1 Answers
LCD ডিসপ্লেতে প্রতিটি পিক্সেল তিনটি সাবপিক্সেলে বিভক্ত যাদের একটি লাল, একটি সবুজ এবং অবশিষ্টটি নীল রং বিশিষ্ট। এদের একটি অপরটির সাথে বিভিন্ন ফিল্টার দ্বারা যুক্ত থাকে। যেমন পিগমেন্ট ফিল্টার, ডাই ফিল্টার এবং মেটাল অক্সাইড ফিল্টার। প্রতিটি সাবপিক্সেলের বর্ণ বিভিন্ন মাত্রায় পরিবর্তন করে পিক্সেলকে লাকখানেক রং প্রদান করা যায়। এভাবে প্রতি মিলিসেকেন্ডে বারবার রং পরিবর্তনের মাধ্যমে মনুষ্য জীবনকে রাঙিয়ে তুলছে LCD ডিসপ্লে।
LCD প্রযুক্তির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
গোড়া থেকে আজ অবধি LCD’র ইতিহাস জানার জন্য পাঠককে নিয়ে যাচ্ছি ১৮৮৮ সালে। যেখানে গাজর নিয়ে গবেষনা হচ্ছিল, গবেষকের নাম ফ্রিডরিক রেইনিটজার (১৮৫৮-১৯২৭)।
১৮৮৮: গাজর থেকে সংগৃহিত কোলেস্টেরল এর “লিকুইড ক্রিস্টালাইন বৈশিষ্ট্য” আবিষ্কার করেন ফ্রিডরিক রেইনিটজার এবং ১৮৮৮ সালের ৩রা মে তারিখে তিনি ভিয়েনা ক্যামিক্যেল সোসাইটির একটি মিটিংএ তাঁর গবেষনালব্ধ ফলাফল প্রকাশ করেন।
১৯০৪: “ফ্লুসিগি ক্রিস্টাল” (লিকুইড ক্রিস্টাল) নামে অট্টো লেহম্যান্ন এর গবেষনা লব্ধ ফলাফল প্রকাশিত হয়।
১৯১১: প্রথমবারের মতো লিকুইড ক্রিস্টালকে পাতলা লেয়ারের মধ্যে বন্দি করতে সমর্থ্য হন চার্লস ম্যাগুইন।
১৯২২: জর্জেস ফ্রিডেল লিকুইড ক্রিস্টালের ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য বর্ননা করেন এবং একে তিনটি ভাগে ভাগ করেন (যেমন, নেমাটিকস, স্মেটিকস এবং কোলেস্টেরিকস্্)।
১৯৩৬: “দ্যা লিকুইড ক্রিস্টাল লাইট ভালভ্্” তৈরী করার মধ্যমে মার্কনী কোম্পানী এই প্রযুক্তির প্রথম ব্যবহারিক প্রয়োগ দেখায়।
১৯৬২: ‘আর সি এ’ এর গবেষক রিচার্ড উইলিয়ামস্্ দেখলেন যে লিকুইড ক্রিস্টালের কিছু মজার ইলেক্ট্রো অপটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তিনি বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ ব্যবহারের মাধ্যমে লিকুইড ক্রিস্টালের পাতলা লেয়ারের মধ্যে স্ট্রাইপ প্যাটার্ন তৈরী করতে সক্ষম হন এবং এভাবে তিনি একটি ইলেক্ট্রো অপটিক্যাল ইফেক্ট অনুভব করেন। এটি মূলত “ইলেক্ট্রো হাইড্রোডিনামিক ইস্ট্যাবিলিটি ফরমেটিং” এর ওপর ভিত্তি করে তৈরী হয়। যেটা বর্তমানে “উইলিয়ামস্্ ডোমেইনস্্” নামে পরিচিত।
১৯৬৪: জর্জ এইচ হেইলমিয়ার ‘আর সি এ’ তে কর্মরত অবস্থায় রিচার্ড উইলিয়ামের ইফেক্ট এ বর্ন পরিবর্তন ব্যবস্থা প্রদানে সক্ষম হন। কিন্তু এই নতুন ব্যবস্থার ব্যবহারিক প্রয়োগে কিছু সমস্যার ফলে তিনি এটা নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। এবং শেষ পর্যন্ত তার হাত ধরেই প্রথমবারের মতো লিকুড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে আবিষ্কৃত হয়। তিনি প্রক্রিয়াটির যে নাম দেন তা হল ডিএসএম (ডিন্যামিক স্ক্যাটারিং মুড)। ফলে জর্জ এইচ হেইলমিয়ার কেই এলসিডি এর জনক বলা হয়।
১৯৭০: ডিসেম্বরের চার তারিখে সুইজারল্যান্ডের হফম্যান-লারোব কোম্পানী লিকুইড ক্রিস্টালের টুইস্টেড নেম্যাটিক ফিল্ড প্রভাব এর প্যাটেন্ট তৈরীর সিদ্ধান্ত নেয়। এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সুইজারল্যান্ড ও জাপানের বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক কোম্পানিতে হাতঘড়িসহ বিভিন্ন পন্যে এলসিডি এর ব্যবহার শুরু হয়। সেখানে মুলত টিএস-এলসিডি (টুইস্টেড নেম্যাটিক-এলসিডি) ব্যবহার করা হয়।
১৯৭১: ফেরগ্যাসন ইলিক্সকো (বর্তমানে এলএক্সডি ইনকরপোরেটেড) প্রথমবারের মতো এলসিডি প্রস্তুত করে।
১৯৭২: যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এ্যকটিভ-ম্যাট্রিক্স এলসিডি প্যানেল তৈরী হয়।
১৯৯৬: প্রথমবারের মতো মাল্টি-ডোমেইন এলসিডি তৈরী করে স্যামস্যাং কোম্পনী। যে ডিজাইন বাজারে এখন পর্যন্ত রাজত্ব করছে।
১৯৯৭: টিভি হিসেবে ব্যবহারের জন্য “ইনপ্লেন সুইচিং” বা আইপিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এলসিডি তৈরী করে হিটাচি।
২০০৭: এলসিডি টেলিভিশনের বিক্রি হার সিআরটি (ক্যাথোড রে টিউব) কে অতিক্রম করে।
এভাবে যুগ যুগ ধরে উন্নতির মাধ্যমে শতশত গবেষকের নিরলস গবেষনায় এলসিডি ডিসপ্লে মানুষের হাতের নাগালে আসে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy