আল্লাহর বান্দার হক নষ্ট করলে, বান্দার কাছ থেকে ক্ষমা না নিলে কি হয়?
আসসালামু আলাইকুম
প্রিয় জনাব/জনাবা
আমার নাম আল মামুন। আমি একজন মুসলিম। আমি জীবনে অনেক গুনাহ করেছি যেমনঃ
১. আমি অনেক যিনা করেছি।
২. আমি আনেক দুকান থেকে পণ্য কিনতে গিয়ে কিছু পণ্যের টাকা না দিয়ে লুকিয়ে নিয়ে এসেছি।
৩. আমি আমার পরিবারের বাজার খরচের টাকা চুরি করেছি।
৪. আমি আমার এক বন্ধু কাছে টাকা আত্মসাৎ করেছি।
৫. আমার পরিবারের ও টাকা চুরি করেছি।
৬. অনেক মিথ্যা কথা বলেছি ।
বর্তমানে আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, গরিব কে সহযোগিতা করি, সত্য কথা বলি।
তাহলে কি আমার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।
দয়া করে আমার প্রশ্নের উত্তরটা দেন আমি খুবই অসহায়
আবস্থাতে আছি।
যেভাবে আমি আমার প্রশ্নটি করেছি ঠিক তেমতি আরেক বার আগেও করেছি....উত্তরটি খুব সুন্দর হয়েছে।
উত্তরে বলেছিলেন আমি আল্লাহর কাছে তওবার ৩ টি নিয়ম মেনে চললে আল্লাহ ক্ষমা করে দিতে পারেন কিন্তু আল্লাহর বান্দর হক নষ্ট করায় তার হক তার কাছে পৌছাইতে হবে।
আমি সবোর্চ্চ চেষ্টা করবো বান্দর হক বান্দর কাছে ফিরিয়ে দিতে।
এখন আমার প্রশ্নঃ
১.আমি অনেক বান্দর হক নষ্ট করেছি যার ফলে সবার কথা মনে নেই এখন কি করা যায় ?
২. বান্দার হক নষ্ট করার অপরাধ আল্লাহ কি আর কোনো ভাবে ক্ষমা করার সিস্টেম রেখেছেন?
1 Answers
আপনার বিস্তারিত প্রশ্নের উত্তর এই লিংকে। এই প্রশ্নের মেইন কথার উত্তর নিম্নে দেওয়া হলোঃ
যেমন, আমি যদি একজনকে ধোঁকা দিয়ে একটি টাকাও যদি নিয়ে নিই, একমাত্র সেই লোক যার হক নষ্ট করলাম সে বাদে আর কেউ ক্ষমা করতে পারবে না। এই ক্ষমা করার এখতিয়ার আল্লাহ নিজ হাতে রাখেন-নি।
অথবা যার হক নষ্ট করলাম সে মারা গেছেন সেই ক্ষেত্রে তার উপযুক্ত উত্তরাধিকার এর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
জনাব! কারো হক্ক নষ্ট করে থাকলে যে ভাবেই হোক তাকে তার পাওনা ফিরিয়ে দিতে হবে, সামর্থ্য না থাকলে অনুরোধ করে, ক্ষমা চেয়ে তার কাছ থেকে মাফ করিয়ে নিতে হবে।
উল্লেখ্য, তওবা করলে আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন, এমনকি কারো পাপ জমীন থেকে আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে গেলেও আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন ইনশা-আল্লাহ।
কিন্তু বান্দার কোনো হক নষ্ট করে থাকলে সেটা বান্দা মাফ না করলে আল্লাহও ক্ষমা করবেন না।
হাদীসে এসেছে একবার রাসুলূল্লাহ (সাঃ) তাঁর পাশে উপবিষ্ট সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) কে বললেনঃ তোমরা কি জানো, গরীব কে? সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) বললেন-আমাদের মধ্যে তো গরীব তাদেরকে বলা হয়, যাদের কাছে ধন-সম্পদ, টাকা-পয়সা না থাকে। তখন রাসুলূল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ প্রকৃত পক্ষে আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে গরীব সে, যে কিয়ামতের দিন নামায, রোযা, যাকাত, সবকিছু নিয়ে উঠবে কিন্তু তার এ কর্মগুলো থাকবে যে, সে দুনিয়াতে কারো সাথে মন্দ আচরন করেছে, কারো নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, কারো সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কাউকে আঘাত করেছে, কাউকে খুন করেছে ইত্যাদি, তাই এর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন তার কিছু নেকী একে দিবে, কিছু নেকী ওকে দিবে। এভাবে দিতে দিতে বান্দার হক আদায়ের পূর্বে যদি তার নেকী শেষ হয়ে যায়,তাহলে এই হকদারদের গুনাহ তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (মুসলিম শরীফ)