ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক বিস্তারিত দলিল সহকারে জানতে চাই?
- মোবাইল ফোনে ছবি তুলে তা সংরক্ষন করা কি যাবে,যেমন: নিজের বা বন্ধু, মা-বাবা ভাইবোন দের?
-
ফেসবুকে ছবি অাপলোড দেওয়া কি জায়েয অাছে ইসলাম ধর্মে?
2 Answers
ফটো তোলা কোন ভাল কাজ নয়। এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে কিছু ছবি আছে পরিস্কার হারামও নাজায়েজ যেমন ছবি আঁকা, যাদের দেখা জায়েজ নয় তাদের ছবি তোলা। কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তোলা, কম্পিউটার ও মোবাইল মেমোরিতে সংরক্ষিত ছবির ব্যপারে কিছুটা মতভেদ আছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতেই এটি হারাম। তবে কিছু কিছু বিশেষজ্ঞের মতে তা জায়েজ। কিন্তু এটিও যে অনুত্তম এতে কারো কোন দ্বিমত নেই। তা’ই অহেতুক ডিজিটাল ক্যামেরায়ও ছবি তোলা থেকে বিরত থাকা উচিত। ফেসবুকে ছবি আপলোড। মহিলাদের ছবি হলে বৈধ নয়। পুরুষদের ছবি জায়েজ পদ্ধতিতে প্রদর্শিত হলে জায়েজ আছে। তবে উত্তম নয়। বিশেষ করে সমাজের পথিকৃত যেমন উলামায়ে কেরামগণকে এ কর্ম থেকে বিরত থাকাই তাক্বওয়ার দাবী। কিন্তু এসব ছবি প্রিন্ট করা জায়েজ নয়। [তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম-৪/১৬৪] আসলে বর্তমানে ছবি তোলা একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। যদিও অনেক উলামায়ে কেরাম কম্পিউটার ও মোবাইল স্ক্রীণে থাকা অবস্থার ছবিকে জায়েজ বলেছেন, কিন্তু তা যে তাক্বওয়া ও পরহেযগারীর খেলাফ তাতে কারো কোন দ্বীমত নেই। আহলে হক মিডিয়া থেকে।
অপ্রয়োজনে মানুষ কিংবা কোন প্রাণী'র ছবি তুলা কবিরাহ গুনাহ। এটা মানতে আমার কষ্ট হলেও ইসলামী শরীয়াহ এটাই। এটাই ধ্রুব সত্য। এক সময় শুনা যেতো যারা দ্বীন বুঝে না তারাই কেবল গুনাহকে গুনাহ মনে না করেই গুনাহ করে, কিন্তু আজ তার উল্টো পথে হাটছি আমরা। আমাদের মতো নাদানেরা দ্বীন কতোটুকু বুঝি তা বলতে পারবো না, তবে অপ্রয়োজনে ছবি তোলা যে বড় গুনাহের কাজ এটা বুঝেও অবাধে ছবি তুলে, পোষ্ট করছি আল্লাহ'র বিধানকে তোয়াক্কা না করেই। মানুষ অনুকরণীয় প্রাণী। তাই এরা একজন অপরজনকে অনুকরণ করে চলতে পছন্দ করে। একজন বাকা করে ঠোট ঝুলিয়ে সেল্ফি তুললে অপরজনও তাকে অনুকরণ করে তাই করছে। আবার কেউ একজন বুকের একপাশে উড়না ফেলে শালীনতাহীন ভাবে চলছে তো অপরজন তাই করছে, এটা ঠিক নয়, একেবারেই হারাম। তবে হ্যাঁ, প্রয়োজনের তাগিদে ছবি তোলা যাবে। ধরুন আপনি এখন হজ্জে যাবেন, তখন তো ছবি লাগবেই, তাই না? (তথ্যসূত্রঃ 'ফতোয়ায়ে আলমগীরী')।