2 Answers

অল্প বয়সে চুল পাকার জন্য কিছু জিনিসতো অবশ্যই দায়ী। এসবের মধ্যে ঘুম কম হওয়া, নিম্ন মানের হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা, অত্যাধিক পরিমাণে চুলে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার, চুলের নিয়মিত যত্ন না নেয়া, তেলে ভাজাপোড়াসহ ফাস্টফুড জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া, অতিরিক্ত চা কিংবা কফি খাওয়া, পুষ্টিকর খাবারের অভাব, বংশগত বা হরমোনের কারণে, অতিরিক্ত চিন্তা, চুল অতিরিক্ত ড্রাই করা, পানি দূষিত হওয়া, চুলে খুব বেশি রোদর তাপ লাগা প্রধান কারণ।

তবে হতাশ না হয়ে একটু সচেতন হলে অল্প বয়সে কাচা চুল সাদা হওয়া থেকে প্রতিরোধ করা যায়। চুল সাদা হওয়া প্রতিষেধকের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম।

চুল পাকা থেকে মুক্তির পাওয়ার কিছু উপায় -

হরতকি ও মেহেদী পাতার সঙ্গে নারিকেল তেল দিয়ে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে চুলে লাগিয়ে ২ ঘণ্টা পরে ধুয়ে ফেলতে হবে।

আমলকির রস, বাদামের তেল ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে সপ্তাহে কমপক্ষে দুই থেকে তিন দিন চুলে লাগালে চুল পাকা কমে যায়।

নারিকেল তেল গরম করে মাথার তালুতে ভালো করে ম্যাসেজ করলে চুলের প্রয়োজনীয় পুষ্টির সঙ্গে সঙ্গে চুল সাদা হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।

চুল সাদা হওয়ার শুরুতে হেনা, ডিমের কুসুম ও টক দই একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে লাগালে চুল সাদা হওয়া কমে যাবে। হেনা ব্যবহারে শুধু চুল সাদা হওয়া থেকে রক্ষা করবে না সেই সঙ্গে সাদা চুলে কালো রঙে ফিরে আসবে।

চুলে যেন সরাসরি রোদ না লাগে সেজন্য বাইরে বের হলে ছাতা, ক্যাপ অথবা ওড়না দিয়ে চুল ঢেকে রাখা জরুরি।

চুলের ধরণ অনুযায়ী নিয়মিত ভালো ব্রান্ডের শ্যাশ্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। চুলের ক্রিম, জেল, কালার, শ্যাম্পু, কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

চুলের নিজস্ব রঙ ধরে রাখতে মাঝে মাঝে চায়ের ঘন লিকার ব্যবহার করতে পারেন।

চুলে খুশুকি হলে শুরুতেই সাবধান হতে হবে। অতিরিক্ত খুশকির কারণে চুল সাদা হয়ে যায়।

ধুমপান পরিহার করে নিয়মিত পানি, ফলমূল, রঙিন শাকসবজি ও পুষ্টিকর খাবার খেলে চুল সাদা হবে না বরং চুল হবে সুন্দর ও ঝরঝরে।

3041 views

অকালে চুল পাকার হাত থেকে রেহাই পেতে যা খাবেন ডিমঃ ভিটামিন বি এসেনশিয়াল এবং বায়োটিনে ভরপুর ডিম চুল বৃদ্ধির কাজে সহায়তা করে এবং মাথার ত্বক ভালো রাখে। চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন ডিম। এছাড়াও চুলে লাগাতে পারেন ডিমের হেয়ার মাস্ক। ২ টি ডিমের সাদা অংশ এবং ৪ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ভালো করে ফেটিয়ে ঘন একটি পেস্টের মত তৈরি করে চুলে লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। এরপর ভালো করে চুল ধুয়ে ফেলুন। ব্যস চুলের অনেক সমস্যার সমাধান হবে। সবুজ শাকঃ সবুজ শাকে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা চুলের গোড়ার ত্বককে ভালো রাখে ও মজবুত করে। চুলের গোড়ার দূষিত ময়লা পরিষ্কার করতেও সাহায্য করে। বাদামঃ চিনাবাদাম, কাঠবাদাম এবং আখরোট চুলের জন্য খুবই উপকারী। এসব বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এসব উপাদান নতুন চুল গজাতে খুবই কার্যকরী। চুলপড়া এবং চুলপাকা রোধেও এসব উপাদান উপকারী। ডালঃ ডাল উদ্ভিজ্জ প্রোটিন যা আমাদের দেহের কোষ বৃদ্ধিতে কাজ করে। এটি চুলের কোষ বাড়তে অনেক সহায়তা করে। এতে চুল দ্রুত বাড়ে এবং চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় ও রুক্ষতা দূর হয়। তাই খাদ্যতালিকায় ডাল রাখুন। গাজরঃ গাজর চোখ ও ত্বকের জন্য খুবই উপকারী এটা আমরা সবাই জানি। গাজর কিন্তু চুলের জন্যও খুব উপকারী। গাজর মাথার ত্বককে পুষ্টি দেয়। মাথার ত্বকের কোষগুলোকে পুনর্গঠন করতে সাহায্য করে গাজর। এতে চুল পড়া যেমন কমে যায়, তেমনি নতুন চুলও গজায়। চুল ঝলমলে উজ্জ্বল করে তুলতেও গাজরের জুড়ি নেই! দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারঃ দুধে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও প্রোটিনের পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, যা চুলের বেড়ে ওঠা এবং নতুন চুল গজানোর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

3041 views

Related Questions