2 Answers

উৎসের প্রকৃতি অনুসারে শারীরিক শিক্ষার নীতিসমূহ হলোঃ- জীব বৈজ্ঞানিক নীতি, মনো বৈজ্ঞানিক নীতি, সমাজ বৈজ্ঞানিক নীতি, জীব বলবিদ্যার নীতি ও দার্শনিক নীতি।

3338 views

শারীরিক শিক্ষায় নীতি

উৎসের প্রকৃতি অনুসারে শারীরিক শিক্ষার নীতিসমূহকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। এগুলো হলো-

১. জীব বৈজ্ঞানিক নীতি (Biological Principles)

২. মনোবৈজ্ঞানিক নীতি (Psychological Principles)

৩. সমাজ বৈজ্ঞানিক নীতি (Sociological Principles)

৪. জীব বলবিদ্যার নীতি (Biochemical Principles)

৫. দার্শনিক নীতি (Philosophical Principles)

১. জীব বৈজ্ঞানিক নীতি : জৈবিক অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য অন্যান্য জীবের মতোই মানুষের প্রয়োজন- খাদ্য, বিশ্রাম ও শারীরিক পরিশ্রেমের। শারীরিক শিক্ষার ক্ষেত্রে জীববিজ্ঞানের তত্ত্ব থেকে গৃহীত কয়েকটি উল্লেখ্যযোগ্য নীতি হলো-

(ক) শারীরিক ব্যায়াম প্রাণের জৈবিক ভিত্তি। শারীরিক ব্যায়ামের সাহায্যে পেশিসমূহ দেহের সমস্ত অঙ্গ ও তন্ত্রের সক্ষমতা, সুস্থতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক রক্ষা করে বেড়ে ওঠে। তাই জৈবিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য শারীরিক ব্যায়াম প্রয়োজন।

(খ) মানব দেহের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা ব্যায়ামের মাধ্যমে বাড়ে। যন্ত্রনির্ভর যুগে কায়িক পরিশ্রম কমে যাওয়ার সাথে সাথে পরিকল্পিত শারীরিক ব্যায়ামের প্রয়োজন বেড়েছে। শারীরিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শারীরিক ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার। ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা এবং মূল্যবোধ গড়ে তোলার উপরে যথাযথ গুরত্ব দেওয়া দরকার।

(গ) মানুষের শারীরিক গঠন, দৈহিক উচ্চতা পেশির প্রকৃতি, স্নায়ুতন্ত্রের বিশেষত্ব এগুলো বংশগতির উপর নির্ভর করে। প্রশিক্ষণের সাহায্যে শরীরে এই সমস্ত দিকের বিশেষ পরিবর্তন সম্ভব হয়। খেলোয়াড় নির্বাচনের সময় এই নীতির কথা মনে রাখা দরকার।

(ঘ) ব্যক্তির সামগ্রিক শারীরিক বৈশিষ্ট্য বংশগত ও পরিবেশের জটিল ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফল। তাই বংশগতির যথাযথ বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

২. মনোবৈজ্ঞানিক নীতি: মনোবিজ্ঞান হলো ব্যক্তির ব্যবাহারের বিজ্ঞান যা মনের সাথে সম্পর্কিত। মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান ব্যবহার করে ব্যক্তির খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করার সময়কাল ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়। মনোবিজ্ঞান হতে গৃহীত মুলনীতিগুলো হলো-

ক. শারীরিক শিক্ষাকর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ফলে শিশুর শারীরিক বিকাশের সাথে মানসিক বিকাশও ঘটে।

খ. ব্যক্তির শারীরিক স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্য পরস্পরের সাথে সর্ম্পকযুক্ত।

গ. শিশুর মনোযোগ ও আগ্রহ খেলাধুলার কৌশল শেখাতে সাহায্য করে।

ঘ. শিশুর খেলাধুলা শেখা ও শিখনের সূত্রানুযায়ী ঘটে।

ঙ. কোন কিছু শেখার জন্য শিশুর মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন।

৩. সমাজ বৈজ্ঞানিক নীতি : মানুষ সামাজিক জীব। শিশুর ব্যক্তিগত শারীরিক বিকাশের সাথে এই নীতি সামাজিক গুণাবলীর বিকাশে সাহায্য করে। সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গৃহীত এবং শারীরিক  শিক্ষায় ব্যবহৃত মূলনীতিগুলো হলো-

ক. শিশু সামাজিক জীব হিসেবে জন্মায় না। উপযুক্ত সামাজিক পরিবেশ তার সামাজিকীকরণ ঘটে।

খ. খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক গুণাবলি ও বিভিন্ন প্রকার সামাজিক সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটে।

গ.খেলার মাঠে ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচুর ভেদাভেদ দূর হয়।

ঘ. খেলাধুলা সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব ও সাংস্কৃতিক দিকের বিকাশ ঘটায়।

ঙ. খেলাধুলা বিনোদন ও অবসর যাপনের উৎকৃষ্ট উপায়।

৪. জীববলবিদ্যার নীতি : বলবিদ্যা হলো কোন বস্তুর উপর প্রযুক্ত বল ও তার প্রভাব সম্পর্কিত আলোচনা। জীববলবিদ্যা বলবিদ্যার এক ব্যবহারিক শখ হিসেবে খেলাধুলায় অংশগ্রহণকালীন শরীরের উপর উপযুক্ত বল ও তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে । এই ক্ষেত্র থেকে গৃহীত মূলনীতিগুলো হলো-

ক.বল/শক্তি প্রয়োগ ছাড়া কোন ব্যায়াম বা খেলাধুলার কৌশল সম্পন্ন করা যায় না।

খ. বস্তুর উপর প্রযুক্ত বল সর্বদা গতি সৃষ্টি করে।

গ. মানব দেহের বল পেশিসংকোচনের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়।

ঘ. স্থিতি ও গতি বস্তুর দুটি প্রাথমিক অবস্থা।

ঙ. খেলাধুলার গতিকার্যে একাধিক বলের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া ঘটে।

চ. মানবদেহে কিছু জৈবিক সীমাবদ্ধতাসহ যান্ত্রিক নিয়মে গতিকার্য সম্পন্ন করে।

৫. দার্শনিক নীতি : দর্শননীতি হলো বিশ্বব্রহ্মান্ডের জানা দর্শনের বিভিন্ন শাখা যেমন আদর্শবাদ, প্রকৃতিবাদ, বাস্তববাদ ও প্রয়োগবাদ। এখান থেকে শারীরিক শিক্ষায় গৃহীত মূলনীতিগুলো হলো-

ক. শারীরিক শিক্ষা শুধুমাত্র শরীরের শিক্ষা নয়, ব্যক্তিসত্তার সর্বাঙ্গীন বিকাশ সাধনই হলো শারীরিক শিক্ষা।

খ. শারীরিক শিক্ষায় শিশু কেন্দ্রিকতা গুরুত্বপূর্ণ, বিষয় কেন্দ্রিকতা নয়।

গ. শারীরিক শিক্ষা প্রাকৃতিক নিয়মে শিক্ষাদানের উপর জোর দেয়।

ঘ. খেলাধুলা শিশুর শক্তিশালী মাধ্যম।

ঙ. শারীরিক শিক্ষা শিক্ষার্থীর বন্ধু ও পথপ্রদর্শক।

3338 views

Related Questions