গায়ের দুর্গন্ধ দূর করবো কিভাবে??
2945 views

5 Answers

ঘাম, শরীরচর্চা, অথবা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে সাধারণত শরীরের রাসায়নিক উপাদান সমূহের ভারসাম্যহীনতার কারণে শরীরে বাজে গন্ধ হয়। ব্যাকটেরিয়া শরীরে বাজে দুর্গন্ধের জন্য একটি বড় ভূমিকা পালন করে। কিছু কিছু শরীরের অঙ্গ, যেমন, মুখ, বগল, কুঁচকি, মুত্রথলি বা পা সব সময়েই যেন বাজে গন্ধ তৈরি হওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। শরীরের যে সব এলাকাতে আমরা বেশী ঘামি বিশেষত সেখানে বাজে গন্ধের জন্য দায়ী ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুরা একযোগে আক্রমণ চালায়। ব্যাকটেরিয়া কেবল মাত্র অম্লীয় পরিবেশে জন্মাতে পারে। যখন এমনটি ঘটে তখন আমাদের শরীর থেকে লবন এবং অন্যান্য খনিজ পদার্থ ঘামের মাধ্যমে নিঃসরিত হয়, এতে করে আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ভালভাবে বজায় থাকতে সহায়ক হয়। বেশীর ভাগ সময়ে যে কারণে শরীরে এ ধরণের রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতা ঘটে থাকে তা হল অপর্যাপ্ত ও পুষ্টিহীন খাদ্য গ্রহণ এবং কিছু নির্দিষ্ট বিষাক্ত দ্রব্য এবং খাদ্য গ্রহণ যা আমাদের শরীরের এসিডিটি লেভেল পুনর্বিন্যাস করে দেয়। · ক্লোরোফিল (chlorophyll) এর মানব দেহে অনেক ধরণের উপকারী ভূমিকা আছে। এটি আঁশ সমৃদ্ধ খাবার হজমে সহায়তা করে, বিষ মুক্ত করে, শরীরের সার্বিক উন্নতি করে, কোষের রোগ প্রতিরোধ এবং বিভাজন ক্ষমতা বাড়ায়, আরোগ্য লাভের সক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের বাজে গন্ধের জন্য সবচেয়ে যা গুরুত্বপূর্ণ সেই এসিড ভিত্তিক বিক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে। · বেশী পরিমাণে মিষ্টি জাতীয় খাদ্য এবং পরিশোধিত চিনি গ্রহণ পরিহার করুন যা এসিডের ভারসাম্য পুনর্বিন্যাস করে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বাড়ায়। লাল বর্ণের মাংস আমাদের পাকস্থলীতে প্রক্রিয়াজাত হতে এবং হজম হতে অনেক বেশী সময় নেয়। পেঁয়াজ এবং রসুনের মত উদ্ভিদের আমাদের নিঃশ্বাসকে দুর্গন্ধযুক্ত করার ক্ষমতা আছে কারণ এতে অনেক বেশী পরিমাণে সালফার থাকে যা বাজে গন্ধের জন্য দায়ী। কফি এবং অ্যালকোহলের শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির দ্বিমুখী কার্যকারিতা আছে এবং দুধজাত খাদ্য যাতে উচ্চ মাত্রার প্রোটিন থাকে তা ব্যাকটেরিয়াকে হাইড্রজেন সালফারে পরিনত করতে পারে। · আপেল সিডার ভিনেগার যখন ডিওডারেন্ট এর বদলে বগলের নীচে ব্যবহার করা হয় তখন এটি বাজে গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে কারণ এটি চামড়ার pH (অম্লতা মাপার একক) মান কমিয়ে দেয়। ব্যাকটেরিয়া নিম্ন pH মান সম্বলিত অংশে জন্মাতে পারে না। আপনার বগল বা পায়ে তুলাতে অল্প একটু ভিনেগার নিয়ে মেখে নিয়ে পরের দিন সকালে ধুয়ে ফেলতে পারেন। · গন্ধ কমানোর জন্য পা এবং বগল বেকিং সোডা দিয়ে পরিস্কার করুন। বগলের নীচে শুধু বেকিং সোডা পাউডার মেখে নিন, এটি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করবে এবং ঘাম শুষে নিতে সাহায্য করবে। অল্প একটু বেকিং সোডা জুতাতে দিয়ে গন্ধ কমাতে পারেন এবং মুখের গন্ধ দূর করতে মুখে নিয়ে কুলি করতে পারেন।

· রোজমেরি (Rosemary) এর জীবাণু নাশক কার্যকারিতার কারণে শরীরের বাজে গন্ধ দূর করার জন্য বেশ সুপরিচিত। এই ভেষজটির মনোমুগ্ধকর সুগন্ধ আপনার পাকস্থলিকে স্বস্তি দান করতে ব্যবহার করা যায়। আপনার খাদ্য তালিকার চা তে এটি মিশিয়ে গ্রহণ করলে পৌষ্টিক নালীর বেশ উপকার হয় এবং এর জীবাণু নাশক বৈশিষ্ট্যের কারণে চামড়ার উপরের অপ্রত্যাশিত ক্ষুদ্র জৈব জীবাণু থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এক আউন্স পরিমাণ পানিতে ৮-১০ ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে প্রয়োগ করুন।

2945 views

ঘেমে গেলে অনেকের গায়ে বিশ্রী দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। এর মূল কারণ হচ্ছে মরা কোষে রোমকূপ বন্ধ হয়ে থাকা। তাই গোসলের পূর্বে শুকনো গায়ে বডি ব্রাশ চালিয়ে পুরো দেহের মরা কোষ দূর করে নেয়া ভালো এবং গোসলের পানিতে কমলা লেবুর খোসা ডুবিয়ে রেখে গোসল করলে গায়ের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

2945 views

আপনি বিভিন্ন রকম সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারেন। এর সাহায্যে আপনার গায়ের দুগন্ধ দুর হবে এবং মনেও শান্তি পাবেন।

2945 views

স্বাভাবিকভাবে মাঝে মধ্যে শরীরে গন্ধ হওয়া খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। কিন্তু কারো শরীরে যদি সারাক্ষণই বিশ্রী দুর্গন্ধ নির্গত হতে থাকে তাহলে সেটি ভীষণ বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। অনেকে অতিরিক্ত ঘামার ফলে শরীরে গন্ধ সৃষ্টি হয় আবার অনেকেই না ঘেমেই শরীর ভর্তি অস্বাভাবিক গন্ধ নিয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেড়ান। পারফিউম বা সুগন্ধি জাতীয় দ্রব্যাদি সাময়িকভাবে শরীরে সুবাস এনে দিলেও অল্প কিছুক্ষন পরেই অবস্থা যা তাই হয়ে যায়। বেকিং সোডা(baking Soda) আপনার শরীরের ঘাম ও দুর্গন্ধ দূর করতে বেকিং সোডা খুব কাজের জিনিস। এক টেবিল চামচ বেকিং সোডা ও সমপরিমাণ লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে আপনার আন্ডার আর্মসে ও শরীরের ঘাম নির্গত হয় এমন অংশে লাগিয়ে ২ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এভাবে এক থেকে দুই সপ্তাহ ব্যবহার করে দেখুন শরীরের গন্ধ কমে যাবে। আপেল সিডার ভিনেগার(apple Cider Vinegar) আপেল সিডার ভিনেগার ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধের একটি অন্যতম উপাদান। প্রতিদিন দুই সপ্তাহ খাওয়ার আগে এক কাপ আপেল সিডার ভিনেগারের সাথে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে পান করুন। অথবা গোসলের জন্য গরম পানিতে এক কাপ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে গোসল করুন। দেখবেন শরীরের বিশ্রী গন্ধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। লেবুর রস(lemon Juice) শরীরের গন্ধ দূর করতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল লেবুর রস। একটি লেবু দুইভাগে ভাগ করে কেটে আন্ডার আর্মসে ঘষুন আর দেখুন যাতে রস যেন শরীর শুষে নেই। এরপর এটি শুকিয়ে গেলে গোসল করুন। যতদিন শরীরের গন্ধ নিয়ন্ত্রণে না আসে ততদিন এই পদ্ধতি দিনে একবার প্রয়োগ করুন। উপরের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করার পাশাপাশি আপনাকে আপনার শরীরের গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করতে সঠিক খাবারের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। দিনে কমপক্ষে এক বার গোসল করতে হবে, পোশাকআসাক পরিষ্কার পরিচ্ছন রাখতে হবে আর পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।

2945 views

গায়ের দুর্গন্ধ দুর করতে আপনাকে সবসময় পরিষ্কার পিচ্ছন্ন থাকতে হবে। তাছাড়া গোসলের পর বগলে রেক্সোনা এবং শরীরে ভাল মানের পারফিউযুক্ত লোশন মাখবেন। বর্তমানে অনেক উন্নত বডি স্প্রে পাওয়া যায় এগুলো ব্যবহার করবেন। রোদে কম যাবেন।কারন ঘেমে গেলে গায়ে দুর্গন্ধ বাডে।

2945 views

Related Questions