1 Answers
খরচাপাতি করার সময়ে একটু আধটু বুঝেশুনে চলাটা নিজের জন্যেই ভালো। কিন্তু অনেক সময়ে রয়েসয়ে খরচ করতে গিয়ে আমরা হয়ে পড়ি আক্ষরিক অর্থেই কৃপণ। অনেকের কাছে মনে হতে পারে কৃপণ হয়ে উঠলে বুঝি খরচ অনেক কমে যাবে, টাকাপয়সা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। আপাতদৃষ্টিতে নির্দোষ এই অভ্যাসটি কিন্তু হয়ে উঠতে পারে অনেক বড় মানসিক চাপের কারণ।
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলোজির গবেষকেরা মানুষের মনের ওপর কার্পণ্যের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করেন দামাদামি করার একটি খেলার মাধ্যমে। PLOS ONE জার্নালে প্রকাশিত হয় এই গবেষণার তথ্য।
এই গবেষণায় প্রতি জোড়া অংশগ্রহণকারীকে কিছু পরিমাণে টাকা দেওয়া হয়। এরপর একজনকে বলা হয় এর থেকে কিছু পরিমাণ টাকা অন্যকে দিয়ে দিতে অর্থাৎ ভাগ করে নিতে। এই টাকা সমান ভাবে ভাগ না করে অন্য জনকে কম বা বেশি দেওয়া যেতে পারে, এবং অন্যজন তা ইচ্ছে হলে নিতে পারে অথবা টাকার অঙ্ক পছন্দ না হলে প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এই ঘটনা চলার সময়ে দুজনেরই হৃৎস্পন্দনের ওপর লক্ষ্য রাখা হয়। দেখা যায়, যেসব ব্যক্তি অন্য জনকে কম টাকা দেবার প্রস্তাব করেন এবং যাদেরকে এমন কম টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়, তাদের হ্রদস্পন্দন বেড়ে যায়।
গবেষকেরা জানান, এই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিলো আর্থিক ক্ষেত্রে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের স্ট্রেস কেমন হয় তা পরিমাপ করা। কিন্তু এখানে দেখা যায়, যেসব অংশগ্রহণকারী কার্পণ্য করেন, অনুশোচনা থেকে তাদের স্ট্রেস বেড়ে যায়।
এই গবেষণার সাথে জড়িত কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটির মার্কাস শ্যাফনার এর মতে, এ ধরণের পরিস্থিতিতে আমরা অপর মানুষটির অনুভুতি বোঝার চেষ্টা করি এবং চিন্তা করি, তাদের জায়গায় থাকলে আমা কি করতাম। এ কারণে কাউকে তার প্রাপ্যের চাইতে কম দিতে গেলে আমাদের মাঝে অপরাধবোধ দেখা দেয়। যেমন এই খেলায় অপর জনকে অর্ধেকের কম বা ৪০ শতাংশের কম দিতে গেলে মানুষটি অস্বস্তিতে পড়েন যা থেকে জন্ম নেয় স্ট্রেস।
এমন ধরণের ফলাফল অবশ্য নতুন নয়। এর আগে এমন গবেষণা হয়েছে যাতে অন্যের উপকারে কিছু করলে আমাদের নিজেদেরই ভালো হয়। এ কারণে কৃপণ হবার চাইতে উদার হবার সুফলটাই বেশি।
(মূল: Lindsay Holmes, Huffington Post)