2 Answers

মাকরুহ হবে না।।।কে বলছে আপনাকে?

3598 views

নামাজের মধ্যে সূরাসমূহের ধারাবাহিকতা লঙ্ঘন করা মাকরূহে তানযীহী বা অনুত্তম। প্রকৃতপক্ষে এ ব্যাপারে রাসুল (সাঃ) এর কোনো বাধ্যবাধকতা পাওয়া যায় না। বরং হাদিস থেকে প্রমাণিত যে, তিনি নিজেই কখনো কখনো এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করেননি। তিনি এক রাকাতেই একাধিক সুরা পড়তে গিয়ে আগের সুরা পরে এবং পরের সুরাটি আগে পড়েছেন বলে প্রমাণ আছে। সহিহ মুসলিমের হাদিস থেকে জানা যায়, রাসুল (সাঃ) একই রাকাতে প্রথমে সুরা নিসা এবং পরে সুরা আলে ইমরান পড়েছেন। আমরা জানি, সুরা নিসা সুরা আলে ইমরানের পরের সুরা। ইমাম বুখারি (রহঃ) বলেন, আহনাফ (রহঃ) প্রথম রাকাতে সুরা কাহফ এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ইউসুফ অথবা ইউনুস পড়েছেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি ওমর (রাঃ) এর সঙ্গে ফজরের নামাজে এ দুটি সুরা পড়েছি। (সহীহ বুখারিঃ ৭৭৫) আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, কোরআন থেকে তোমাদের যতটুকু সহজ হয় তোমরা তিলাওয়াত করো। (মুজ্জামিলঃ ২০) আপনি যেকোনো সুরার যেকোনো অংশ তিলাওয়াত করতে পারবেন। যেকোনো সুরা তিলাওয়াত করতে পারবেন। এর জন্য মূলত বড় থেকে ছোট বা যে ক্রমধারা রয়েছে সেটি নির্দিষ্ট করে নেওয়া, এটি শুধু ওলামায়ে কেরামদের ইশতেহাদ। আর ইজমাও এক প্রকার দলিল। রাসুল (সাঃ) এর কোনো নির্দেশনা এখানে নেই। জনাব! নামাজে কেরাত পড়তে গিয়ে সুরা আগে পরে ধারাবাহিকতা রক্ষা না করলে নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন বর্ণনা ব্যতীত নামাজের কেরাত সংক্রান্ত সব বর্ণনায়ই দেখা যায়, রাসুল (সাঃ) সুরার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছেন। এজন্য ধারাবাহিকতা রক্ষা করা অবশ্যই উত্তম এবং উচিত। কিন্তু নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য আবশ্যকীয় নয়। তাই ফজর ও জোহরে তিওয়ালে মুফাসসাল, অর্থাৎ সূরায়ে হুজরাত থেকে সূরায়ে বুরুজ পর্যন্ত। আসর ও ইশার নামাযে আওসাতে মুফাসসাল, অর্থাৎ সুরায়ে বুরুজ থেকে সূরায়ে বাইয়্যিনাত পর্যন্ত। মাগরিবের নামাযে কিসারে মুফাসসাল অর্থাৎ সূরায়ে যিলযাল থেকে সূরায়ে নাস পর্যন্ত সূরা সমুহ সিরিয়াল অনুযায়ী পড়বেন। এক সুরা পড়ার পর মাঝখানে এক সুরা বাদ দিয়ে পরের সুরা পড়া মাকরূহ তবে দুই সুরা বাদ দিয়ে পড়াতে কোন সমস্যা নেই। [এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে একজন ভাল আলেমের কাছ থেকে জেনে নিবেন।]

3598 views

Related Questions