1 Answers
যিনা-ব্যভিচারকারীর জন্য তাওবা করা অত্যাবশ্যক। কেননা ব্যভিচার মহাপাপসমূহের একটি। ইসলামি শরিয়ত এসব বিষয় হারাম করেছে। আর যে এসব করবে তার জন্য রয়েছে ভয়ংকর শাস্তির ওয়াদা। ইরশাদ হয়েছে: {আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে না এবং যারা আল্লাহ যে নাফসকে হত্যা করা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না। আর যারা ব্যভিচার করে না। আর যে তা করবে সে আযাবপ্রাপ্ত হবে। কিয়ামতের দিন তার আযাব বর্ধিত করা হবে এবং সেখানে সে অপমানিত অবস্থায় স্থায়ী হবে। { সূরা আল ফুরকান: ৬৮-৬৯} ইসলামি শরিয়া ব্যভিচারের ইহকালীন শাস্তিও নির্ধারণ করেছে। ইরশাদ হয়েছে: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের প্রত্যককে একশটি করে বেত্রাঘাত কর। আর যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাক তবে আল্লাহর দীনের ব্যাপারে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে পেয়ে না বসে। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।[ সূরা আন-নূর: ২] হাদিসে এসেছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমরা আমার কাছ থেকে নাও, তোমরা আমার কাছ থেকে নাও। আল্লাহ তাদের ব্যাপারে পথের দিশা দিয়েছেন। অবিবাহিত পুরুষ- নারী ব্যভিচার করলে একশত বেত্রাঘাত ও একবছরের জন্য দেশান্তরিত করণ। আর বিবাহিত নারী-পুরুষ ব্যভিচার করলে একশত বেত্রাঘাত ও পাথর নিক্ষেপ।) [মুসলিম: আলহুদুদ/৩১৯৯] আল্লাহ তাআলা মুমিনদের উপর ব্যভিচারকারী নারী পুরুষকে বিবাহ করা হারাম করে দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে: {ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণী অথবা মুশরিক নারীকে ছাড়া বিয়ে করবে না এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক ছাড়া বিয়ে করবে না। আর মুমিনদের উপর এটা হারাম করা হয়েছে।} সূরা আন-নূর: ৩} যদি ব্যভিচারকারী সত্যিকার অর্থে দৃঢ়চিত্তে তাওবা করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তার তাওবা কবুল করেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন। ব্যভিচারকারীর পরকালীন শাস্তির ওয়াদার কথা উল্লেখের পর আল্লাহ তাআলা বলেন: (তবে যে তাওবা করে ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর যে তাওবা করে এবং সৎকাজ করে তবে নিশ্চয় সে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। যদি সত্যিকার তাওবা অর্জিত হয় তবে এই পাপ থেকে সরে আসার পর তাদের সাথে বিবাহ করা বৈধ রয়েছে।