্য দিয়ে পেশিশক্তির উন্নতি ঘটে। শরীরকে রোগমুক্ত রাখে এবং রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে। হা-ডু-ডু জীবনের অবসাদ দূরীভূত করে কর্মে আত্মনির্ভরশীলতা ও অনুপ্রেরণা যোগায়। প্রত্যেক খেলারই সামান্যতম অপকারিতা থাকে, হা-ডু-ডুও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। মাঝে মাঝে খেলতে গিয়ে হাত-পা ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।খেলাধুলা মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে সাবলীল ও গতিশীল করে তোলে। হা-ডু-ডু আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে আছে। আজও বাংলাদেশের হাজারো মানুষের মনে আনন্দের খোরাক জোগায় হা-ডু-ডু। তাই আমাদের দেহ ও মনের স্বাভাবিক বিকাশ এবং দেশের সার্বিক প্রগতির জন্য জাতীয় পর্যায়ে হা-ডু-ডু-কে আরো গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া এই দেশনন্দিত খেলাটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারলে আমাদের দেশের গৌরব ও ভাবমূর্তি যে আরো উজ্জ্বল ও শাণিত হবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
3688 views

Related Questions