আমার মেয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী। সে বেপর্দা চলাফেরা করে জিন্স, টপস, থ্রি পিস এসব পরে। থ্রি পিস পরে এভাবে সে ওড়নাটা গলাতেই পিছিয়ে রাখে মাথায় ব্যবহার করে না। বাড়িতে নাটক-সিনেমা দেখতে থাকে, গান-বাজনা শুনতে থাকে। স্কুল, কোচিং-এ গেলে ছেলে বন্ধুদের সাথে মিশতে থাকে। তাকে বুঝিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না, সে কথা শোনে না। এমন অবস্থায় আমি দাইয়্যুস হওয়ার আশঙ্কা করছি। দাইয়্যুস হওয়াকে নিয়ে ভয় পাচ্ছি। কোন ভাবেই মানতে পারছি না অন্য কোন গুনা নয়, দাইয়্যুসের জন্য জাহান্নামে যেতে হবে। এমন অবস্থায় আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি মেয়েকে ত্যাজ্য কন্যা করে দিব, তার সাথে সম্পর্ক ছেদ করে বাড়ি থেকে বের করে দিব। এ কাজটা শরীয়তে অনুমোদন দেয় কিনা এটা আমি জানতে চাচ্ছি?? আর একটা কথা বলে রাখি: হয়তো আপনারা বলবেন মেয়েকে বুঝিয়ে যেতে কিন্তু হতে পারে আমি আজকে রাতেও মারা যেতে পারি। তাহলে মারা যাওয়ার পর পরই তো আমি দাইয়্যুস হয়ে মরবো। আমাকে কোন মুফতি এ বিষয়টা জানাবেন।
2819 views

3 Answers

অপসংস্কৃতি বিনেদন দেখে দেখে নিজের চরিত্রকে, পোশাক, সাজসজ্জা ইত্যাদি জিনিস গুলা সিনেমার নায়িকা দের মতো গড়াচ্ছে আপনার মেয়ে।উপরোক্ত বর্ননা থেকে যা বুঝলাম। তো কথা হচ্ছে আপনি নিজেই আপনার মেয়েকে খারাপ করার জন্য দায়ি ছোটকাল থেকে ইসলামিক ভাবে গঠন না করলে বড় হয়ে গঠন করাটা অনেক কঠিন।আর আপনি নিজেই টিভি কিনে দিছিলেন দেখার জন্য তার প্রভাবে আজ আপনার মেয়ে টিভি দেখে দেখে তা শিখেছে।যদি আপনি টিভি কিনে না দিতেন তাহলে আজ অতটা খারাপ হতনা।তো এখনো সময় আছে, আপনি আপনার মেয়েকে ইসলামিক স্বীকৃত বোরকা কিনে দিন, এবং তাকে বুঝান।যদি না বুঝ নেয়, তাকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য বলেন যে হয়, তুমি আমার কথা মতে চলবে, নয়তো তোমাকে আমরা সন্তান থেকে বর্জন করব ইত্যাদি ইত্যাদি ভয় দেখান কাজ হবে।আর তাড়াতাড়ি বিবাহ দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

2819 views

পরিবার পরিজন স্বীয় জ্ঞান সম্পন্ন সন্তান-সন্ততি ও আপন সমস্ত অধীনস্থদেরকে আল্লাহর আনুগত্যের আদেশ দেওয়া, তাঁর অবাধ্যতা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা, তাদেরকে আদব শেখানো এবং শরয়ী নিষিদ্ধ জিনিস থেকে তাদেরকে বিরত রাখা ওয়াজিব।  আল্লাহ তাআলা বলেন, তুমি তোমার পরিবারবর্গকে নামাযের আদেশ দাও এবং ওতে অবিচলিত থাক। (সূরা ত্বাহা আয়াতঃ ১৩২) তিনি আরো বলেন, অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা কর অগ্নি হতে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম-হৃদয়, কঠোর-সবভাব ফিশিতাগণ, যারা আল্লাহ যা তাদেরকে আদেশ করেন তা অমান্য করে না এবং তারা যা করতে আদিষ্ট হয় তাই করে। (সূরা তাহরীম আয়াতঃ ৬) আপনার সন্তান কি এসব কথা বোঝেনা? না বুঝলে তাকে প্রহার তথা মার-ধর করুন।  এতে-ও যদি অবাধ্য থেকেই যায় তাকে ত্যাজ্যপুত্র করবেন কি? না। মুসলিম আইন অনুযায়ী কাউকে ত্যাজ্যপুত্র করা বা মৃত্যুর সময় অসিয়তের মাধ্যমে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হারাম এবং অবৈধ। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। যেহেতু আপনার মেয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী। বয়স পনের এর কাছাকাছি বিবাহের বয়সে উপনীত হয়েছে কিনা তা আপনারাই ভাল বুঝবেন যদি বয়স হয়ে থাকে তাহলে বিবাহ দিয়ে দিন। হাদিসে এসেছে, তোমাদের মাঝে যার কোন পুত্র বা কন্যা সন্তান জন্ম হয় সে যেন তার সুন্দর নাম রাখে এবং তাকে উত্তম আদব কায়দা শিক্ষা দেয়। যখন সে বালেগ অর্থাৎ সাবালক সাবালিকা হয়, তখন যেন তার বিয়ে দেয়, যদি সে বালেগ হয় এবং তার বিয়ে না দেয় তাহলে, সে কোন পাপ করলে উক্ত পাপের দায়ভার তার পিতার উপর বর্তাবে। (মিশকাতঃ যঈফ) [একজন মুফতির কাছ থেকে বিষয়টা জানতে চাইছিলেন! মুফতি না হয়েও কিছু পরামর্শ দেওয়ার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত]

2819 views

চেষ্টা চালিয়ে যান। উপর ওয়ালা আপনার মনের খবর ভাল করে জানেন। সুতরাং মেয়ের উপর হক যথাযথ ভাবে পালন করলে আশাকরি আপনি জবাবদিহি করতে পারবেন।

★★★(মুফতি না হয়েও সংক্ষিপ্ত পরামর্শ দেওয়ার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃক্ষিত)।

2819 views

Related Questions