আল্লাহ কী দয়ালু?
আল্লাহকে বিশ্বাস না করলে অথবা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করলে মৃত্যুর পর স্থান হবে জাহান্নাম। এখন দেখেন বেশির ভাগ মানুষই ধর্ম নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা করতে অপারগ। সে বাপ দাদার যে ধর্ম পায় সেটায় বিশ্বাস করে। আসলে পারিবারিক ধর্ম থেকে অন্য ধর্মে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন। শুধু ধর্ম না, ধর্মের এক শাখা থেকে অন্য শাখায়ও যাওয়া কঠিন। আপনি সুন্নি হলে শিয়া হতে যাবেন না, হানাফি হলে শাফেয়ি হওয়াটা কঠিন, মাযহাবি হলে লা-মাজহাবি হওয়া কঠিন এবং সবগুলোই বিপরীতভাবেও সত্য। আপনারা কতজন অন্য ধর্ম নিয়ে, ধর্মের শাখাগুলো নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছেন, লেখাপড়া করেছেন? আবার নিজ ধর্মবিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখে অন্য ধর্ম নিয়ে পড়েও সেটার সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা খুবই মুশকিল।
এখন আপনার বন্ধু দেবেন্দ্র সহজ-সরল একজন চমৎকার মানুষ। তিনি মরে গেলে যাবেন জাহান্নামে। তার অপরাধ তিনি একটি হিন্দু পরিবারে জন্ম নিয়েছেন।আপনিও ধর্মটর্ম নিয়ে খুব একটা ঘাটান না, যা পাইছেন সেটা আমল করেছেন। মারা গেলেন এবং গেলেন জান্নাতে। আপনার সৌভাগ্য হচ্ছে আপনি একটি মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েছেন। তাহলে এই যে একই কারণে আপনার জান্নাতে যাওয়া আর আপনার বন্ধুর জাহান্নামে যাওয়া, এ কোন বিচার? যেখানে কোন পরিবারে জন্ম নেবেন সেটা আপনি বা আপনার বন্ধু কেউ-ই বেছে নেন নি।
জাহান্নাম নিয়ে ভাবি একটু। এই জাহান্নামে থাকবে আগুন, সাপ-বিচ্ছু, খেতে দেয়া হবে গরম পানি, বিষাক্ত জক্কুম। কোরান থেকে পাই- জাহান্নামে পান করানো হবে ক্ষতস্থানের পূজ(৬৯:৩৬)!
যিনি মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দেন তিনি দয়ালু হলেন কিভাবে? একজন সাধারণ বিবেকবান মানুষই যা করবেন না তা করবেন পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহ পাক?
আবার যদি এভাবে বলি, আল্লাহ আরো কঠোর হতে পারতেন, আরো শাস্তি দিতে পারতেন। যেহেতু তা দেন নি তাই তিনি দয়ালু। এর উত্তরে যা বলব, তাহলে সকল নরঘাতক, হিংস্র খুনি আসলে দয়ালু কারণ তারা এর চেয়ে বেশি খুন করতে পারত, আরো বেশি হিংস্র হতে পারত।
এরপর যদি বলা হয় আল্লাহর নিয়ামতের কথা। আল্লাহ আমাদের খাদ্য দিয়েছেন, পানি দিয়েছেন, বাতাস দিয়েছেন। তাহলে যা বলব, পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষকে এমনকি মুসলমানদেরও বড় অংশকে জাহান্নামে পুড়িয়ে শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থার কাছে এসব সাময়িক নিয়ামত নস্যি মাত্র।
আল্লাহ কি ন্যায়বিচারক?
আধুনিক সময়ে বিচারের দর্শন বেশ মানবিক। কেউ অপরাধী হলেই আদালত তার উপর প্রতিহিংসা বশত কিছু করেনা। বরং কেউ অপরাধ করলে ধরে নেয়া ঐ অপরাধী লোকটির কৃত অপরাধ শুধু তার অপরাধ নয়, এতে অন্যদের ও সমাজের দায় আছে। একজন সিঁদেল চোরকে ভাল পরিবেশে রাখলে, উত্তম শিক্ষার ব্যবস্থা করলে সে হতে পারত ভিন্ন এক মানুষ। যে মানুষ এক দেশে জন্ম নেয়ায় অপরাধী সে হয়ত অন্য দেশে জন্ম নিলে মহান এক মানুষ হত। তাই কেউ অপরাধ করলে আদালত তার সংশোধনের ব্যবস্থা করে। সে জেলে থাকবে, সংশোধন হবে, তার উপর শারীরিক কোনো নির্যাতন চালানো হবেনা। উন্নত দেশে অপরাধীরা যাতে নিজেকে সংশোধন করে নেয়, ভবিষ্যতে একই অপরাধ আর না করে সেজন্য অনেক ব্যবস্থা নেয়া হয়।
কিন্তু আল্লাহ পাক কী করবেন? তিনি আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দিবেন। এ শাস্তি দেয়ারও কোনো অর্থ নেই। কারণ মৃত্যুর পর সংশোধনের কোনো সুযোগ নাই। অসীম কাল ধরে কাফেরদের আগুনে পুড়ানোর শাস্তি দিয়ে কী লাভ?
আল্লাহ কি উত্তম রিজিকদাতা?
এবার আসি রিজিকদাতা(রাজ্জাক্ব) প্রসঙ্গে। আমি নিজে দেখেছি মানুষ ডাস্টবিন থেকে খাদ্য নিয়ে খাচ্ছে। আশি কোটির উপরে মানুষ অনাহারে ভুগছে। খেতে না পেরে ও অখাদ্য-কুখাদ্য খেয়ে প্রতিদিন ২১ হাজার মানুষ মারা যায়। ইতিহাসে অনেকগুলো দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে জানা যায় যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ না খেতে পেরে মরেছে। এই হচ্ছে উত্তম রিজিকদাতার অবস্থা! আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার প্রচলন না হলে, উন্নত জাতের শস্যের উদ্ভব না হলে, বিজ্ঞানের অগ্রগতি না হলে বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ অনাহারেই মারা যেত। মানুষকে টিকিয়ে রেখেছে বিজ্ঞান! অথচ মুহাম্মদের কোরানে ঘোষণা করা হয়েছে, আল্লাহ নাকি উত্তম রিজিকদাতা!
এভাবে আল্লাহর সবগুলো গুণ বা বৈশিষ্ট্য নিয়ে আপত্তি তোলা যায়। এর মানে হচ্ছে আল্লাহ বলতে কিছু নাই, আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পূর্ণ অসম্ভব। যদিও কোনো প্রমাণ নেই তারপরও জগতের নিয়ন্ত্রক কেউ থাকলেও তিনি আল্লাহ নন, তিনি কোনো ধর্ম দেন নাই এবং মানুষের স্বীকৃতি, স্তুতি, প্রশংসা বা উপাসনার কোনো প্রয়োজন তার নেই, এবং ব্যাপারটা খুবই স্বাভাবিক। এগুলোর প্রয়োজন হলে হাজার বছর আগে কোনো বকরির রাখালের সাথে কানাকানি না করে তিনি নিজেই আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারতেন। আমাদের অবোধগম্য কোনো কারণে হয়ত তিনি এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন।
ইসলাম ভিন্ন অন্য ধর্মের ক্ষেত্রেও উপরের সকল কথাই প্রযোজ্য, একটু ভিন্নভাবে বলতে হবে এই যা। শুধু ইসলাম নয়, সকল ধর্মই বানোয়াট। ধর্মে বিশ্বাস নিজের যুক্তিবোধ ও বিবেকবোধের সাথে প্রতারণা করা ছাড়া আর কিছুই নয়।