1 Answers
অনেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে বল প্রয়োগ মতবাদকে সমর্থন করলেও টি এইচ গ্রীন তাঁদের বিরোধিতা করে বলেন শক্তি নয় ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি।
ব্যাখ্যাঃ বল বা শক্তি প্রয়োগ উগ্র এবং একান্ত জাতীয়তাবাদ তৈরি এবং সেই সাথে যুদ্ধ বিক্ষুব্ধ অশান্ত পরিবেশের সৃষ্টি করে। শক্তির দম্ভ দেখিয়ে হিটলার, মুসোলিনি, আয়ুব খান প্রত্যেকেই ইতিহাসে ঘৃণিত হয়েছে। বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতাকে মানুষ আজও ভুলে যায়নি। শক্তির দাম্ভিকতা প্রতিহত করে বিশ্বব্যাপী শক্তির বাতাবরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে গড়ে উঠেছে জাতিসংঘ। যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসী আজ সোচ্চার হয়ে উঠেছে। সুতরাং কোনো ভাবেই বল প্রয়োগ বা শক্তির দম্ভ রাষ্ট্র সৃষ্টির ভিত্তি হতে পারে না।
বলপ্রয়োগ মতবাদীদের মতে, রাষ্ট্র বলপ্রয়োগের ফলে সৃষ্টি হয়েছে এবং বলপ্রয়োগের উপর ভিত্তি করেই টিকে আছে। কিন্তু একথা ঠিক নয়। কারণ শক্তির জোরেই যদি রাষ্ট্র সৃষ্টি হতো তাহলে প্রচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত বৃহৎ শক্তির পাশাপাশি সামরিক শক্তিতে দুর্বল রাষ্ট্রগুলো বিশ্বে টিকে থাকতে পারতো না। তাছাড়া বলই যদি রাষ্ট্রের উৎপত্তির প্রধান উৎস হতো তাহলে বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের মধ্যে সার্বক্ষণিক শক্তির সংঘর্ষ চলত। কিন্তু বর্তমানে দেখা যায় শক্তিশালী বৃহৎ রাষ্ট্রের পাশে অনেক ক্ষুদ্র ও দুর্বল ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের অস্তিত্বও রয়েছে। শুধু শক্তি রাষ্ট্রের জনগণকে বেশিদিন সুসংগঠিত রাখতে পারে না। রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে জনগণের ইচ্ছার উপর। এতে বোঝা যায় জনগণের সম্মতি বা ইচ্ছা শক্তির ফলেই রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে।
সুতরাং বলা যায় শক্তি নয় ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy