2 Answers
ফিকহের আলোকে পর্দার হুকুম ফিকহের মাসআলা হল, মেয়েদের জন্য পর্দা করা ফরজ। গাইরে মাহরাম পুরুষের সামনে সে পর হোক বা আপন হোক, মেয়েদের একটি চুলও উন্মুক্ত রাখা জায়িয নয়। তেমনিভাবে মেয়েলোকদের জন্য কোন মেয়েলোকের সামনে হাটু হতে নাভী পর্যন্ত উন্মুক্ত করা জায়িয নয়। গর্ভকালে বা প্রসবকালে অথবা অন্য কোন কারণে যদি ধাত্রী দ্বারা পেট মালিশ করার দরকার পড়ে, তবে নাভীর নীচের কোন অংশ খোলা যাবে না। কোন কাপড় রেখে তার উপর দিয়ে মালিশ করবে। বিনা প্রয়োজনে সতর ধাত্রীকে দেখানোও জায়িয নয়। সাধারণত কোন মেয়ের পেট মলবার সময় মা, বোন, খালা, ফুফু, দাদী, নানী, ননদ এবং বাড়ীর অন্যান্য লোকেরাও দেখে থাকে, এটা জায়িয নয়। প্রত্যেক গাইরে মাহরাম পুরুষের প্রত্যেক গাইরে মাহরাম স্ত্রীলোকের সামনে যে পরিমাণ পর্দা করা ফরজ, কাফির-ফাসিক মেয়েলোক হতেও মুমিন মেয়েদের সে পরিমাণ পর্দা করা ওয়াজিব। সুতরাং হিন্দু বা খৃষ্টান মেয়েলোক বা যেকোন বেদ্বীন বা বেপর্দা মেয়ে হতেও পর্দানেশীন নারীর পর্দা করা ওয়াজিব। তাদের সামনে কেবলমাত্র মুখম-ল, হাতের পাতা ও পায়ের পাতা ব্যতীত শরীরের কোন অংশ খোলা রাখা জায়িয নয়। ধাত্রী যদি অমুসলিম মহিলা হয়, তবে শুধু জরুরী স্থান ব্যতীত হাতের বাজু, পায়ের নলা, মাথা বা গলা তাকে দেখালে গুনাহগার হবে। মেয়েদের জন্য নতুন বর বা ভিন্ পুরুষদেরকে সামনাসামনি অথবা বেড়ার ফাঁক দিয়ে কিংবা ছাদে উঠে বা জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে দেখা জায়িয নয়। তেমনিভাবে পুরুষদের জন্য বেগানা মেয়ে বা নতুন বউ দেখা জায়িয নয়। স্ত্রীলোকদের নিজের পীরকেও দেখা দেয়া জায়িয নয়। তেমনি ধর্মবাপ, ধর্মভাই, উকিল বাপ, খালু, দুলাভাই, দেবর, ভাসুর, বেয়াই, নন্দাই, চাচাতো ভাই, মামাতো ভাই, খালাতো ভাই, খালাশ্বশুর, চাচাশ্বশুর ইত্যাদি গাইরে মাহরাম আত্মীয়দের সাথে দেখা দেয়া জায়িয নয়। চুড়ি বিক্রেতা পুরুষতো দূরের কথা, বেদ্বীন স্ত্রীলোকের হাতে, এমনকি যে সকল মুসলিম মহিলা বেপর্দায় চলে, তাদের হাতেও চুড়ি পরা জায়িয নয়। তেমনিভাবে বেগানা পুরুষের সাথে কখনো কোথাও আসা-যাওয়া করা বা দেখা দেয়া দুরস্ত নয়। (ফাতাওয়া আলমগীরী) এ প্রসঙ্গে কোরানের আয়াত-আল্লাহ তা‘আলা আরো ইরশাদ করেন : “(হে নবী!) আপনি আপনার পত্মীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, যখন কোন প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হয়, তখন তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। (যেন পর্দার ফরজ লংঘন না করে। এমনকি চেহারাও যেন খোলা না রাখে। তারা যেন বড় চাদরের ঘোমটা দ্বারা নিজেদের চেহারাকে আবৃত করে রাখে।) ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। (সূরাহ আহযাব, আয়াত : ৬০)
পর্দার ব্যাপারে আল্লাহর সাধারণ নির্দেশঃ- হে নারী জাতি! তোমরা সবগৃহে অবস্থান কর এবং প্রাক-ইসলামী (জাহেলিয়াতী) যুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়িও না। হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রী, কন্যা ও মুসলিম রমণীগণকে বল, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের (মুখমন্ডলের) উপর টেনে নেয়। এতে (ক্রীতদাসী থেকে) তাদেরকে চেনা সহজতর হবে; ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। মুমিন নারীদেরকে বল, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত করে ও লজ্জাস্থান হিফাযত করে এবং যা প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের (অন্যান্য) আভরণ প্রদর্শন না করে, তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় (উড়না অথবা চাদর) দ্বারা আবৃত করে। হে পুরুষগণ! তোমরা তাদের (নারীদের) নিকট হতে কিছু চাইলে পর্দার অন্তরাল হতে চাইবে। এ বিধান তোমাদের এবং তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্র। সুতরাং মুসলিম নারীর নিকট পর্দাঃ- আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের আনুগত্য। ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর পর্দা ও সভ্য লেবাসের কয়েকটি শর্ত নিম্নরূপঃ- ১। মুসলিম মহিলা যে পোশাক ব্যবহার করবে তাতে যেন পর্দা পাওয়া যায়; অর্থাৎ সেই পোশাক যেন তার সারা দেহকে আবৃত করে। ২। এই লেবাস যেন সৌন্দর্যময় ও দৃষ্টি-আকর্ষী না হয়। ৩। এমন পাতলা না হয় যাতে ভিতরের চামড়ার রঙ নজরে আসে। অতএব পাতলা শাড়ি, ওড়না প্রভৃতি মুসলিম মহিলার ড্রেস নয়। ৪। এমন টাইটফিট বা আঁট-সাঁট না হয় যাতে দেহাঙ্গের উচ্চতা ও নীচতা এবং আকার ও আকৃতি কাপড়ের উপরেও বুঝা যায়। ৫। এই লেবাস যেন পুরুষদের অনুকৃত বা অনুরূপ না হয়। সুতরাং প্যান্ট, শার্ট প্রভৃতি পুরুষদের মত পোশাক কোন মুসলিম মহিলা ব্যবহার করতে পারে না। যেহেতু পুরুষদের বেশধারিণী নারীদের উপর আল্লাহর অভিশাপ থাকে। ৬। তদনুরূপ তা যেন কাফের মহিলাদের অনুকৃত বা অনুরূপ না হয়। ৭। এই পোশাক যেন জাঁকজমক ও আড়ম্বরপূর্ণ তথা প্রসিদ্ধিজনক না হয়। ৮। লেবাস যেন সুগন্ধিত বা সুরভিত না হয়। উপরিউক্ত শর্ত মেনে চলাই হচ্ছে নারীর পর্দা।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy