শরীয়াতের দৃষ্টিতে রোজা কি হবে না কি কাফফারা দিতে হবে ?
আমার ভীষণ সমস্যা। রোজায় আমার পরীক্ষা চলছে, গত কিছুদিন আগে যখন পরীক্ষা দিচ্ছিলাম হঠাৎ খেয়াল করলাম সময় প্রায় শেষ অথচ আমার আরো ২টা বড় প্রশ্ন উত্তর দেওয়া বাকী আছে। আমি তড়িগড়ি করে লিখতে লাগলাম, যেহেতু সময় খুব অল্প ছিল স্যাররা খাতা নেওয়া শুরু করে দিয়েছে, আমার মনে হচ্ছিল আমি নিশ্চিত ফেল করব। এমন অবস্থায় শাররীক ও মানসিকভাবে আমি খুবই উত্তেজিত হয়ে গেলাম শুধু পরীক্ষায় ফেল করার টেনশনে। হঠাৎ লিখা অবস্থাতেই খেয়াল করলাম আমার বীর্যপাত হতে চাচ্ছে। অনেক চেষ্টা করেও বীর্যপাত থামাতে পারলাম না, পরীক্ষার হলেই বীর্যপাত হলো। এরকম ঘটনা আমার সাথে প্রায় ৩/৪ বার বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতিতে ঘটেছে। উল্লেখ্য আমার ৫/৬ বছর পূর্বে হস্তমৈথুনের অভ্যাস ছিল, কিন্তু এখন সব বাজে চিন্তা ও কাজ বাদ দিছি। প্রশ্ন হলো আমার তো অনাকাঙ্খিত বীর্যপাত হয়েছে, রোজা কি হবে? না কি কাফফারা দিতে হবে। দিতে হলে কি পরিমাণ দিতে হবে। শরীয়তের দৃষ্টিতে কেউ জেনে থাকলে দয়া করে জানাবেন।
1 Answers
সেহরী খাওয়ার পর কারো অনাকাঙ্খিত বীর্যপাত হলে রোযা ভাঙ্গবে না। কারণ অনাকাঙ্খিত বীর্যপাত রোযাদারের অনিচ্ছায় ঘটে থাকে। সে ব্যক্তি এক্ষেত্রে অপারগ।
যেহেতু আপনার অনিচ্ছায় এ কাজটি হয়েছে। যে কোনো আমলের মধ্যে যদি ইচ্ছেকৃত বিষয় না থাকে বা অনিচ্ছাকৃত কোনো আমল বান্দার কাছ থেকে হয়ে যায়, এটা যদি সিয়াম ভঙ্গকারী হয়ে থাকে, তাহলে এর মাধ্যমে সিয়াম নষ্ট হয় না।
অনাকাঙ্খিত বীর্যপাতের কারনে কাফফারা দিতে হবে না। কোনো সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান ইচ্ছাকৃত রমজানের রোজা না রাখলে বা অনিচ্ছায় ভেঙ্গে ফেললে অথবা কোনো ওজরের কারণে ভেঙ্গে ফেললে পরে ওই রোজার কাজা আদায় করতে হবে।
যেসব কারণে কাফফারা দিতে হয় : শরিয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃত পানাহার বা সহবাসের মাধ্যমে রমজানের রোজা ভেঙ্গে ফেললে তার কাজা ও কাফফারা অর্থাৎ লাগাতার ৬০ দিন রোজা রাখতে হবে। পানাহার ও সহবাস ছাড়া অন্য পদ্ধতিতে ইচ্ছাকৃত ভাঙ্গলেও কাফফারা দিতে হবে না, তবে কাজা করতে হবে। (মাবসুতে সারাখসি : ৩/৭২)।
অনেক আলিমগনের মতে কাফফারা শুধু সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ করলে সেক্ষেত্রে ফরজ হয়। তাকে তার কৃতপাপের জন্য তওবা করতে হবে।