হজম শক্তি বাড়াবো কিভাবে?
4 Answers
এই পাঁচটি কাজ হজম শক্তি বাড়াবে খাবার বেশি চিবিয়ে খান ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার গ্রহণ সংরক্ষিত খাবারকে না বলুন গ্রিন টী পানের অভ্যাস করুন ঝাল বা টক খাবার খান পর্যাপ্ত শাকসবজি খান
হজমের সমস্যায় কম বেশি অনেকেই পড়ে থাকেন।
অনুষ্ঠান বা নিজের বাড়িতে স্বাভাবিকের চেয়ে
একটু বেশি খাবার খেয়ে মাঝে মধ্যেই বিপাকে পড়ে
যান ভোজনরসিকরা। খাবার থেকে পাওয়া মজার
চেয়ে মাসুল গুনতে হয় অনেক বেশি। পেট
ফুলে যাওয়া,
গ্যাসের সমস্যা হওয়া, পেট ব্যথা, বুক ব্যথা, চুকা
ঢেকুরসহ নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এসব
সমস্যা এড়াতে
দরকার সামান্য সচেতনতা। তাই…
খাবার বেশি চিবিয়ে খান
অনেকের অভ্যাস আছে খাবার দুয়েকবার চিবিয়ে
গিলে ফেলা। এতে খাবার হজম হতে খুবই
সমস্যা হয়।
এই কাজটি হজমের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে।
তাই
খাবার খাওয়ার সময় যতো বেশি চিবিয়ে
খাওয়া যায়
হজমের জন্য ততই ভালো।
ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার গ্রহণ
আমাদের হজমশক্তি উন্নত করতে ক্যালসিয়াম
বিশেষভাবে কার্যকর। ক্যালসিয়াম আমাদের
পরিপাকতন্ত্রকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতেও
বেশ
সহায়তা করে।
সংরক্ষিত খাবারকে না বলুন
টিনজাত বা প্লাস্টিকের প্যাকেটজাত সংরক্ষিত
খাবার খেলে হজমে সমস্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা
দেখা দেয়। কারণ খাবারগুলো যখন প্রসেস
করা হয় তখন
অনেক কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এসব
খাবারে হজমের সমস্যা পাশাপাশি পরিপাকতন্ত্রের
কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
গ্রিন টী পানের অভ্যাস
হজমশক্তি বাড়ানো এবং হজমসংক্রান্ত সমস্যা
এড়াতে গ্রিন টী এর তুলনা হয় না।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
সমৃদ্ধ গ্রিন টি হজমশক্তি বাড়ায় এবং
আমাদের
পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
ঝাল বা টক খাবার
মরিচের ক্যাপসাইসিন হজমশক্তি উন্নত
করতে অনেক
বেশি কার্যকর। খাবারে পরিমিত পরিমাণে
ঝাল
দিয়ে খেতে পারলে স্বাভাবিকভাবেই হজমের
সমস্যা
থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাছাড়া প্রতিবেলা
খাওয়া শেষে সামান্য একটু টক জাতীয় কিছু
খেতে
পারলে হজমে দারুন উপকার পাওয়া সম্ভব।
সেজন্য
প্রতিবেলা খাওয়া শেষে একটুকরো তেতুল
খেতে
পারেন।
পর্যাপ্ত শাকসবজি খান
পরিমিত পরিমাণে শাকসবজি খেলে হজমের
সমস্যা
আপনাআপনিই কমে আসে। শাকসবজি
মানুষের দ্রুত
হজম করতে সহায়তা করে। কাঁচা খাওয়া
যায় যেসব
সবজি তাতে হজমশক্তি আরও বেশি উন্নত হয়।
এলাচ
সাধারণত রান্নাতে ভালো গন্ধ হওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয় এলাচকে। কিন্তু হজমের জন্যও ব্যবহৃত হয় এলাচ। এলাচে ভোলাটাইল তেল থাকে। যা গ্যাস এবং বদ হজমের হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়া মুখে দুর্গন্ধ ছাড়লে এবং পেটের আলসার এড়িয়ে চলতে অবশ্যই খেতে পারেন এলাচ। খাবার খাওয়ার পরে এলাচের কয়েকটা দানা নিয়ে খেয়ে নিতে পারেন। এছাড়া লিকার চায়ের সঙ্গে এলাচের দানা মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি যে কোনও পেটের সমস্যা নিরাময়ে সক্ষম।
মৌরি
মৌরি সাধারণত মুখ শুদ্ধি হিসেবে কাজ করে। এটি মুখের মধ্যে থাকা ব্যাকটেরিয়া নির্মূল করে। খালি পেটে মৌরি খেলে গ্যাসট্রিকের সমস্যা দূর করা যায়। এছাড়া হজম শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে মৌরি।
আদা
পেটে ব্যথা হলে এবং গ্যাসের সমস্যার সম্মুখীন হলে অবশ্যই আদা খেতে পারেন। চিকিতসাবিজ্ঞানে আদাকে ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। হজম শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে আদা। সব থেকে বড় ব্যপার সর্দি কাশির ক্ষেত্রেও আদা খুবই উপকারি।
পান
বহু যুগ থেকে ভারতে খাবার খাওয়ার পরে পান খাওয়ার প্রচলন ছিল। কিন্তু তখন মানুষ বেশিরভাগটাই নেশার জন্যই খেয়ে থাকতেন। তবে তাঁরা অজানতে খেলেও এই পান শরীরের হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়াতেও সাহায্য করে। এছাড়া হার্ট ভালো রাখে, গ্যাসের সমস্যা দূর করে, শরীরে খারাপ টক্সিনের পরিমাণ কমিয়ে লিভার ভালো রাখতে সাহায্য করে।
মিছরি
মিছরি জলে মিশিয়ে খেলে অথবা শুধু খেলে পেট ঠান্ডা হয়। ঠান্ডা লাগলেও এই মিছরি খেলে খুব ভালো কাজ হয়। এছাড়া মুখ শুদ্ধি হিসেবেও কাজ করে এই মিছরি।