1 Answers
অতিরিক্ত রাগ মানসিক সমস্যা আমরা যখন রেগে যাই, তখন এড্রেনালিন ও অন্যান্য হরমোন নিঃসৃত হতে থাকে, যার ফলে রক্তচাপ বাড়তে থাকে। সেই সাথে শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি দ্রুত হয়ে পড়ে ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। ফলে ব্যক্তি রাগের বশে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় রাগান্বিত ব্যক্তি নিজেকে বিদ্বেষপূর্ণ ও প্রতিকূল পরিবেশের শিকার বলে বিবেচনা করতে থাকে।
অনেকেই রাগ বা ক্রোধকে একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। হাসি-কান্নার মত রাগ মানুষের একটি স্বাভাবিক আবেগ বা অনুভূতি। ব্যক্তি যখন কোনো হুমকি বা ভীতির সম্মুখীন হয় তখন সে এই পরিস্থিতিতে রাগ প্রদর্শন করে থাকে যা খুবই স্বাভাবিক একটি প্রতিক্রিয়া। এমনকি আমাদের বিভিন্ন কাজের পেছনে রাগ বা ক্রোধ একটি ইতিবাচক প্রভাবক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ব্যক্তির নিজের উপর। রাগের পরিমান মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে ও তা ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এটি অন্য কোনো মানসিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
অতিরিক্ত রাগের কারণ কি?
হতাশা, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, সাইকোটিক ডিজঅর্ডার, উদ্বেগ ইত্যাদি সমস্যার কারণে ব্যক্তি অতিরিক্ত রাগের শিকার হতে পারেন।
হেলথ টিপসঃ
মাত্রাতিরিক্ত রাগ ও আক্রামণাত্মক আচরণ এড়িয়ে চলতে করণীয়ঃ
রাগ প্রকাশের আগে কিছুক্ষণের জন্য সময় নিয়ে শান্ত হতে হবে। এক্ষেত্রে ১-১০ পর্যন্ত গণনা করুন ও ধীরে ধীরে শান্ত হওয়ার চেষ্টা করুন।
যেসকল কারণে ব্যক্তি রাগান্বিত হয়ে পরে তা এড়িয়ে চলতে হবে। দৈনন্দিন যেকোনো সমস্যা যেমনঃ চাকরির ক্ষেত্রে বা ব্যক্তিগত সম্পর্কে সমস্যা দেখা দিলে ব্যক্তি বিষন্ন ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে যার ফলে রাগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
রাগান্বিত হওয়ার যেকোনো একটি যুক্তিসঙ্গত কারণ খুঁজে বের করতে হবে। যদি কোনো ব্যক্তির আচরনের কারণে রাগ হয় তবে এ ক্ষেত্রে নিজেকে সংযত রাখতে হবে।
যেসকল পরিস্থিতিতে ব্যক্তি রাগান্বিত হয়ে পড়ে তা এড়িয়ে চলতে হবে।
রাগ নিয়ন্ত্রণ বা প্রকাশের জন্য অন্যকোনো উপায় বের করতে হবে। যেমনঃ ছবি আঁকা, গান শোনা, জগিং ইত্যাদি।
রাগান্বিত অবস্থায় নিজেকে মূল্যায়নের জন্য অন্যের দোষত্রুটি না দেখে নিজের দোষত্রুটির উপর জোড় দিতে হবে।
এছাড়াও যেসকল বিষয়ের প্রতি যত্নশীল হতে হবে সেগুলো হলোঃ
নিয়মিত ব্যায়াম বা অনুশীলন করতে হবে।
নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে।
প্রতিদিন ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।
মদ্যপান ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে।
মানসিক প্রশান্তির জন্য মেডিটেশন বা যোগব্যায়াম করতে হবে।
অতিরিক্ত রাগ এক ধরনের মানসিক ব্যাধি। নিজেকে সময় দিন। কেন অতিরিক্ত রেগে যাচ্ছেন সেই কারণ খুঁজে বের করুন। সব সময় মনে রাখবেন, অতিরিক্ত রাগ সব দিক থেকেই আপনার ক্ষতি।
2776 views
Answered
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy