1 Answers
আপনার আত্মবিশ্বাস, মনের জোর, সাহস ও শক্তি তখনই বাড়বে যখন আপনি নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে পারেন। যা করবেন আপনি করবেন, অন্য কেউ আপনার জীবনে এগুলো দিতে পারবে না। জীবন আপনার, মরণ আপনার, যুদ্ধ আপনার, পরীক্ষা আপনার, দায়িত্ব আপনার। প্রত্যেকের জীবন-পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আলাদা। সবার মন-মানসিকতাও আলাদা। 1) আত্মবিশ্বাস তৈরির জন্য শক্ত এবং দুর্বলতাগুলি বাস্তবিক ভাবে বোঝার চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। 2) চিন্তা-ভাবনা ইতিবাচক হওয়া জরুরী। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন যে আচরণ বদলে আবেগকে পরিবর্তন করা যায়। তাই খুশি থাকার চেষ্টা করতে হবে যাতে তার নেতিবাচক সংবেদনগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করার মতন শক্তি থাকে। 3) যে বিষয়গুলির জন্য কাউকে নার্ভাস করে তোলে সেগুলি সম্পর্কে গভীর ভাবে ভাবতে হবে। যেমন, আমার ক্ষেত্রে টাইপিং এর পরীক্ষার বসলেই হাত পুরো কাঁপা শুরু হয়ে যেত। তারপর যা হবার সেটাতো বুঝতেই পারছেন। তাই এই সমস্যার মূলে যেতে হবে এবং টেকনিক গুলো বুঝতে হবে এবং চেষ্টা করতে হবে কিভাবে তা সমাধান করা সম্ভব। 4) ভুল থেকে ভয় পেলে চলবে না বরং ভুল থেকেই শিখতে হবে। নিজের ভুল নিজেই খুঁজে বেরকরে ভুল ত্রুটিগুলির সেই ঘাটতি দূর করে সাফল্য অর্জন করা যেতে পারে, যা সবার ক্ষেত্রেই মনোবল ও আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে তোলে। যেমন, স্কুলের ছাত্রদের ক্ষেত্রে ক্লাসের কোন বিষয়ের উত্তর ভুল হলে ভুলটা খুঁজে বের করে বার বার সঠিকভাবে অনুশীলন করতে হবে। 5) পোশাক ও স্মার্টনেস আমাদের আস্থাকেও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। এটি ভালভাবে প্রস্তুত করা হলে, আমাদের মধ্যে একটি আলাদা শক্তি আসে এবং এটি ইন্টিগ্রেটারের উপর খুব ভাল প্রভাব ফেলে। আমরা যদি পোশাক সম্পর্কে ছোট ছোট যত্ন নিই তাহলে তা খুব সুন্দর আত্মবিশ্বাস ও মনোবলের একটা স্তর তৈরি করতে পারে। 6) কৃতিত্ব অর্জন আত্মবিশ্বাস তৈরিতে খুব সহায়ক। সুতরাং সব পুরানো কৃতিত্বগুলি মনে রাখতে, একটি ডায়েরিতে বা অন্য ভাবে কৃতিত্বগুলি রাখতে হবে যাতে এটি যে কোনও সময় দেখতে পাওয়া যায়। যেমন কোন মেডেল, শংসাপত্র, পুরস্কার এই জাতীয় উপকরণ, ফটো, একটি ঘরে সাজিয়ে রাখতে হবে যাতে সবসময় নজরে পড়ে। 7) বডি ল্যাংগুয়েজ আত্মবিশ্বাসের ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করে। আমরা যখনই বসবো বা হাঁটবো তখন ঘাড় এবং কাঁধটি বাঁকানোর পরিবর্তে সোজা রাখতে হবে। এ ছাড়া কারও চোখ চুরি করে নয়, বরং চোখ দিয়ে কথা বলতে হবে। 8) প্রতিদিন সময় মতন নিয়ম করে যোগা, ব্যায়াম করা উচিৎ এবং রাত জেগে টিভি, মোবাইলের মধ্যে না থাকাই ভালো। পর্যাপ্ত ঘুম হলে যে কেউ তার নিজের আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় মনোবল ফিরে পেতে পারেন। 9) জীবন লক্ষ্য শূন্য থাকলে আত্মবিশ্বাসও ফাঁপা হয়ে যায়। অতএব, সবাইকে জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। সময়কে আরও ব্যবহার করতে হবে। কিছু করার আগে লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে সেই কাজটা করতে হবে। তারপরে অবশ্যই মনোবল, প্রবল আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা সম্ভব এটা অন্তত আমার বিশ্বাস। যাবুর শরীফ একটি কথা উল্লেখ করি: “এমনকি আমি যদি সবচেতে অন্ধকারাচ্ছন্ন উপত্যকার মধ্য যাই, আমি ভয় পাবো না, এ জন্য যে আপনি (যিহোভা/আল্লাহ) আমার সাথে আছেন।” (যাবুর (Psalms)– ২৩:৪)