আমি যে কোনো মতেই আমার বন্ধুর নিকট ভালো হতে পারিনা।দুজনেই যেন অল্পেই রেগে যাই?
3 Answers
এটা খুবই বাজে একটা অভ্যাস । এটা মোকাবেলার জন্য নিজেকে প্রশ্ন করুন *কেন* । আর এটাই হলো উপায় এই বদ অভ্যাস কাটানোর
★বন্ধু নির্বাচনঃ
ইমাম আলী (রাঃ) একদিন কুফায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে এক ইহুদির সাথে দেখা। ঐ ইহুদি লোকটিও কুফার দিকেই যাচ্ছিলো। ইহুদি লোকটি হযরত আলী (রাঃ) কে চিনতো না এবং জানতোও না যে, তিনিই মুসলমানদের খলীফা। কিন্তু একই গন্তব্যের যাত্রী যেহেতু, সেজন্য আলী (রাঃ)-এর সাথেই যাচ্ছিলো। যেতে যেতে একসময় দুজনের মাঝে কিছু কথা-বার্তা হলো। কথা বলতে বলতে একটি তেমোহনীতে এসে পৌছলো। সেখান থেকে একটি রাস্তা চলে গেছে কুফার দিকে আর আরেকটি চলে গেছে আশে-পাশের কোনো এলাকার দিকে। ইমাম আলী (রাঃ) ঐ তেমোহনীতে এসে কুফার পথে পাড়ি না জমিয়ে অপর পথে অগ্রসর হয়ে ইহুদি লোকটিকে সঙ্গ দিলেন। ইহুদি লোকটি জানতে পেরেছিলো যে, তার সঙ্গী অর্থাত্ আলী (রাঃ) কুফায় যাবেন। এখন ভিন্ন পথে যাচ্ছে দেখে জিজ্ঞাসা করলো, "তুমি না বলছিলে কুফায় যাবে?" ইমাম বললেন, "হ্যাঁ, বলেছি।" ইহুদি লোকটি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, "তুমি তো কুফার পথ চেনোই, তাহলে আমার সাথে আসছো কেনো?" ইমাম জবাবে বললেন, "আমরা চলার পথে বন্ধু হয়েছি। বন্ধুত্বপূর্ণ সফরের শুভ পরিসমাপ্তির জন্যই তোমার সাথে যাচ্ছি। কেননা, আমাদের নবী (সাঃ) বলেছেন,
পথিক বন্ধুর প্রতি সম্মান দেখানোর স্বার্থে বিচ্ছিন্ন হবার সময় কিছুটা পথ বন্ধুকে সঙ্গ দেওয়া উচিত অর্থাত্ তাকে কিছুটা পথ এগিয়ে দেয়া উচিত। ইহুদি লোকটি জিজ্ঞাসা করলো, "সত্যিই তোমাদের নবী এরকম বলেছেন?" ইমাম বললেন, "হ্যাঁ।" ইহুদি লোকটি ইমাম আলী (রাঃ)-এর চিত্ত্বাকর্ষক এই আচরণ আর নৈতিকতায় মুগ্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত মুসলমান হয়ে যান। সুবহানাল্লাহ্।
★মরহুম আইনুদ্দীন আল আজাদ গেয়েছেনঃ
"বন্ধু,
ভুলে যেও না কখনো।
যেখানেই থাকো
যেভাবেই থাকো
মনে রেখো
আমিও আছি তখনো।"
★বন্ধুঃ
"বন্ধু বলে ডাকো যারে
সে কি তোমায় ভুলতে পারে?
যেমন ছিলাম তোমার পাশে
আজো আছি ভালোবেসে।"
★মুমিনরা যেনো অন্য মুমিনকে ছেড়ে কোনো কাফেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করে। যারা এমনটি করবে, আল্লাহ্ তাদের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখবেন না।
(সূরাঃ আল-ইমরান, আয়াতঃ ২৮)
★রাসূল (সাঃ) বলেন, "পৃথিবীতে যার সঙ্গে যার বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা রয়েছে, পরকালে তার সঙ্গে তাঁর হাশর-বিচার হবে।"
★ইমাম গাজ্জালি (রহঃ) বলেন, "সবাইকে বন্ধু হিসেবে নির্বাচন করা যাবে না। বরং ৩টি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান, তাকে বন্ধু হিসেবে নির্বাচন করতে হবেঃ
১◆বন্ধুকে হতে হবে জ্ঞানী ও বিচক্ষণ।
২◆বন্ধুর চরিত্র হতে হবে সুন্দর ও মাধুর্যময়।
৩◆বন্ধুকে হতে হবে নেককার ও পূণ্যবান।"
★আল্লামা শেখ সাদী (রহঃ) বলেন,
"সত্ সঙ্গে স্বর্গবাস
অসত্ সঙ্গে সর্বনাশ।"
★হযরত আলী (রাঃ) বলেন, "সেই তোমার সত্যিকার বন্ধু, যে তোমার সঙ্গে থেকে তোমার কল্যাণের জন্য নিজের ক্ষতি করে। দৈব-দুর্বিপাকে পড়ে তোমার অবস্থা শোচনীয় হলে সে নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে তোমাকে সুখ দান করে।"
★হযরত ইমাম জাফর আস সাদিক (রহ:) বলেন, "৫ ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করো নাঃ
১◆মিথ্যাবাদী
২◆নির্বোধ
৩◆কৃপণ
৪◆কাপুরুষ
৫◆ফাসেক ব্যক্তি।"
★মহান আল্লাহ্ বলেন, "হে মুমিনরা, তোমরা ইহুদি-নাসারাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না, কারন তারা পরস্পরে বন্ধু।"
★লোকমান হাকিম বলেন, "প্রয়োজনের মুহূর্ত ছাড়া বন্ধুকে চেনা যায় না।"
★ঈমানদার একে অপরের বন্ধু। তারা পরস্পরকে ভালো কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠিত করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবনযাপন করে। তাদের ওপর আল্লাহ্ তা'আলা অনুগ্রহ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পরাক্রমশালী ও সুকৌশলী।
(সূরাঃ আত-তওবা, আয়াতঃ ৭১)
★রাসূল (সাঃ) বলেন, "একাকী নিঃসঙ্গতার চেয়ে ভালো বন্ধু উত্তম আর নিঃসঙ্গতা মন্দ বন্ধুর চেয়ে উত্তম।"
★যারা খারাপকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে, কুরআন বলেছে, হাশরের ময়দানে তারা বলবে, "হায়! আমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম।"
★মাওলানা জালালউদ্দীন রুমী (রহঃ) বলেন, "অসত্ বন্ধু থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকো। কেননা, সে যে বিষধর সাপের চেয়েও ভয়ঙ্কর। মনে রেখো, বিষধর সাপ শুধু তোমার প্রাণে আঘাত করে, কিন্তু অসত্ বন্ধু ছোবল মারে প্রাণের সাথে ঈমানের উপর।"
★ইমাম হাসান মুজতবা (রহঃ)-এর একজন ভক্ত তাঁর বন্ধু হতে চাইলে তিনি বলেন,
"১◆আমার বন্ধু হতে চাইলে আমার গুণকীর্তন করতে পারবে না, কারন আমি নিজের ব্যাপারে ভালোভাবেই সচেতন।
২◆কখনো আমাকে মিথ্যা বলবে না, কারন মিথ্যার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
৩◆একইভাবে আমার কাছে কারো ব্যাপারে গীবত করতে পারবে না।"
★ইমাম আলী (রাঃ) বলেন, "সবচেয়ে মন্দ লোক সে-ই, যে নিজের ভুল স্বীকার করতে রাজি নয়।"
★হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও।
(সূরাঃ আত-তওবা, আয়াতঃ ১১৯)
★হযরত আলী (রাঃ) বলেন, "নির্বোধের বন্ধুত্ব থেকে দূরে থাকো। কারন সে উপকার করতে চাইলেও তার দ্বারা তোমার ক্ষতি হয়ে যাবে।"
★রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেন, "মানুষ তার বন্ধুর ধর্ম (স্বভাব-চরিত্র) দ্বারা প্রভাবিত। সুতরাং সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে, তা যেনো অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে নেয়।"
★সঙ্গ দেখে লোক চেনা যায় (A man is known by the company he keeps).
★মনে রাখবেনঃ "আপনার হয়তো অনেকগুলো ভালো বন্ধু রয়েছে, কিন্তু একটিমাত্র খারাপ বন্ধুর সংস্পর্শই আপনাকে শেষ করে দিতে পারে। তাই বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হোন।"
★আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে ভালো ও নেক বন্ধু নির্বাচন করার তাওফীক দান করুন। আমিন।
আপনি আপনার যেকোন বন্ধুর নিকট প্রিয় হতে পারবেন- *বন্ধুর প্রশংসা করা *বন্ধু যেকোন বিষয়ে কথা বলুক বিরুদ্ধে যাবেন না সহমত পেষন করুন *দেখা হলেই কুশল বিনিময় *বন্ধুর পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা না করাই ভালো *বন্ধু রেগে গেলেও নিজেকে নিয়ন্ত্রন রাখতে হবে ফলে বন্ধুত্ব বজায় থাকবে