আকীকার নিয়ম বলুন!?
2 Answers
আকিকার সময়ঃ জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা উত্তম। সপ্তম দিনে সম্ভব না হলে চৌদ্দতম দিনে করবে। তাও সম্ভব না হলে একুশতম দিনে করবে। হাদীস শরীফে এই তিন দিনের উল্লেখ আছে। কেউ যদি এ দিনগুলোতেও আকিকা করতে সক্ষম না হয় তাহলে পরবর্তী যে কোন সময়ে তা করে নিতে পারবে। ইবনে মুছান্না (রহঃ) সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক শিশু তার আকীকার বিনিময়ে 'আল্লাহর নিকট' বন্ধকস্বরূপ থাকে। কাজেই সপ্তম দিনে তার পক্ষ হতে কুরবানী করবে এবং তার মাথা মুন্ডন করে নাম রাখবে। (সূনান আবু দাউদ হাদিস নম্বরঃ ২৮২৯) আকিকার জন্তুঃ আকিকার জন্তু কুরবানীর জন্তুর মতোই নির্দিষ্ট বয়সের হতে হবে। কুরবানীর জন্তু যেসব ত্রুটিমুক্ত হতে হয় আকীকার জন্তুও সেসব ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। যে জন্তু দিয়ে কুরবানী করা জায়েয নেই তা দিয়ে আকিকা করাও জায়েয নেই। আকিকা পশু সম্পর্কে মুসাদ্দাদ (রহঃ) উম্মু কুরয কাবিয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ বলতে শুনেছি, ছেলের জন্য দুইটি একই ধরণের বকরী এবং মেয়ের জন্য একটি বকরী দিয়ে আকীকা দেওয়া যথেষ্ট হবে। (সূনান আবু দাউদ হাদিস নম্বরঃ ২৮২৫) অসচ্ছলতার কারণে পুত্র সন্তানের ক্ষেত্রে যদি দুইটি ছাগল যবাই করা জটিল হয়, তাহলে একটি দিয়েও আকিকা আদায় হয়ে যাবে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত হাসান (রাঃ) ও হযরত হুসাইন (রাঃ) এর পক্ষ থেকে একটি করে দুম্বা দিয়ে আকিকা করেছেন। (সুনান আবু দাউদঃ ৩৯২) জনাব! আকিকার গোসত কুরবানীর গোসতের মতোই। পরিবারের সবাই খেতে পারবে। আত্মীয়দের দিতে পারবে। গরীবদের খাওয়াতে পারবে। কাঁচা ও রান্না করা উভয়ভাবে বিতরণ করতে পারবে। এর দ্বারা আনুষ্ঠানিক আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করতে পারবে। (রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৩৫)
সন্তান জন্মগ্রহণের শুকরিয়াস্বরূপ যে পশু যবাই করা হয়, তাকে আকীকা বলে। আর আকীকা করা মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, সন্তানের জন্য আকীকা করতে হয়। সুতরাং, তোমরা তার পক্ষ থেকে যবাই কর এবং তার ‘জঞ্জাল’ শ দূর কর, (চুল চেছে ফেল)। (সহীহ বুখারী) রাসূলুল্লাহ (সঃ) আরো বলেছেন, যার সন্তান ভূমিষ্ট হয় সে যদি শিশুটির পক্ষ থেকে আকীকা করা পছন্দ করে, তাহলে যেন তাই করে। (সুনানে নাসায়ী)। জন্মের সপ্তম দিনে আকীকা করা উত্তম। সপ্তম দিনে সম্ভব না হলে ১৪ বা ২১ তম দিনে করা ভালো। কেননা, হাদীস শরীফে এই তিন দিনের উল্লেখ আছে। এ তিন দিনেও করা না হলে পরে যে কোনো দিন আকীকা করা যেতে পারে। কারো আকীকা করা না হলে বড় হয়ে নিজের আকীকা নিজেও করতে পারবে। হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) নবুয়ত প্রাপ্তির পর নিজের আকীকা নিজে করেছেন। (মাজমাউয যাওয়াইদ হাদীস নং ৬২০৩)। হাসান বসরী (রহঃ) বলেন, তোমার যদি আকীকা না করা হয়ে থাকে, তাহলে তুমি নিজের আকীকা করে নাও। যদিও তুমি ইতিমধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেছ। (আল মুহাল্লাহ ৬/২৪০)। আকীকার গোশত পিতা-মাতা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজন ধনী-গরীব নির্বিশেষে সকলেই খেতে পারবে। হযরত আয়েশা রা. বলেন, (আকীকার গোশত) নিজে খাবে, অন্যদের খাওয়াবে এবং সদকা করবে। (মুসতাদরাকে হাকেম ৫/৩৩৮; আলমুগনী ১৩/৩৯৩)। আর, ইচ্ছানুযায়ী আকীকার গোশত বন্টন করা যাবে। হোক, সেটা এমনি কিংবা অন্য কিছুর মধ্যে মিল রেখে। (তরীকুল ইসলাম, প্রথম খন্ড, কুরবানী পর্ব, পৃষ্ঠা নং ৩২৬)।