আসসালামু আলাইকুম । আমি আগামিকাল ২০/০৮/২০১৮ তে সকাল ১১ টা বাজে নিজের গ্রামের বাড়ির উদ্যেশে রউনা দিব , এখন আমার নামাজ আদায় নিয়ে অনেক সমস্যা হচ্ছে । আমার এই প্রশ্নের গুলোর উত্তর দিন ।  ট্রেনে যেহেতু ভিড় হবে তাই ট্রেনে নামাজ পড়া সম্ভব নই , আর যেহেতু সকাল ১১.০০ বাজে বাসা থেকে বের হবো তখন তো আমি জহর এর নামাজ ও পড়তে পারবো না । আমার হিসাব মতে আমি আমার বাসায় রাত ১১-১২ টাতে বাসায় পোঁছাব , তাহলে তো আমার জহর , আসর , মাগরিব , এসা নামাজ বাদ যাবে এই গুলার ঘাতটি কিভাবে পূরণ করবো ? এখন আমার ৩ টি প্রশ্ন মাথায় জাগছে ঃ  ১. আমার যে ৪ অয়াক্তের নামাজ বাদ গেল এই গুলা কি একসাথে কাজা করতে পারব ? নিয়ম আছে কি ? ২. আমি কসর সালাতের নাম শুনেছি , যেহেতু আমি নিজ দেশের বাড়ি জাচ্ছি , আমই কসর করতে পারব ? ৩. আমি আমার নামাজ এর ঘাটতি কিভাবে পূরণ করবো ।
2955 views

3 Answers

আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর হল আপনি যে ওয়াক্ত সমূহের নামাজ কাজ্বা করেছেন তা ধারাবাহিক ভাবে আদায় করবেন যেমন যোহরের ওয়াক্ত থেকে নামাজ আদায় না হলে আপনি প্রথমে যোহর তারপর আসর এভাবে পর্যায় ক্রমে আদায় করবেন  দ্বিতীয়ত  হল কসর নামাজ শুধু মুসাফিরদের জন্য আপনি যদি ৪৮ মাইল বা তারথেকে দূরে যাত্রা করেন এবং কমপক্ষে ৩দিন ৩রাত অবস্থান করার নিয়তে সফর করেন তাহলে (আপনি মুসাফির গন্য হবেন ) কসর করতে পারবেন এর বেশি হলে কসর জায়েজ নেই  তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর হল আপনি কাজ্বা নামাজের দ্বারা আপনার নামাজের ঘাটতি পূরন করবেন 

2955 views

নামাজ কাযা হবে কখনো এইটা ভাববেন না যেভাবেই হোক চেষ্টা করবেন। গাড়ীতেও নামাজ পরতে পারবেন। যদি তা না হয় তাহলে প্রত্যেক ওয়াক্ত শেষে যে ওয়াক্তগুলো কাযা হয়েছে ওই ওয়াক্তে কাযা নামাজের নিয়ত করে পড়বেন।

2955 views

প্রথম কথা হলো, আপনি ট্রেনে নামাজ পড়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন। ওযুর ব্যবস্থা না থাকলে তায়াম্মুম করে নিবেন। ট্রেনে অনেক ধুলো বালু থাকে। সে ধুলো বালুতে হাত মেরে খুব সহজেই তায়াম্মুম করে নিতে পারবেন। দাঁড়ানো ও পরিপূর্ণ রুকু সেজদা করা সম্ভব না হলেও যতটুকু সম্ভব নামাজ আদায় করে নিবেন। তবে পরিপূর্ণ দাঁড়ানো ও রুকু সেজদা সম্ভব না হলে পুনরায় এ নামাজ পড়ে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত আপনি যদি রাত ১১/১২টায় বাড়িত পৌঁছেন তাহলে ঈশার নামাজ আদায় করতে পারবেন। তখন শুধু আপনার তিন ওয়াক্ত নামাজ কাযা থেকে যাবে। এবার আসুন আপনার মূল প্রশ্নে। ১। কাযা নামাজ একসাথে ও আগে পরেও আদায় করা যায়। এতে কোনো সমস্যা হবে না। ২। ৭৮ কি.মি. দূরত্বে সফরকালীন পথে কসর পড়তে পারবেন। আপনি আপনার বাড়িতে পৌঁছে গেলে কসর করতে পারবেন না। পুরো নামাজ পড়তে হবে। তবে অন্য কোথাও গেলে ১৫ দিনের কম থাকার ইচ্ছা করলে তখন কসর করা যাবে। তবে আপনার বাড়ির দূরত্ব যদি ৭৮ কি.মি. হয় তাহলে পথে আপনার কাযা নামাজগুলো যখন কাযা পড়বেন তখন সেগুলো কসর পড়তে হবে। কারণ আপনার কসর নামাজ কাযা হয়েছে। সুতরাং কসর হিসেবেই তা কাযা করতে হবে। ৩। আপনি আপনার সবটুকু চেষ্টা সাধনা করার পরও যদি নামাজ কাযা হয়ে যায় তাহলে পরবর্তীতে কাযা করে নিলেই তার ঘাটতি পূর্ণ হয়ে যাবে। তবে যদি অলসতা কিংবা অবহেলার কারণে নামাজ কাযা হয়ে যায় তাহলে শুধু কাযা করলেই হবে না; এর জন্য আল্লাহর দরবারে তাওবা করতে হবে।

2955 views

Related Questions