3 Answers

জীববিজ্ঞানের প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গি হল এই যে, ভালোবাসা, যৌন সামর্থ্য, ঘনিষ্ঠতা এবং সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান চালিকাশক্তি বিদ্যমান। যে সকল প্রাথমিক নিউরোট্রান্সমিটার, যৌন হরমোন, এবং নিউরো-পেপটাইড বা স্নায়বীয় পেপটাইড এই চালিকাশক্তিকে পরিচালনা করে তারা হল টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন, ডোপামিন, অক্সিটোসিন, এবং ভেসোপ্রেসিন।

কেন্দ্রীয় ডোপামিন পরিবহন ব্যবস্থা (সেন্ট্রাল ডোপামিনিক পাথওয়ে) সঙ্গীর পছন্দনীয় আচরণের গভীরতায় নিয়ে যায়, যখন কিনা ভেন্ট্রাল প্যালিডামে ভেসোপ্রেসিন এবং নিউক্লিয়াস অ্যাকুম্বেন্সে ও পারভেন্ট্রিকুলার হাইপোথ্যালামিক নিউক্লিয়াসে অক্সিটোসিন শুধু সঙ্গীর পছন্দের আচরণইই নয়, অন্তরঙ্গতার আচরণও ধারণ করতে সাহায্য করে। প্রাথমিকভাবে যৌন সামর্থ্যের মাত্রা নির্ধারিত হয় মেসোলিম্বিক ডোপামিন পাথওয়ের (ভেন্ট্রাল ট্যাগ্মেন্টাল এরিয়া এবং নিউক্লিয়াস অ্যাকুম্বেন্স) কার্যক্রমের মাধ্যমে। ট্রেস অ্যামাইন-সমূহ (বিঃদ্রঃ ফেনেথ্যালামাইন এবং টাইরামাইন) কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে অর্থাৎ এ সকল পাথওয়ে বা পরিবহন পথে ডোপামিনার্জিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে একটি সূক্ষ্ম ও জটিল ভূমিকা পালন করে।

টেস্টোস্টেরন এবং ইস্ট্রোজেন ডোপামিন পাথওয়েজের ভেতর দিয়ে এই সকল চালিকাশক্তিতে অবদান রাখে।পুরুষ এবং নারী উভয়ের যৌন আচরণের জন্য মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডোপামিনের উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন। নরেপিনেফ্রিন এবং সেরোটোনিনের ভূমিকার গুরুত্ব এবং অবদান খুব কম কারণ তারা কিছু নির্দিষ্ট পাথওয়েতে ডোপামিন এবং অক্সিটোসিন নিঃসরণের উপর নিউরমডুলারি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

আবেগপ্রবণ ভালোবাসা এবং দীর্ঘস্থায়ী ঘনিষ্ঠতার জন্য দায়ী এই সকল রাসায়নিক উপাদানকে সে সকল কাজের জন্য অধিক কার্যকর বলে মনে করা হয় যে সকল বিশেষ কাজে উভয় সঙ্গীই অংশগ্রহণ করেন। যে সকল ব্যক্তি প্রেমে পরেন তাদের মধ্যে প্রেমে পড়ার শুরুর দিকে উচ্চ মাত্রার কর্টিসলের উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়।

2989 views Answered

মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও ভালবাসার নেপথ্যে রয়েছে কতকগুলি জৈব রাসায়নিক পদার্থের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। স্নায়ুবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের প্রেমে পড়লে তার মস্তিষ্কে ধারাবাহিকভাবে কিছু নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয়। এ রাসায়নিক পদার্থগুলো হলো-

• ফেরোমোনস (Pheromones)

• ডোপামিন (Dopamine)

• নরপিনেফ্রাইন (Norepinephrine)

• সেরেটোনিন (serotonin)

এ সকল কেমিক্যাল amphetamine (psychostimulant drug) ওষুধের মত কাজ করে এবং মস্তিষ্কের বিনোদন কেন্দ্র (pleasure centre)-কে উত্তেজিত করে। এ কেমিক্যালগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে তখন মানুষের হৃদস্পন্দন বাড়ে, ক্ষুধা ও ঘুম হ্রাস পায় এবং প্রগাঢ় আবেগের সঞ্চার হয়। গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, মানুষের আবেগসঞ্জাত এ অবস্থা সাধারণ দেড় থেকে তিনবছর স্থায়ী হয়।

মানুষের অন্তরে ভালবাসা বা আন্তর্ব্যক্তিক আকর্ষণ (interpersonal attraction) সৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত টেস্টোস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন হরমোনও মূলত বিশেষ জৈব রাসায়নিক পদার্থ। বিভিন্ন আন্তঃসম্পর্কীয় কমিটমেন্ট ও এটাচমেন্টের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক সৃষ্টির সাথে অক্সিটোসিন (oxytocin) ও ভেসোপ্রেসিন (vasopressin) নামক দু’টি উচ্চস্তরে কেমিক্যাল জড়িত। এ সকল রাসায়নিক পদার্থের কখনও যুগপৎ, কখনও পর্যায়ক্রমিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া মানুষের ভেতরে প্রেম, ভালবাসা, আবেগ, কামনা, আসক্তি, বন্ধন, প্রতিশ্রুতি ইত্যাদি তৈরি ও বিকষিত করে। জীববিজ্ঞানের প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গি হল এই যে, ভালোবাসা, যৌন সামর্থ্য, ঘনিষ্ঠতা এবং সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান চালিকাশক্তি বিদ্যমান। যে সকল প্রাথমিক নিউরোট্রান্সমিটার, যৌন হরমোন, এবং নিউরো-পেপটাইড বা স্নায়বীয় পেপটাইড এই চালিকাশক্তিকে পরিচালনা করে তারা হল টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন, ডোপামিন, অক্সিটোসিন, এবং ভেসোপ্রেসিন। কেন্দ্রীয়  ডোপামিন পরিবহন ব্যবস্থা (সেন্ট্রাল ডোপামিনিক পাথওয়ে) সঙ্গীর পছন্দনীয় আচরণের গভীরতায় নিয়ে যায়, যখন কিনা ভেন্ট্রাল প্যালিডামে ভেসোপ্রেসিন এবং নিউক্লিয়াস অ্যাকুম্বেন্সে ও পারভেন্ট্রিকুলার হাইপোথ্যালামিক নিউক্লিয়াসে অক্সিটোসিন শুধু সঙ্গীর পছন্দের আচরণইই নয়, অন্তরঙ্গতার আচরণও ধারণ করতে সাহায্য করে।

2989 views Answered

ভালোবাসাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগ করা যায়। আবেগধর্মী ভালোবাসা সাধারণত গভীর হয়, বিশেষ কারো সাথে নিজের সকল মানবীয় অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া, এমনকি শরীরের ব্যাপারটাও এই ধরনের ভালোবাসা থেকে পৃথক করা যায় না। ভালোবাসা বিভিন্ন রকম হতে পারে, যেমন: নিষ্কাম ভালোবাসা, ধর্মীয় ভালোবাসা, আত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা,বাড়িতে কোনো পোষ্য প্রাণীর বা বস্তুর প্রতি অতিরিক্ত স্নেহ প্রায় সময় খুবই আনন্দদায়ক হতে পারে... এমন কি কোনো কাজ কিংবা খাদ্যের প্রতিও। আর এই অতি আনন্দদায়ক অনুভূতিই হলো ভালোবাসা।

2989 views Answered

Next steps