1 Answers

; আল্লাহর বাণী ঃ


আল-বাকারাহ 2:259

أَوْ كَٱلَّذِى مَرَّ عَلَىٰ قَرْيَةٍ وَهِىَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّىٰ يُحْىِۦ هَٰذِهِ ٱللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَاۖ فَأَمَاتَهُ ٱللَّهُ مِا۟ئَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُۥۖ قَالَ كَمْ لَبِثْتَۖ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍۖ قَالَ بَل لَّبِثْتَ مِا۟ئَةَ عَامٍ فَٱنظُرْ إِلَىٰ طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهْۖ وَٱنظُرْ إِلَىٰ حِمَارِكَ وَلِنَجْعَلَكَ ءَايَةً لِّلنَّاسِۖ وَٱنظُرْ إِلَى ٱلْعِظَامِ كَيْفَ نُنشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا لَحْمًاۚ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُۥ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ 

অথবা সেই ব্যক্তির কথা ভেবে দেখনি, যে এমন এক নগরে উপনীত হয়েছিল, যা ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়েছিল। সে (লোকটি) বলল, ‘মৃত্যুর পর কিরূপে আল্লাহ এ (নগরটি)কে জীবিত করবেন?’[১] তখন তাকে আল্লাহ একশত বৎসর মৃত রাখলেন, তারপর তাকে পুনর্জীবিত করলেন। আল্লাহ বললেন, ‘তুমি (মৃত অবস্থায়) কতক্ষণ ছিলে?’ সে বলল, ‘একদিন অথবা এক দিনের কিছু অংশ।’[২] তিনি বললেন, ‘বরং তুমি একশত বৎসর (মৃত অবস্থায়) অবস্থান করেছিলে। অথচ তোমার খাদ্য-সামগ্রী ও পানীয় বস্তুর প্রতি লক্ষ্য কর, তা অবিকৃত রয়েছে। আর তুমি তোমার গাধাটির প্রতি লক্ষ্য কর, (এগুলো এ জন্য যে,) আমি তোমাকে মানব-জাতির জন্য নিদর্শনস্বরূপ করব। আর (গাধার) অস্থিগুলির প্রতি লক্ষ্য কর, কিভাবে সেগুলিকে আমি সংযোজিত করি, অতঃপর গোশত দ্বারা ঢেকে দিই।’ সুতরাং যখন এটি তার নিকট সুস্পষ্ট হল, তখন সে বলে উঠল, ‘আমি জানি যে, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে মহাশক্তিমান।’ [৩]




ইসহাক ইবনে বিশর...... আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রাঃ থেকে বর্ণনা করেন যে,উযায়র হলেন আল্লাহর সেই বান্দা যাকে তিনি একশত বছর মৃত অবস্থায় রেখে পুনরায় জীবিত করেছিলেন। ইসহাক ইবনে বিশর বলেন, বিভিন্ন সুত্রে জানা যায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন উযায়ের ছিলেন একজন জ্ঞানী ও পুণ্যবান লোক।একদা তিনি ক্ষেতখামার দেখার জন্য ঘর থেকে বের হন। সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনকালে দ্বিপ্রহরে একটি বিধ্বস্ত বাড়িতে বিশ্রাম নেন। তাঁর বাহন গাধার পিঠ থেকে নিচে অবতরণ করেন।তার সাথে একটি ঝুড়িতে ছিল ডুমুর ও অন্য একটি ঝুড়িতে ছিল আঙুর । খাওয়ার উদ্দেশ্যে আঙুরের রস বের করেন এবং শুকনো রুটি তার মাঝে ভিজিয়ে রাখেন। রুটি উক্ত রসে ভিজলে খাবেন এই চিন্তা করে কিছু সময়ের জন্য শুয়ে পড়েন এবং তার পা গুলো দেয়ালের সাথে চেপে দেন। এমতাবস্থায় তিনি লক্ষ্য করলেন বিধ্বস্ত ঘরগুলোর দিকে যার অধিবাসীরাও ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি অনেক গুলো মানুষের হাড়গোড় জমীনে দেখতে পেলেন।আর চিন্তা করতে লাগলেন, আল্লাহ তায়ালা কিভাবে এই মৃতদের কে জীবন দান করবেন।বাস্তবে তাঁর এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ ছিল না। তিনি শুধু মনে মনে এই বিষয়টি বিস্ময় সাথে ভাবছিলেন। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা মৃত্যুর ফেরেশতা পাঠিয়ে তার রূহ কবজ করেন এবং তাকে মৃত অবস্থায় একশত বছর পর্যন্ত রেখে দেন।

একশো বছর পূর্ন হলে আল্লাহ তায়ালা একজন ফেরেশতা তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেন।এ দীর্ঘ সময় বনী ইসরাইলদের মধ্যে অনেক পরিবর্তন সাধিত হয় গিয়েছিল এবং তার ধর্মের মধ্যে বিদয়াত চালু হয়েছিল।যা হোক ফেরেশতা সর্বপ্রথম তার কালব ও চক্ষু জীবিত করলেন।যাতে করে সে জীবিত করার বিষয়টি অবলোকন করতে পারে। অতঃপর ফেরেশতা তাঁর বিক্ষিপ্ত হাড়গুলো একত্রিত করে গোশত লাগালেন। চামড়ার দ্বারা শরীর আবৃত করে চুল_পশম যথাস্থানে বসিয়ে দিলেন। সবশেষে তার রূহ সঞ্চার করে দিলেন।আর এই জীবিত করার প্রক্রিয়াটি ঊযায়ের (আ:) উপলব্ধি করছিলেন। এরপর তিনি উঠে বসলেন। ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি এ অবস্থায় কতদিন ছিলেন। তিনি বললেন এইতো দিনের কিছু সময়। ফেরেশতা বললেন আপনি একশত বছর পর্যন্ত মৃত ছিলেন।উযায়ের আঃ খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেলেন। কারণ তার খাদ্যগুলো অক্ষত অবস্থায় দেখতে পেলেন। অতঃপর ফেরেশতা বললেন আপনার গাধাটির প্রতি লক্ষ্য করুন। তিনি দেখতে পেলেন গাধাটি ধ্বংস হয়ে নিঃশেষ হয়ে গেছে। অতঃপর ফেরেশতা গাধার হাড়গোড় একত্রিত করে আল্লাহর আদেশে জীবিত করলেন।গাধাটি কিয়ামত সংঘটিত হয়েছে ভেবে  চিৎকার দিয়ে উঠলো ।

সুত্রঃ আল বিদায়া ওয়াান নিহায়া


2937 views

Related Questions