3 Answers
আবেগ কমাতে হলে চিন্তা করে বের করুন আপনি কোন জায়গায় সব চাইতে বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। কোন মানুষটি আপনার আবেগপ্রবনতার কারণ কিংবা কোন কাজটি আপনাকে বেশি মাত্রায় আবেগী করে তোলে। আগে নিজের আবেগপ্রবনতার কারণটি খুঁজে বের করুন। যদি সম্ভব হয় কারণটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার অতিরিক্ত আবেগ কমে আসবে। দুঃখ কম পাবেন।সুধু আবেগ প্রবণতা থেকে বাঁচা কেন যে কোন কাজে সফলতা পেতে হলে সবার আগে যা দরকার তা হল নিজেকে বুঝা; নিজের সামর্থ্য ও যোগ্যতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা । তাই হয়তো দার্শনিক ও বিজ্ঞানী সক্রেটিস সব সময় তার ছাত্রদের বলতেন “Know Thyself “(নিজেকে জানো) । আত্মবিশ্বাস বাড়ান নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন। নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিন। এতে আবেগের মাত্রা কমে আসবে !হুজুগের বশে কাজ না করে ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে চিনতে কাজ করতে হবে । এতে আপনি নিজের আবেগপ্রবনতাকে কখনও না কখনও অতিক্রম করতে পারবেন । খুব ছোট পরিসরে বিশাল কথা বললেও উপরের বিষয়গুলো অনুসরণ করলে দেখবেন আপনার অতিমাত্রায় আবেগপ্রবণতা ধীরে ধীরে কমে গেছে এবং এর কারণে আপনার যেসব ভোগান্তি হয় সেগুলোও চলে গেছে শুন্যালোকে ।
নিজের ব্যপারে জানা আত্মসচেতনতার একটি অংশ । নিজের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে নিজেকে জানতে হবে । আবেগপ্রবণ অবস্তায় মানুষ কোনো যুক্তি মানতে চায়না । তাই আবেগপ্রবণ অবস্থায় নিজের আচরণ কেমন হয় তা খেয়াল রাখতে হবে । যদি নিজের আচরণ খারাপ হয় তাহলে তা থেকে রক্ষার জন্য নিজেকেই সচেতন হতে হবে । জীবনে কী পেলাম না- এই পাওয়া না পাওয়ার হিসেব করা যাবেনা । সে পেয়েছে আমি কেন পাইনি এই তুলনা করে হতাশ হওয়া যাবেনা , বরং কীভাবে কাজ করলে তা পাওয়া সম্ভব সে চেষ্টা করতে হবে । কখনো কোনো কারণে আবেগপ্রবণ হয়ে গেলে চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে । কোন কাজে সফল না হলে হতাশ হওয়া যাবেনা বরং কাজটি ভবিষ্যতে যাতে সাফল্যের সাথে করা যায় সে চেষ্টা করতে হবে । যেকোন পরিস্থিতিকে সহজভাবে নিতে হবে । যেকোন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে চলতে পারা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার একটি অন্যতম উপায় । সকল সময় সকল কাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে হবে । যেকোন সমস্যা বাবা , মা , ভাই , বোন বা নিকটস্থ কারো সাথে শেয়ার করলে আবেগ নিয়ন্ত্রণ হয় ।
আবেগ নিয়ন্ত্রণের ৭ উপায় ১ শ্বাস নিয়ন্ত্রণ করুন একটা নিরিবিলি শান্ত পরিবেশ খুঁজে বের করুন। আপনার রাগ, দুঃখ, ক্ষোভ ইত্যাদি আবেগের কারণগুলোকে এড়িয়ে আপনি সে স্থানটিতে স্থির হয়ে বসুন। প্রথমে কিছুক্ষণ স্বাভাবিক শ্বাস নিন। তারপর খুব ধীরে নাক দিয়ে ফুসফুস ভরে শ্বাস গ্রহণ করুন। শ্বাসটা ভেতরে ধরে রাখতে রাখতে ৪ পর্যন্ত গুনুন। তারপর ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন। এই পদ্ধতিটি আবেগ নিয়ন্ত্রণের প্রথম ধাপ। ২ ইতিবাচক ভঙ্গি রপ্ত করুন চলাফেরা এবং কাজেকর্মে ধীর, আত্মবিশ্বাসী এবং ইতিবাচক ধ্যান- ধারণা ও অঙ্গভঙ্গি ধরে রাখুন। চেয়ারে যখন বসবেন কাঁধ উঁচিয়ে, মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে সর্বোপরি অন্যের আচরণ দ্বারা আপনার আবেগকে প্রভাবিত হওয়া থেকে রক্ষা করবে। ৩ ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন হালকা ব্যায়াম করুন। লাগামছাড়া আবেগের হাল টেনে ধরতে খুব উপকারী হচ্ছে হালকা ব্যায়াম। গতানুগতিক ব্যায়াম করতে ইচ্ছে না হলে খোলা কোনো জায়গায় হাঁটতে বেরোন। এতে আপনার শরীরে এন্ড্রোফিন নামক রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হবে, যা আপনার মুডকে ভালো করে তুলবে। ৪ কারণগুলো চিহ্নিত করুন আপনার আবেগগুলোকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে এমন সব কারণ খুঁজে বের করুন। যদি খুঁজে বের করতে অসুবিধা হয় প্রতিদিন ডায়রিতে আপনার একান্ত কথাগুলো লিখে ফেলুন, পনের দিনের কিংবা এক মাসের লেখাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লেই চিহ্নিত করতে পারবেন কারণগুলো। চিহ্নিত কারণগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। ৫ নিজের কথাগুলো বলুন ভেতরের চাপা আবেগগুলো থেকে বেরিয়ে আসার উৎকৃষ্ট উপায় হচ্ছে আপনি কেমন অনুভব করছেন সেটা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা। আপনি যদি কোনো বন্ধুবান্ধব কিংবা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে শেয়ার করতে না চান তাতে সমস্যা নেই। আপনার পোষা প্রাণী কিংবা প্রিয় গাছটার সামনেও তুলে ধরতে পারেন নিজেকে। এতে আাবেগের ভার কিছুটা লাঘব হবে। ৬ জীবনযাপনে ভালো বিষয়গুলো সযত্নে লালন করুন যা কিছু ভালো, যা কিছু সুন্দর তার প্রশংসা করুন প্রাণ খুলে, সেগুলোর চর্চা করুন নিজের জীবনে। প্রতিদিনের ছোটখাটো আনন্দের বিষয়গুলো উপভোগ করুন। দেখবেন অকারণ আবেগ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন অনায়াসে। ৭ দূরদর্শী হোন যখন আবেগ আপনাকে গ্রাস করে, তখন আপনি মনে মনে ভাবুন, এ আবেগ আপনাকে কোথায় নিয়ে যাবে। আবেগের ফাঁদে পা দিয়ে আপনি শল্গথ হয়ে পড়ছেন না তো! আপনার দূরদর্শী চিন্তাচেতনাই আপনাকে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে ভবিষ্যতের পথে হাঁটতে সাহায্য করবে।