শরীর ফিট রাখতে চাই।কিভাবে সেটা পাবো?
3 Answers
পূর্বে এই প্রশ্নের সমাধান বিস্ময়ে দেয়া হয়েছে, দেখতে ক্লিক করুন এই লিংকে https://www.bissoy.com/qa/255023/
শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ একজন মানুষকেই ফিট বলা যায়৷ সেজন্য স্বাস্থ্যকর খাবার, ব্যায়াম ও মনের খোরাকের দিকেই নজর দিতে হয়৷ নিজেকে ফিট রাখতে যা করবেন জেনে নিনঃ মানুষের মস্তিষ্কই যদি সুস্থ না থাকে, তাহলে আর সুস্থ থাকার মূল্য কোথায়? সেজন্য নিয়মিত আখরোট খান৷ এতে অনেক বেশি ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা মস্তিষ্ককে রোগ থেকে রক্ষা করে৷ আর টমেটো, গ্রিন টি-তে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের কোষগুলোকে রক্ষা করে স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে৷ সামুদ্রিক মাছ আলঝেইমার রোগের হাত থেকে মস্তিষ্ককে দূরে রাখে৷ মস্তিষ্ক থেকেই শুরুঃ যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষেজ্ঞ ডা. বেথ অলিভার বলেন, ‘‘প্রতিদিন, প্রতিবেলায় বিভিন্ন রঙয়ের ফল ও সবজি এবং যথেষ্ট পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার, পানি, আপেল ও আখরোট, সূর্যমুখী ফুলের বিচি, ডাল এবং ডিমের হলুদ অংশ খান৷ এসবই হৃৎপিণ্ডের জন্য খুবই উপকারী৷’’ হৃৎপিণ্ড বা হার্টঃ খেলাধুলা, হাঁটাচলা, ব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে ডায়াবেটিস রোধ করে৷ কারণ ডায়াবেটিস থেকেই কিডনির নানা সমস্যা দেখা দেয়৷ ফলমূল, শাকসবজি, ফাইবার ইত্যাদি খেয়ে ওজন ঠিক রাখা প্রয়োজন৷ লবণ যতটা সম্ভব কম খাওয়া উচিত, কারণ অতিরিক্ত লবণ কিডনির ক্ষতি করে৷ কিডনি পরিষ্কার রাখতে দিনে দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করা প্রয়োজন৷ কিডনি ঠিক রাখতেঃ হাড় শক্ত রাখতে নিয়মিত শরীর চর্চা বা বিশেষ ধরনের ব্যায়াম বড় ভূমিকা পালন করতে পারে৷ হাড় নরম বা ভেঙে যাওয়ার জন্য শুধু বয়স বাড়াই একমাত্র কারণ নয়৷ থাইরয়েড, পেটের ক্রনিক সমস্যা বা পাকস্থলির অসুখের কারণেও হাড় নরম বা ক্ষয় হতে পারে৷ আর পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার না খাওয়া ও অতিরিক্ত ধূমপান ও নানা ধরনের ওষুধপত্র সেবন হাড়কে নরম করতে পারে৷ হাড়ের যত্নঃ মানুষের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ অন্ত্র বা পেট যা লম্বায় প্রায় আট মিটার৷ শরীরের গ্রহণ করা খাবারগুলো সহজপাচ্য বস্তুতে পরিণত করে অন্ত্র৷ সেখানে সমস্যা দেখা দিলে সবই ওলট-পালট মনে হয়৷ সেকথা মনে হয় কমবেশি সবাই জানি৷ তাই শরীরকে ফিট রাখতে হলে অবশ্যই পেট ঠিক রাখতে হবে৷ তাই হাঁটাচলা, শষ্যদানা, বিচি, সাদা দই, শাকসবজি, ফলমূল ও সুষম খাবার গ্রহণ খুবই দরকার৷ পেট বা অন্ত্র ঠিক রাখুনঃ তারুণ্য ধরে রাখতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের জুড়ি নেই৷ ফাস্ট ফুড, স্ট্রেস, অতিরিক্ত টেনশন, ধূমপান, মদ্যপান ইত্যাদি ত্বক নষ্ট করে৷ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে৷ তাই রোদ থেকে দূরে থাকা উচিত৷ শরীর ও মন ভালো এবং ফিট রাখার জন্য শরীরের ভেতরের মতো শরীরের ত্বকের স্বাস্থ্যও ভালো থাকা প্রয়োজন৷ ল্যুবেক বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিকের ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা. বিরগিট কালে বলেন এসব কথা৷ অতিরিক্ত রোদ নয়! আমাদের শরীরের সমস্ত ভার বহন করে আমাদের পা দুটো৷ তাই পায়ের স্বাস্থ্য খুব জরুরি৷ পায়ের মাংসপেশি শক্ত করতে ও ফিট থাকতে হাঁটাহাঁটির কোনো বিকল্প নেই৷ হাঁটা যেকোনো মানুষকে ফিট রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে৷ হেঁটে পায়ের যত্নঃ শরীরচর্চা বা ব্যায়াম ছাড়া শারীরিকভাবে সুন্দর হওয়া সম্ভব নয়৷ তাছাড়াও শারীরিক এবং মানসিকভাবে ফিট থাকার জন্য বছরে অন্তত একবার ‘মেডিক্যাল চেকআপ’ করিয়ে নেয়াও অত্যন্ত দরকারি৷ সুত্রঃ দৈনিক নয়া দিগন্ত।
শরীর ফিট থাকতে হলে আমাদের ব্যায়াম করা খুবই প্রয়োজন। প্রতিদিন যদি আমরা নিজের ঘরে ২৫-৩০ মিনিট ব্যায়াম করি তাহলে আমরা সহজেই ফিট থাকতে পারি। আপনাদের জন্য রইল ব্যায়াম করে ফিট থাকার সহজ কিছু টিপস। প্রথমে ওয়ার্মআপঃ ওয়ার্মআপের উদ্দেশ্য হলো শরীরকে ব্যায়ামের উপযুক্ত করে তোলা। ওয়ার্ম আপ মোট ৫-১০ মিনিট করবেন। আর প্রতিটি ধাপ ২০-৩০ সেকেন্ড হবে। • ২ হাত প্রসারিত করুন। • সাঁতারের ভঙ্গিতে দুই হাত শরীরের দুপাশে ঘোরান। • কোমর দোলান ও গোড়ালি প্রসারিত করুন। • দুপাশে শরীর বাঁকান, পা সামনে তুলুন ও ছোট ছোট লাফ দিন। দ্বিতীয় পর্যায়ের মূল ব্যায়ামঃ ১০ মিনিট তিনটি ধাপে ১০ থেকে ২০ বার • ওঠা-বসা করুন। • দু হাত মাটির সমান্তরালে নিয়ে বুক প্রসারিত করুন। • সম্ভব হলে পুশ -আপ দিন। • কোমরে হাত রেখে পেছনে ঝুঁকুন যতটা সম্ভব। • মাটির সমান্তরালে পা তুলুন। তৃতীয় পর্যায়ের অ্যারোবিক্সঃ এই কাজটি করবেন ২০-২৫ মিনিট ধরে। • জায়গায় দাঁড়িয়ে দৌড়ানোর ভঙ্গিমা। • হাত প্রসারিত করে সাঁতার কাটা। • সব শেষে ওয়ার্মআপ আবার ৫ মিনিট। • প্রথম পর্যায়ের অনুশীলন গুলো আবার করবেন।