হযরত ঈসা আ: এর বিবাহ সম্পর্কে?
2 Answers
ঈসা (আ.) কে তো ৩০-৩৩ বছর বয়সে উপরে তুলে নেন আল্লাহ্ তায়ালা। তাহলে ঈসা (আ.) বিয়ে করল কখন? আমি কোথাও তার স্ত্রীর নাম কিংবা বিবাহের তত্ত্ব পাইনি। তাই বলা যায়, তিনি অবিবাহিত ছিলেন তখনো। এবং তিনি বিবাহ করেনি।
হযরত ঈসা (আঃ) এবং ইয়াহইয়া (আঃ) বিবাহ করছিলেন না। ঈসা (আঃ) কে যুবক বয়সেই আল্লাহ তাআলা আসমানে তুলে নেন। তাই বিবাহের সুযোগ হয়নি। ঈসা (আঃ)-কে যখন হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছিল, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে তুলে নেন। ঈসা (আঃ) এখনো জীবিত অবস্থায় আকাশে আছেন। কিয়ামতের পূর্বে মুহাম্মাদী শরীয়তের শাসক হিসেবে পৃথিবীর বুকে আগমন করবেন এবং বেশ কিছু দিন থাকার পর মৃত্যুবরণ করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ সে সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! অচিরেই তোমাদের মাঝে ন্যায়পরায়ণ শাসকরূপে ঈসা বিন মারইয়াম (আঃ) অবতরণ করবেন। তিনি ক্রুশ চিহ্ন ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন এবং জিযিয়া কর উঠিয়ে দিবেন। মানুষের ধন-সম্পদ তখন এতো বেড়ে যাবে যে, তা গ্রহণ করার মত কেউ থাকবে না। তখন আল্লাহ তা‘আলার জন্য একটি সিজদা দুনিয়া ও তার মাঝে যা কিছু আছে তা থেকে উত্তম। (সহীহ বুখারীঃ ৩৪৪৮, সহীহ মুসলিমঃ ১৫৫) কোরআনের বানীঃ অতঃপর যখন যাকারিয়া ইবাদত কক্ষে সালাতে দাঁড়িয়েছিলেন তখন ফেরেশতারা তাকে আহবান করে বলল, নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে ইয়াহইয়ার সুসংবাদ দিচ্ছেন, সে হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে আগমনকৃত এক কালেমাকে সত্যায়নকারী, নেতা, ভোগ আসক্তিমুক্ত এবং পূণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত একজন নবী। (আলে-ইমরানঃ ৩৯) এখানে কালেমা বলতে ঈসা আলাইহিস সালামকে বোঝানো হয়েছে। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে ঈসা আলাইহিস সালামকে ‘কালেমাতুল্লাহ' বা আল্লাহর বাণী বলা হয়েছে, কারণ, তিনি শুধু আল্লাহর কালেমা বা নির্দেশে চিরাচরিত প্রথার বিপরীতে পিতার মাধ্যম ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এখানে তাকে ‘আল্লাহর কালাম’ বলে বিশেষভাবে উল্লেখ করে সম্মানিত করাই উদ্দেশ্য। নতুবা সবকিছুই আল্লাহর কালেমার মাধ্যমেই হয়। তার কালেমা ব্যতীত কিছুই হয় না। এটা ইয়াহইয়া আলাইহিস সালামের একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ। এর অর্থ, যিনি যাবতীয় কামনা-বাসনা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেন। উদাহরণতঃ উত্তম পানাহার, উত্তম পোষাক পরিধান এবং বিবাহ ইত্যাদি।