3 Answers
পান করার সময় পাত্রে নিঃশ্বাস ছাড়া ঘৃণিত এবং পাত্রের বাইরে তিনবার নিঃশ্বাস ছাড়া মুস্তাহাব।
হাদিসে আছে:
حديث أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا شَرِبَ أَحَدُكُمْ فَلاَ يَتَنَفَّسْ فِي الإِنَاءِ
আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমাদের কেউ যখন পান করে, তখন সে যেন পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস না ছাড়ে। (বুখারী পর্ব ৪ অধ্যায় ১৮ হাদীস নং ১৫৩; মুসলিম ৩৬/১৬, হাঃ ২৬৭)
আরও বলা আছে:
حديث أَنَسٍ عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: كَانَ أَنَسٌ يَتَنَفَّسَ فِي الإِنَاءِ، مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا، وَزَعَمَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ يَتَنَفَّسُ ثَلاَثًا
সুমামাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আনাস (রাঃ)-এর নিয়ম ছিল, তিনি দুই কিংবা তিন নিঃশ্বাসে পাত্রের পানি পান করতেন। তিনি ধারণা করতেন যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিন নিঃশ্বাসে পানি পান করতেন। (বুখারী পর্ব ৭৪ অধ্যায় ২৬ হাদীস নং ৫৬৩১; মুসলিম ৩৬/১৬, হাঃ ২০২৮)
গ্লাসের বা পাত্রের পনিতে নিঃশ্বাস না ছাড়াঃ
তিবরানিতে এসেছে, ‘পানি পান কিংবা খাবার গ্রহণের সময় মুখ থেকে পানি কিংবা খাবারে নিঃশ্বাস না ছাড়া।’
চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিষয়টি সুস্পষ্ট করা হয়েছে যে, অনেক সময় মুখে অনেক বা মুখের সামনে অনেক ব্যাকটেরিয়া বা জীবানু থাকে। পানি বা খাবারে ফুঁ দেয়া বা নিঃশ্বাস ফেলানোর ফলে এ জীবানু ব্যাকটেরিয়া পানি ও খাবারের সঙ্গে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। আর তাতে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তাহলে এটি থেকে বোঝা যায় পাত্রে নিঃশ্বাস যাবে না।
আশা করি আপনার উত্তর টি পেয়েছেন
প্রত্যেক মানুষকে বেঁচে থাকার তাগিদে পানি পান করতে হয়। কিন্তু যদি তা পান করার সময় রাসুল (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণ না করা হয়, তবে তা আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) পানপাত্রে নিঃশ্বাস ফেলতে ও তাতে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৪২৮)
প্রিয় নবী (সা.) আমাদের অনেক সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম বিষয়েও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যার মধ্যে অন্যতম হলো পানি পানের সময় পাত্রে নিঃশ্বাস না ফেলা। অনেকের কাছে বিষয়টি হালকা মনে হলেও বাস্তবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আল্লাহ তায়া’লা আমল করার তউফিক দান করু।