আমি কিভাবে বন্ধু বানাতে পারি?
6 Answers
ছেলে বন্ধু বাড়াতে কোন সমস্যাই নেই ক্লাসমেটদের, পাড়ার সমবয়সী ছেলেদের যেকোন ভাবে তাদের সাথে মিশে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারবেন,, নিজে কথাবার্তায় আরোও স্মার্ট হোন, সবার সাথে মিশুন খেলাধূলা, আড্ডায় মেতে থাকুন ওদের খোঁজ খবর নিন,, বিপদে আপদে পাশে দাঁড়ান, মজা করুন এইভাবে আপনি অনেক ভালো ভালো ছেলেদের বন্ধু বানাতে পারবেন।
১. মানুষের সহচার্যে সময় কাটানঃ আপনি যদি বন্ধু বানাতে চান তবে প্রথমত আপনাকে মানুষের মাঝে আসতে হবে। ঘরে বসে থেকে, কম্পিউটারে গেম খেলে একা একা সময় কাটালে মানুষের মাঝে আসতে পারবেন না। ২. কোন সংগঠন যুক্ত হউনঃ কিছু সংগঠন আছে যারা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করে যেমন শীত বস্ত্র বিতরন, রক্তদান কর্মসুচি, বন্যার্তদের সাহায্য ইত্যাদি। এই সব সংগঠন গুলিতে স্বেচ্ছা-সেবকরা সংগঠিত হয়ে কাজ করেন। একজন নতুন সদস্য হিসাবে পুরাতন স্বেচ্ছা সেবকরা আপনাকে আন্তরিকতার সাথে বরন করে নিবেন। তাদের সাথে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারবেন আপনারা একে অন্যের বন্ধু হয়ে গেছেন। ৩. পাড়ার কোন খেলার দলে যুক্ত হতে পারেনঃ আপনি ব্যাডমিন্টন খেলতে পারেন? অথবা ক্রিকেট? একটু আগ্রহ দেখিয়ে যান না পাড়ায় খেলতে থাকা দলটির কাছে! যুক্ত হয়ে যান আর অনাবিল আনন্দে মেতে উঠুন। ছোট-বড় মিলে গড়া দলে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন একজন সদস্য। ৪. মানুষের সাথে কথা বলুনঃ আপনি সংগঠনের, ক্লাবে বা পাড়ার কোন দলের সাথে যুক্ত হতে পারেন তবে আপনি যদি কথা না বলে চুপচাপ থাকেন তবে হয়তো বন্ধু বানানর সুযোগ গুলি মিস করবেন। আপনি হয়তো একটু লাজুক টাইপের। মানুষের সাথে ঠিক মত কথা বলতে পারেন না। কি বলতে কি বলে ফেলবেন বা মানুষ আপনার কথা শুনে কি মনে করবে, এসব নিয়ে ভাববেন না। আপনার নিজের ভিতরে সামান্য পরিবর্তন আনুন আপনি কথা বলতে শুরু করুন। যে মানুষটার সাথে হয়তো প্রতিদিন দেখা হয়, পাশ দিয়ে কিছু না বলেই হেটে যান, তাকে একটা সালাম দিন। কিনবা বলুন ’আপনি ভাল আছেন?’ আপনার এই পরিবর্তনের সাথে সাথে তিনি ও হয়তো আপনার দিকে এক কদম এগিয়ে আসবে। কথা বলুন পাড়ার মুদির দোকানীর সাথে। শুধু তাই কেন? কথা বলুন বাসে আপনার পাশে বসে থাকা যাত্রীটির সাথে। অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হয়তো বেশিক্ষন কথা চালিয়ে যেতে পারবেন না তবে যতক্ষন আপনারা একসাথে থাকবেন একটা অদৃশ্য বন্ধন অবশ্যই তৈরী হবে। একটা সময় নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিন যে, ” আমার নাম .......... আমি ....... কোম্পানীতে জব করি”। স্বাভাবিক ভাবে অপর ব্যক্তি ও তার নাম বলবেন, আপনি নামটি মনে রাখুন এবং কথার এক পর্যায়ে তার নামটি উচ্চারন করুন। আপনার মুখে নিজের নাম শুনে আপনার প্রতি আরও উৎসাহিত হবে আর সেই সাথে আপনাদের মাঝে জড়তা অনেকটাই কেটে যাবে। ৫. চোখের দিকে তাকান এবং হাসুনঃ পরিচিত বা অল্প-পরিচিতদের চোখের দিকে তাকান একটু সুন্দর করে হাসুন। হাসির চেয়ে বড় যাদু কি আছে? বিশেষ কোন সমস্যা না থাকলে চোখের সানগ্লাসটি খুলে রাখুন, অথবা হাত এমন ভাবে ভাঁজ করে বসে থাকবেন না যেটা ইঙ্গিত করে ”আমি কারো সাথে কথা বলব না”। মুখে আলাদা করে গম্ভীর ভাব নিয়ে আসবেন না। এই ধরনের ভাব নিজে থেকে একটা দুরত্ব তৈরী করে দেয়।
বন্ধু মানেই এমন কিছু যেখানে লুকোচুরি বা আত্মভোলা ব্যাপারটা খুবই ক্ষতিকর। তাই আপনার যদি কেবল নিজেকে নিয়ে মগ্ন থাকার অভ্যাস থাকে তাহলে আপনার ভাগ্যে বন্ধু জোটার সম্ভাবনা কম। নিজেকে নিয়ে সব সময় ব্যস্ত না থেকে আশেপাশের মানুষদের নিয়ে ভাবুন আগ্রহ দেখান বন্ধুর অভাব হবেনা। আপনি অন্যদের খোঁচাতে পছন্দ করেন এ জীবনে আপনি কখনই ভালো বন্ধু পাবেন না যদি আপনি অন্যদের খোঁচাতে ভালোবাসেন বা অন্যকে সব সময় কষ্ট দিয়ে কথা বলে থাকেন। একজন মানুষ শুধুমাত্র নিজের ইচ্ছা এবং নিজের মনমানসিকতার সাথে মিল পেলে অন্য আরেকজন মানুষের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করেন। সেক্ষেত্রে আপনি যদি কেবল মানুষের সাথে এটা সেটা নিয়ে ঝামেলা বাঁধিয়ে থাকেন বা অন্যকে কথা বা কাজের মাধ্যমে কষ্ট দিতে থাকেন তাহলে বন্ধুত্ব কখনোই কারো সাথে হবে না। আপনার ব্যক্তিত্বহীনতা আপনি কি খুব বাচাল? কিংবা খুব বেশি অস্থির প্রকৃতির? ভালো করে মাথায় রাখুন বাচালতা বা অস্থিরতা এই দুটোই ব্যক্তিত্বহীন মানুষের লক্ষণ। তাই আপনার যদি এই দুই গুণের কমতি না থাকে তাহলে কারও সাথেই ঠিকঠাক বন্ধু্ত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন না। তাই আগে নিজেকে ঠিক করে অন্য সবার সামনে উপস্থাপন করুন। দেখবেন সবাই আপনার বন্ধুত্ব কামনা করছে। আপনার অবাস্তব প্রত্যাশা খুব সহজ করে বলতে গেলে বন্ধুত্বের মানে একে অন্যর ভালো খারাপ সব কিছু শেয়ার করা বা সুখে দুঃখে একজন আরেকজনের পাশে থাকা ইত্যাদি। কিন্তু আপনি বন্ধুত্বর দোহাই দিয়ে যদি কারও কাছে অবাস্তব কিছু আসাহা করে ফেলেন তাহলে আপনার বন্ধু আপনার সাথে সম্পর্ক না রাখতে সামান্য দ্বিধাবোধ করবে না। বন্ধুত্বর বদলে কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা বাদ দিন আর দেখুন আপনার আশেপাশে কত বন্ধুর সমাগম ঘটে। আপনি হিংসুটে স্বভাবের আপনার হিংসুটে স্বভাব এর জন্য কেউ আপনার বন্ধু হবে না এটাই স্বাভাবিক। বন্ধুত্বতে হিংসের কোন জায়গা নেই। আপনি যদি মনে করেন কেউ শুধুমাত্র আপনাকেই তার বন্ধু বানিয়ে রাখবে আর কাউকে বন্ধু করতে পারবেনা তাহলে এটা আপনার অন্যায় আবদার। বন্ধুদের মধ্যে ঈর্ষা, হিংসা বা বিদ্বেষ থাকে না, যদি আপনি তা করেন তাহলে কেউ আপনার সাথে বন্ধুত্ব রাখতে চাইবেন না।বন্ধু বন্ধুই, কোনো প্রতিযোগী নন। বন্ধু বানানোর সব থেকে সহজ উপায় হল নিজের ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখা। খুঁতখুঁতে স্বভাব বর্জন করুন ও একটু খোলা মানসিকতার হন। জীবনে বন্ধুর অভব হবে না।
বন্ধু বাড়াতে চাইলে সবার সাথে পরিচিত হোন '' এবং যাকে বন্ধু বানাতে মন চাইবে তার সাথে সবসময় কথা বলুন। বিপদে আপদে তার পাশে থাকুন। আপনার মনের কথা তার সাথে শেয়ার করুন দেখা হলে কুশল বিনিময় করুন। তাহলে দেখবেন আপনার অনেক বন্ধু হয়েছে।
কাদেরকে এবং কিভাবে বন্ধু বানাবেন: ১। প্রথম দিন পরিচয় হবার সাথে সাথেই ভাবুন তিনি কেমন, বন্ধুর কোন গুন আছে কি-না। ২। এটা ভাবলে ভুল হবে যে তাকে দিয়ে আপানার কি উপকার হবে। তাই এই কাজটা করে কেবল স্বার্থান্নেষী কেউ। ৩। বন্ধু ঘোষনা করার আগে তাকে একটা জায়গা দিন। এই যেমন আমি আপনার ফ্যান এই জাতীয় কিছু। ৪। মুল্যায়ন করুন তার ব্যাক্তিত্বকে । যদি খারাপ ঠেকে তবে একটু ইঙ্গিত দিন শুধরে দেয়া যায় কি- না। যদি কয়েকবার ট্রাই করেও না পারেন তবে আশা ছেড়ে না দিয়ে ফ্যান পর্যন্তই রাখে দিন। আর না এগোনোই ভাল। ৫। কাজের মাধ্যমে স্বীকৃতি দিন, তিনি আপনার বন্ধু নন তবু আপনি তার বন্ধু। মনে রাখবেন, এখানেও প্রতিদান আশা করবেন না। ৬। এই পর্যায়ে আমি মনে করি তিনি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারবেন না। আপনার প্রতি বন্ধুর প্রস্তাব করবেন।
1.সবার সাথে প্রান খুলে কথা বলুন। সবার সাথে মিশুন। প্রতিদিনই নতুন করে একজনের সাথে কথা বলতে চেষ্টা করো। ২. পড়াশোনায় ভালো বা অনেক স্টাইল আছে এইরকম ছেলে খুজে খুজে বন্ধুত্ব না করে , ভালো বন্ধু হতে পারবে, এমন ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করুন, অনেক দিন স্থায়ী হবে। ৩. পুরোনো বন্ধুদের সাথে কখনও নতুন বন্ধুর তুলনা করবে না। তুলনা করলেই আর কখনও তাকে বন্ধু হিসেবে পাবে না। 4. বন্ধুদের সাথে কখনওই সমালোচনা করবেনা। হ্যাঁ কার কোন জিনিস টা ভালো লাগে বা খারাপ লাগে সেটা শেয়ার করতে পারো কিন্তু সেটা যেনো কখনওই সমালোচনা না হয়। 5.পুরনো বন্ধুদের কিন্তু ভূলে যেয়েননা। তাদের সঙ্গেও সময় কাটান। সবচেয়ে বেশি ভালো হয় নতুন বন্ধুদেরকে পুরোনোদের সাথে আলাপ করিয়ে দেওয়া। তাহলে আপনার সার্কেলটাও বড় হবে।