2 Answers

মহিলাদের গর্ভে এক বা একাধিক ভ্রুন ধারন করাকে গর্ভধারণ বলে। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে মানুষের গর্ভধারণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষনা করা হয়েছে। সাধারণত নিষেকের প্রায় ৩৭ সাপ্তাহ পর অথ্যৎ সর্বশেষ নিয়মিত রজঃস্রাব প্রায় ৪০ সাপ্তাহ পর গর্ভবতি মহিলা সন্তান প্রসব করে। World health Organigation আনুসারে ৩৭ সাপ্তাহ থেকে ৪২ সাপ্তাহ পর সন্তান প্রসব স্বাভাবিক হিসাবে বিবেচিত।

35736 views Answered

গর্ভধারন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা শুরু হয় ডিম্বাণুর নিষিক্তকরণের মাধ্যমে এবং শেষ হয় ডিম্বাণুটি মেয়েদের জরায়ুতে প্রতিস্থাপনের মধ্য দিয়ে। মাসের একটি নির্দ্দিষ্ট সময়ে (বিশেষ করে মাসিক হওয়ার পর মাঝামাঝি সময়টাতে) মেয়েদের ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নি:সৃত হয়, আর তখনই একজন নারী গর্ভধারণের উপযুক্ত হয়। সঙ্গমের সময় পুরুষের লিঙ্গ থেকে বীর্য বের হয়ে তা মেয়েদের যোনিমুখ দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। সাধারণত একেকবারে নির্গত বীর্যে ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি শুক্রানু থাকে। অধিকাংশ শুক্রানু আবার যোনিমুখ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে, কিছু কিছু শুক্রানু জরায়ুর মুখ থেকে সাঁতরে জরায়ুর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। মেয়েদের যখন ডিম্বাণুর নি:সরণ হয়, তখন জরায়ু মুখের শ্লেষ্মা অন্যান্য সময়ের চেয়ে পাতলা হয়, ফলে শুক্রানু অনায়াসেই এর মধ্য দিয়ে যেতে পারে। শুক্রানু গর্ভাশয়ের মধ্য দিয়ে সাঁতরে ডিম্বনালী (ফেলোপিয়ান টিউব) এ প্রবেশ করে। এখানেই ডিম্বাশয় থেকে নির্গত ডিম্বানু অবস্থান করে। এই শুক্রানু ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলে গিয়ে নিষিক্ত হয়, অর্থাৎ গর্ভাবস্থার সূচনা হয়। আর এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় ডিম্বনালীতে। নিষিক্ত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ওই ডিম্বাণুটি (এটি এখন ভ্রুণ) খুব ধীরগতিতে ডিম্বনালী থেকে বেরিয়ে যায় এবং গর্ভাশয়ে (উম্ব) জায়গা করে নেয়। এটি ক্রমান্বয়ে বড় হতে শুরু করে। ভ্রুণটি তখন গর্ভাশয়ের পুরু দেয়ালে নিজেকে খুব দৃঢ়ভাবে সেঁটে রাখে। একে বলে প্রতিস্থাপন। ভ্রুণ এবং ডিম্বাশয়ের মাধ্যমে নি:সৃত হরমোন গর্ভাশয়কে রক্তপাত থেকে প্রতিহত করে। আর এজন্যই অন্ত:সত্ব্বা কালে মেয়েদের মাসিক বন্ধ থাকে। ডিম্বাণুর বেড়ে উঠা ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নি:সৃত হওয়ার পাঁচ থেকে সাতদিন পর নিষিক্ত ডিম্বাণুটি গর্ভাশয়ের দেয়ালে নিজেকে প্রতিস্থাপন করে এবং শেকড়ের মতন কিছু ‘ভিলাই’ তৈরি করে।আর এই ‘ভিলাই’গুলিই পরবর্তীতে বেড়ে উঠে গর্ভফুল বা অমরা বা প্লাসেন্টা (প্লাসেন্টা, এমন একটি অঙ্গ যা, জন্ম নেয়ার আগ মূহূর্ত পর্যন্ত শিশুকে খাওয়ানো এবং রক্ষায় সাহায্য করে) তৈরি করে। গর্ভফুল মায়ের জঠরে থাকা শিশুর সার্বিক দেখভাল করে এবং মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন, অ্যামিনো এসিড, ভিটামিন এবং মিনারেল গ্রহণে সহায়তা করে। এটি শিশুর দেহ থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে শিশুকে সুস্থ রাখে। ভ্রুণের প্রাথমিক এবং বিকাশমান অবস্থা গর্ভাশয়ের দেয়ালে প্রতিস্থাপনের পর থেকে প্রায় আট সপ্তাহ পর্যন্ত শিশুর ক্রমবিকাশ ‘ভ্রুণ’ নামে পরিচিত। এ পর্যায়ে ভ্রুণের বিকাশ খুব তাড়াতাড়ি হয়। স্নায়ু, হাড়, পেশী এবং রক্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসমূহ এ সময় গড়ে উঠতে শুরু করে।গর্ভাবস্থার আট সপ্তাহ পর, ওউ ভ্রুণটিকেই বিকাশমান ভ্রুণ বা ইংরেজিতে ‘ফিটাস’ বলা হয়ে থাকে। এর দৈর্ঘ্য হয় ২ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার। অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর প্রায় অনেকগুলোই ততদিনে আকার নিতে শুরু করে। আর বাইরের অবয়ব বলতে তখন চোখ, নাক, মুখ এবং কান দেখতে পাওয়া যায়। হাত ও পায়ের আঙ্গুলও একটু একটু করে বেড়ে উঠতে শুরু করে। মায়ের পেটের ভিতরে শিশুটি বেড়ে উঠা মানেই গর্ভাশয়ও স্ফীত হতে শুরু করে। তখন তরল পদার্থে পূর্ণ একটি ঝিল্লি শিশুটিকে ঘিরে থাকে। শিশুটি জন্মের ঠিক আগ মূহূর্তে এই ঝিল্লি ফেটে যায় এবং অ্যামনিওটিক তরল পদার্থ বেরিয়ে আসে (যা শিশুটিকে ঘিরে থাকে মায়ের জঠরে)। গর্ভাবস্থায় শিশুটি অনায়াসেই অ্যামনিওটিক তরল পদার্থে ভেসে থাকে; অনবরত সেই তরল সে পান করে এবং প্রস্রাবের সঙ্গে তা বেরিয়ে যায়। অ্যামনিওসেন্টেসিস নামের একটি প্রক্রিয়ায় অ্যামনিওটিক তরল পদার্থের একটি ছোট অংশ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অধিকাংশ তথ্যও পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে, এই প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা কিছুটা অনধিকার প্রবেশও বটে। কেননা, এতে করে শরীরে ভিতরে প্রবেশের প্রয়োজন পড়ে। আর এতে গর্ভপাতের মতোন ঘটনার আশংকা থাকে। সুতরাং এই প্রক্রিয়ায় শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা কেবলমাত্র সেই নারীদের ক্ষেত্রেই নেওয়া হয়, যাদের শিশুর বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয় বা অস্বাভাবিকতার আশংকায় থাকে।

35736 views Answered

Related Questions

Next steps