আচ্ছা এমন টা হওয়ার কারণ টা কী....!?
কিছু দিন আগেও আমি অনেক নরম মনের মানুষ ছিলাম। কেউ একটু বকা দিলেই কেঁদে ফেলতাম। কোন সমস্যা হলে ভয় পেতাম সেটার মোকাবেলা করতে। একটু তেই কাঁন্না চলে আসত। অনেক মন খারাপ থাকত।
কিন্ত বর্তমানে মন খারাপ থাকেই না মন খারাপ হলেও ৫ মিঃ পর তা ঠিক হয়ে যায়। কিছু দিন আগেও যেমন একটু তে কাঁন্না করে দিতাম কিন্ত এখন কাঁন্না আসেই না। কেমন জানি একটা হয়ে গেছি ।
কাঁন্না নামক জিনিস টা এখন আর আমার দ্বারা হয় না।
কেউ মারা গেছে বা কেউ অসুস্থ বা কেউ Accident করেছে শুনলেও কোন অস্থিরতা কাজ করে না। বেশ স্বাভাবিক ই থাকতে পারি। কিন্ত ১ বছর আগে এটা পারতাম না।
এই রকম হওয়ার কারণ টা আজ ও খুজে পাইলাম না।
2 Answers
আপনি একজন ছেলে যা বুঝলাম এমন হওয়া স্বাবাভিক এতে ভয়ের কিছুই নেই প্রায় সব ছেলেদের যখন বয়স বৃদ্ধি হয় তখন তাদের আবেগ কমে যায় যার ফলে এইসব ঘটে থাকে এইটা সবারই হয় এটা একটা স্বাভাবিক ক্রিয়া
কান্না আবেগ এগুলো অতি জটিল শারীরিক প্রক্রিয়া। এই বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রিত হয় জিন দ্বারা। আর আপনার এই ঘটনাটি বয়সের সাথে জড়িত। এক জিন এক এনজাইম মতবাদ অনুযায়ী জিন বৈশিষ্ট নিয়ন্ত্রন করে এনজাইম ক্ষরনের মাধ্যমে। এবং দেহে অবস্থিত জিনগুলি এক জটিল জৈবিক ঘড়ি বা দেহঘড়ি অনুযায়ী ক্রিয়া সম্পাদন করে। যেমন ঃ ১০-১২ বছর পর থেকে ছেলেদের দাড়ি গজায়। এর আগে গজায়না। অর্থাৎ এই বৈশিষ্ট নিয়ন্ত্রনকারী জিন এই সময়েই সক্রিয় হয়। আবার কমপ্লিমেন্টারি জিন এর ক্ষেত্রে একটি জিন নির্দিষ্ট সময়ে অপরজীনকে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করে দেয়। যেমন মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রেগন্যান্ট হলেই পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায়। কারন ওভারিতে ডিম্ব উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় জিন কতৃক এনজাইম ও হরমোন ক্ষরনের মাধ্যমে। ঠিক একই প্রক্রিয়ায় আগে আপনার বয়সের নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী কিছু জিনের সক্রিয়তা বজায় থাকায় আবেগ ছিল। এখন সেই জিন নিষ্ক্রিয় হতে চলেছে তাই আবেগ চলে যাচ্ছে(পুরাপুরি যায়না) তাই এখন কষ্ট লাগেনা। তবে বিশেষ মুহুর্তে পরিপূরক জীন অবশ্যই কাজ করবে এবং আবেগের প্রকাশ ঘটাবে। দ্বিতীয়ত। আচরন বিদ্যা অনুযায়ী মানুষ পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে কিছু শিক্ষন আচরন ধরে রাখে। এবুং মানসিক শক্ততার কারনে অনেকদিন যাবত আবেগ প্রকাশ না ঘটলে এর সাথে জড়িত জিন গুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এটি একদিকে ইভোলিউশন অন্য দিকে প্রকৃতিবাদ অনুসারে কাজ করে। তবে শেষ কথা এটায় যে জিন এর গাঠনিক উপাদান প্রকৃতির মৌলিক উপাদান। তাই পরিবেশীয় বিষয়ও জিনের কাজ পাল্টাতে পারে। যেটা হঠাৎ ঘটলে মিউটেশন বলি। আর ধীরে ঘটলে বিবর্তন বলি। আশা করি বুঝতে পারছেন।