2 Answers
আঙুলের সংযোগস্থলের মাঝে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড নামে এক প্রকার ঘন পিচ্ছিল তরল জাতীয় পদার্থ থাকে। এর কাজ হল সংযোগস্থলের অস্থিগুলির মাঝে যেন কোন ধরণের সংঘর্ষ না হয়। এই তরলের মাঝে বিভিন্ন গ্যাসও সম্পৃক্ত হয়ে মিশে থাকে। আমরা যখন আঙুল ফোটাই তখন মূলত আঙুলের হাড়গুলোকে টেনে আলাদা করার চেষ্টা করি। এই টানের ফলে সংযোগস্থলের মাঝের স্থানটি বেড়ে যায় এবং আভ্যন্তরীণ চাপ কমে যায়। কিন্তু যখন পুনরায় আগের স্থানে ফিরে আসে তখন সংযোগস্থলের গ্যাসগুলো বুদবুদ সৃষ্টি করে যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ক্যাভিটেশন বলে এবং এই বুদবুদগুলো চাপের কারণে ফেটে গিয়ে শব্দ করে। অনেকের ধারণা এটি করলে ক্ষতি হয়। কিন্তু ১৯৯৮ সালে ডোনাল্ড উঙ্গার প্রমাণ করেন যে সেই ধারণাটি ভুল। এই গবেষণার জন্য তিনি ২০০৯ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত হন।
অনেকেই মনে করেন, এই শব্দ হয় হাড়ের সঙ্গে হাড়ে ঘষা লাগার ফলে। আসলে কিন্তু তা নয়। মানবদেহে হাড়গুলোর সংযোগস্থলে একধরনের তরল পদার্থ থাকে। যা হাড়ের নড়নচড়নে সাহায্য করে। একে বলে সিনোভিয়াল ফ্লুইড।
হাড়ের সংযোগস্থলে শূন্যস্থান তৈরি হলে এই তরল পদার্থে বুদ্বুদ তৈরি হয়, আর তা ফেটেই শব্দ সৃষ্টি করে। একইভাবে হাড় বা আঙুল যখন টানা হয় অথবা বাঁকানো হয়, তখন হাড়ের সংযোগস্থলে ফাঁক বেড়ে যায়। আর ঠিক তখনই তরল পদার্থের বুদ্বুদ ফেটে যায় এবং মটমট শব্দ কানে আসে। এ কারণে একই আঙুল একবার ফোটালে সঙ্গে সঙ্গে আরেকবার ফোটানো যায় না। হাড়ের সংযোগস্থলে তরলের বুদ্বুদ তৈরি হতে কিছুটা সময় নেয়।