ইসমে আজম পড়ে যেকোনো অবাস্তব জিনিস চাইলেও নাকি সুমহান আল্লাহ্ তায়ালা তা দান করেন?
4 Answers
আল্লাহ তায়ালা বলেন,আমি ততক্ষণ না পর্যন্ত কোনো জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করি যতক্ষণ না পর্যন্ত সেই জাতি তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করে(দুঃখিত যে আমি তথ্য সূত্র দিতে পারছি না)।তাই আপনার সেজন্য চেষ্টা থাকতে হবে।নিজের চেষ্টা না থাকলে হাজার দোয়া পড়েও কোনো লাভ নেই।শুধু দোয়া পড়লেই যদি ভাগ্য পরিবর্তন হতো তাহলে কেউ আর কষ্ট করতো না।আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
ইসমে আযমের ফযীলতঃ ইসমে আযমের গুরত্ব হচ্ছে, এই নামে বা এই নামের ওসীলা দিয়ে আল্লাহকে ডাকলে বা তাঁর কাছে দুয়া করলে আল্লাহ সবচাইতে বেশি খুশি হন, এবং বান্দার দুয়া কবুল করে নেন। ইসমে আযমের উসীলা দিয়ে কোন দুয়া করলে আল্লাহ সেই দুয়া কবুল করে নেনঃ নবী (সাঃ) এক ব্যক্তিকে নামাযে তাশাহুদ ও দুরুদের পরে সালাম ফিরানোর আগে (দুয়া মাসুরা পড়ার সময়) এই দুয়া পড়তে শুনলেন। নবী (সাঃ) সাহাবাদেরকে বললেন, তোমরা কি জানো সে কিসের দ্বারা দুয়া করেছে? সাহাবারা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভালো জানেন। তিনি বললেন, সেই মহান সত্ত্বার কসম যার হাতে আমার প্রান, নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তাঁর “ইসমে আযম” বা সুমহান নামের উসীলায় দুয়া করেছে। “ইসমে আযমের” উসীলায় দুয়া করলে আল্লাহ সেই দুয়া কবুল করে নেন, আর কোনো কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। আবু দাউদ, নাসায়ী, আহমাদ, বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ, ত্বাবারানী ও ইবনে মান্দাহ “আত-তাওহীদ” গ্রন্থসহ (৪৪/২, ৬৭/১, ৭০/১-২), , আল্লাহ্ চাইলে সবকিছু করতে পারেন । তাইবলে তিনি আপনাকে অমরত্ব দিবেননা । আল্লাহর কাছে চাইবেন আপনার সাধ্য, আপনার যোগ্যতা মাফিক এবং সীমার মধ্যে ।
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ সেই সত্তার কসম! এই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে এমন ইসমে আজমের মাধ্যমে দুআ করছে যার ওয়াসীলায় দুআ করা হলে আল্লাহ তাআলা কবুল করেন এবং যার ওয়াসীলায় যাঞ্ছা করা হলে তিনি দান করেন। (তিরমিজীঃ ৩৪৭৫)
জনাব! আল্লাহর কাছে অবাস্তব যেমনঃ আমাকে অতিদ্রুতই বাংলাদেশের সেরা ধনী বানিয়ে দিন। এমন চাওয়া হতে রাসুল (সাঃ) নিষেধ করেছেন।
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য তিনটি বস্তু পছন্দ এবং তিনটি বস্তু অপছন্দ করেছেন, তা হলো সমালোচনা অথবা শোনা কথায় কান দেয়া, অধিক চাওয়া এবং মাল-সামান নষ্ট করা। (মুসলিম সংক্ষিপ্ত)
সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য, তিনি প্রতিটি বিষয়ে ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি কিছু দিতে আগ্রহী হলে কেউ তা ঠেকানোর মতো নেই আর তুমি না দিলে কেউ তা দেয়ার মতো নেই। কোন মর্যাদাবানের মযার্দা তোমার কাছে কোন উপকারে আসে না। নবী করীম (সাঃ) অনর্থক ও উদ্দেশ্যহীন বাক্যলাপ করতে, ধন-সম্পদ নষ্ট করতে এবং অধিক চাওয়া হতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম আংশিকভাবে লেখা)