3 Answers
আগ্রহ থাকলে যেকোনো কাজে মনোযোগ এমনিতেই আসে। অর্থাৎ আপনাকে জানতে হবে যে, কেন এই কাজটা গুরুত্বপূর্ণ।
সেই সাথে কোয়ান্টাম মেথড বইয়ে উল্লিখিত ‘দুই মিনিট মনোযোগ’ অনুশীলনটি নিয়মিত করতে পারেন। অর্থাৎ একটি ঘড়িকে সামনে নিয়ে ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটায় একটানা দুমিনিট চোখ রাখা এবং এ সময়ের মধ্যে যতবার মন ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটা ছাড়া অন্যকিছু ভাবতে চেয়েছে সে সংখ্যাটা হিসেব করা। প্রথমদিকে এই সংখ্যাটা খুব বেশি হতে পারে। এমনও হতে পারে যে, দুমিনিটে ২৫ বার মন বিক্ষিপ্ত হয়েছে। কিন্তু নিয়মিত চর্চা করতে করতে একটা সময় এমন হবে যে, দুমিনিটে একবারও মন বিক্ষিপ্ত হচ্ছে না। কারণ নির্দিষ্ট বিষয় থেকে সরে গেলেই মনকে আবার ধরে আনা হচ্ছে। ফলে মনোযোগ বজায় রাখাটাই একটা অভ্যাসে পরিণত হয়। এছাড়া মনোযোগ শূন্যায়নের অনুশীলনীও করতে পারেন যা কোয়ান্টাম মেথড বইয়ে আছে। পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধিতে ছাত্রছাত্রীদের জন্যে এ দুটি পদ্ধতি চমৎকারভাবে কাজ করতে পারে।
আর মনোযোগ বাড়ানোর আরেকটি সহজ উপায় হচ্ছে প্রতিটি বিষয়ে স্বাবলম্বী হওয়া। কারণ একজন শিক্ষার্থী যত স্বাবলম্বী হবে তত সে বাজে কাজ, যেমন টেলিফোন রিসিভ করা, টিভি দেখা ইত্যাদি থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারবে। আমরা এটাকে বলি যে, তত খুচরা শয়তান কম ডিস্টার্ব করবে। যে নিজের কাজ নিজে করে তার প্রত্যেকটা ব্যাপারে মনোযোগ আছে-সে ঠিক জানে মোজাটা খুলে সে কোথায় রাখবে, বইটা সে কোথায় রাখবে; কারণ পরে তাকেই আবার খুঁজে বের করতে হবে।
আবার ধরুন, টিচারের কাছে পড়তে যাবো বা টিচার আসবে ঠিক আছে,কিন্তু আমি আগে একটু দেখে রাখি, এরকম মনোভাব থাকলে এক তো কম সময়ে পড়া যাবে আর দ্বিতীয়ত, টিচারের মনোযোগ আপনার প্রতি বেড়ে যাবে। কেন? কারণ, যাকে ধরেবেঁধে পড়াতে হয় তার প্রতি কিন্তু টিচারের অতটা মনোযোগ থাকে না; কিন্তু যাকে দেখে যে, এ তো অনেক আগ্রহী, এ তো তার পড়া আগে থেকেই করে রেখেছে-তার প্রতি টিচারের মনোযোগ সবসময় বেড়ে যায়।
বেশি বেশি করে বই পড়ার চেষ্টা করবেন।আর মোবাইল,টিভি ও ফেসবুক থেকে দূরে থাকবেন।পড়ালেখায় মনযোগ বাড়াতে হলে আপনাকে দিনে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।আর একটা নিদির্ষ্ট একটা রুটিন তৈরী করবেন সেই রুটিন নিয়মে বই পড়বেন।খেলাধুলা একটি লেখাপড়ার অংশ তাই একটু সময় হলেও খেলাধুলা করবেন মন ভাল থাকবে।আর ভাল বন্ধুতের সাথে মেলামেশা করবেন।বাজারে বা হাটে বেশিক্ষন থাকবেনা ।
কয়েকটি ধাপে মনোযোগ আনার চেষ্টা করুন— এক. স্থির করুন কী পড়বেন। আর তার আগে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করে নিন কেন পড়ছেন। অর্থাৎ পড়ালেখার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে। দুই. যদি ঘুম ঘুম লাগে তবে পড়তে বসবেন না। পত্রিকা পড়ে বা মজার কিছু করে ঘুম তাড়ানোর চেষ্টা করুন। এটা মনে রাখবেন, ঘুম চোখে পড়লে শুধূ সময়ই নষ্ট হবে। কোনো কাজে আসবে না। এর চেয়ে ঘুমানোই ভালো। ঘুম চলে গেলে বই নিয়ে বসে যান। এবার দেখুন মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারছেন। তিন. যা পড়ছেন ভালোভাবে বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন। না বুঝে পড়লে কাজে আসবে না। আরেকটি বিষয় লক্ষ রাখতে হবে, যত অল্প কিংবা বেশি পড়েন না কেন, তা যেন মনযোগ সহকারে হয়। তাই পড়ার পরিবেশটা যেন সুন্দর হয় লক্ষ রাখুন। সুন্দর মানে কিন্তু ব্যয়বহুল নয়। পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সৌন্দর্য অমূল্য। মনোযোগ আপনার বাড়বেই। পড়ায় মন বসাতে যে কাজগুলো করতে পারেন আপনি- ১. লক্ষ্য ঠিক করুন : আপনার লক্ষ্য নিশ্চয়ই ঠিক করাই আছে। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার লক্ষ্যটিকে মনে করে আবার ঝালাই করুন। আপনি চাইছেন এবারের পরীক্ষায় যে করেই হোক একটা আকাক্ষিত পয়েন্টে নিয়ে যাবেন আপনার রেজাল্ট। এই লক্ষ্যে পূরণ করতে একটু নিবিষ্ট হন। দেখবেন আপনার মাঝে একটা জিদের উদ্ভব হয়েছে এবং আপনি আবারো পড়ায় মন দিতে পারছেন। ২. ক্ষুধা নিবারণ করুন : এমন অনেক সময় দেখা গেছে যে অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগলে আর পড়তে মন চায় না। এমনিতেই পড়তে বসলে একটু পর পর ক্ষুধা লাগে। এ ভালোভাবে খেয়াল করে দেখুন আপনার ক্ষুধা লেগেছে কিনা। যদি ক্ষুধা লেগে থাকে তাহলে তা নিবারণ করার চেষ্টা করুন। অর্থাৎ পর্যাপ্ত পরিমাণে আহার করে আবার পড়তে বসুন। দেখবেন এবার আপনার পড়ায় মন বসেছে। ৩. সময় সচেতন হোন : নির্দিষ্ট মানুষের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সময় রয়েছে যে সময়ে পড়া খুব দ্রুত আয়ত্বে আসে। যেমন কেউ অনেক ভোরে পড়েন, কেউ সারাদিন পড়েন. কেউ আবার অনেক রাতে পড়েন। আপনার কোন সময়টাতে পড়া হয় সে সময়ে পড়তে বসুন। প্রয়োজনে একটা রুটিন তৈরি করে নিতে পারেন। যে সময়ে পড়া হয় না সে সময়ে অযথা পড়তে বসে এ্যানার্জি নষ্ট না করে ঘুমিয়ে ব্রেনটাকে বিশ্রাম দিন। ৪. গান শুনুন : গান শুনতে সবারই অনেক ভালো লাগে বিশেষ করে পরীক্ষার সময়ে। যদি এমন হয়ে থাকে যে আপনি হয়ত অনেকক্ষণ ধরে পড়ছেন কিন্তু এমন একটা সময় উপস্থিত যখন আর পড়া মাথায় ঢুকছে না। এমতাবস্থায় আপনি কিছুক্ষণের জন্য গান শুনতে পারেন। এর ফলে আপনি মানসিকভাবে প্রশান্তি পাবেন এবং দেখবেন পড়ায় পুনরায় মনোযোগ ফিরে এসেছে। ৫. ঘুমিয়ে নিন : অনেকক্ষণ ধরে পড়লে মস্তিষ্কে অনেক চাপ পড়ে। ফলে মস্তিষ্ক আর কাজ করতে পারে না। এক্ষেত্রে আপনি যদি কিছুটা সময় ঘুমিয়ে নেন তাহলে ব্রেনের রিফ্রেশমেন্ট হবে। এর ফলে খুব দ্রুত আবার পড়া ক্যাচ করতে পারবে আপনার ব্রেন। এজন্য অতিরিক্ত চাপ কমাতে অবশ্যই কিছুটা ঘুমিয়ে নিন। ৬. মিষ্টি জাতীয় খাবার খান : মিষ্টি জাতীয় খাবার দেহে যাওয়া মাত্র সারা শরীরকে সতেজ করে তোলে। এছাড়া ব্রেনের কাজ করার ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ৭. মেডিটেশন করুন : মেডিটেশন মন ও শরীর দুইই প্রাণবন্ত করে তোলে। মেডিটেশনের ফলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয় এবং কাজ করা ক্ষমতা বেড়ে যায়। এছাড়া মেডিটেশনের ফলে ব্রেন এর রিফ্রেশমেন্ট ঘটে। ফলে পড়া খুব দ্রুত মুখস্ত হয়ে যায় এবং তা বহুক্ষণ মনে থাকে।
((( ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)))
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy