যদি কেউ পর্ন মুভি আথবা পর্ন পিকচার দেখে তাহলে তার কি পাপ হবে?
8 Answers
হাঁ ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী তা কবীরা গুনাহ ও হারাম বলে বিবচিত হবে। কারণ মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,
যদি কেউ পর্ন মুভি অথবা পর্ন পিকচার দেখে তাহলে তার পাপ হবে। এগুলো না দেখাই আপনার জন্য ভাল।
নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ব্যাপারে তোমাদের অবৈধ উপার্জনের প্রবৃত্তি এবং অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়ার প্রবৃত্তি সম্পর্কে ভয় করি এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করে সুন্নাতের ব্যাপারে ভ্রান্ত পথে চলার আশংকা করি’ (মুসনাদু বাযযার হা/৩৮৪৪; আত-তারগীব হা/৭৭)। ইসলাম এমন একটি শান্তির ধর্ম যেখানে অশ্লীল কাজ গ্রহন যোগ্য নয়। শান্তি তৈরির জন্য প্রয়োজন নির্মল পরিবেশ যেখানে- খারাপ বা অশ্লীল জিনিসের যায়গা থাকবেনা। অশ্লীল জিনিস কখনো নির্মল হতে পারে না। তাই এই জিনিস করলে আপনার অব্যশই পাপ হবে।
মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত। (আন নুরঃ ৩০) আয়াতের উদ্দেশ্য অবৈধ ও হারাম পন্থায় কাম প্রবৃত্তি চরিতাৰ্থ করা এবং তার সমস্ত ভূমিকাকে নিষিদ্ধ করা। তন্মধ্যে কাম-প্রবৃত্তির প্রথম ও প্রারম্ভিক কারণ হচ্ছে- দৃষ্টিপাত করা ও দেখা এবং সর্বশেষ পরিণতি হচ্ছে ব্যভিচার। এ দুটিকে স্পষ্টতঃ উল্লেখ করে হারাম করে দেয়া হয়েছে। যেহেতু পর্ণ মুভি দেখার ফলে কাম প্রবৃত্তি জাগ্রত হয় হয়। তাই কেউ যদি পর্ণ মুভি অথবা পর্ন পিকচার দেখে তাহলে তার পাপ হবে।
হ্যা।অবশ্যই পাপ হবে।আল্লাহ তায়ালা বলেন , "প্রকাশ্য কিংবা গোপন অশ্লীল আচরণের নিকটেও যাবে না।(সুরা আনআম ,আয়াত ১৫১)"।এছাড়াও আল্লাহ বলেন, "তারাই মুমিন যারা গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কার্য থেকে বেঁচে থাকে।(সুরা আশ-শূরা,আয়াত ৩৭)।এছাড়াও কুরআন হাদিসের আরো অনেক দলিল আছে।
যিনা-ব্যাভিচার একটি মারাত্মক গুনাহ ও সামাজিক ব্যাধি। রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করার পর নিষিদ্ধ নারীর সাথে সহবাস করার মতো বড় গুনাহ আর নেই।' (মুসনাদে আহমদ) চিন্তা করে দেখেন, শিরক হলো এমন গুনাহ যা আল্লাহ মাফ করবেন না বলে কুরআনে বলে দিয়েছেন। তারপরের বড় গুনাহ হলো যিনা। আল্লাহ তা'য়ালা যিনাকে হারাম ঘোষণা করে বলেন, 'তোমরা যিনার কাছেও যাবে না। কেননা তা অত্যন্ত নির্লজ্জ এবং খারাপ কাজ। (সূরা বনী ইসরাঈল- ৩২) হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যাক্তি যেনা করে কিংবা মদ পান করে, আল্লাহ তার কাছ থেকে ঈমান ছিনিয়ে নেন, যেভাবে কোন ব্যাক্তি তার জামা মাথার উপর দিয়ে খুলে ফেলে। (মুসতাদরাকে হাকেম) এ হাদিসের মর্ম কথা হলো, যেনা করার পরিণতি হলো ঈমান হারা হওয়া। এটা এমন একটা জঘন্য পাপ যে, মানুষ যখন তা করে আল্লাহ মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিষ ঈমানকেই নিয়ে নেন। সহবাস ছাড়াও বিভিন্নভাবে যিনা হতে পারে। এক হাদিসে আছে, 'কোনো বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি দেয়া চোখের যিনা, অশ্লীল কথা বলা জিহ্বার যিনা, স্পর্শ করা হাতের যিনা, ব্যাভিচারের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যিনা, খারাপ কথা শোনা কানের যিনা আর যিনার কল্পণা করা মনের যিনা। (সহীহ বুখারী) অতএব যিনা করা অথবা যিনা দেখা সবই মারাত্মক গুনাহের কাজ। এগুলো থেকে আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে বেঁচে থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy